চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলবে মনোরেল ও মেট্টোরেল। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা। এ জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। চট্টগ্রাম মহানগরকে এক সুতোয় গাঁথতে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। রবিবার (৭ জুন) ডিটিসিএর একটি প্রতিনিধিদল নগরীর কালুরঘাট, আমান বাজার ও অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।
মশিউর রহমান জানান, ট্রাফিক পরিস্থিতি ও যাত্রীদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে কোন রুটে কী ধরনের গণপরিবহন সবচেয়ে কার্যকর হবে। ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া’ প্রকল্পের অধীনে এই মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
নগরীর অক্সিজেন মোড়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাত্রীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। চাহিদা বেশি থাকলে মেট্রোরেল, মাঝারি হলে লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) এবং কম হলে মনোরেল চালুর পরিকল্পনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন রকমের চিত্র দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া একটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতেই ডিটিসিএর প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছে। যাচাই শেষে তারা তাদের মতামত জানাবে।
ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে দু-একটি রুটে অবশ্যই মনোরেল হবে। তবে কোন রুটে মনোরেল আর কোন রুটে মেট্রোরেল হবে, তা সম্পূর্ণ চাহিদা বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে এই বিশ্লেষণ ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে।
তিনি জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান ও এ সংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, যানজট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি চট্টগ্রামের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণ যেন অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সূত্রমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর দেশের অন্যতম যানজটের নগরী। নগরীর কালুরঘাট-বিমান বন্দর সড়ক, অক্সিজেন-নিউমার্কেট সড়ক, নিউমার্কেট বহদ্দার সড়ক, বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সড়ক, জিইসির মোড়-একে খান-সিটি গেইট সড়ক, ডিটি রোড, অলঙ্কার মোড়-বন্দর সড়ক, পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট রোড, সদরঘাট-বারেকবিল্ডিং রোডসহ বহু সড়ক অত্যন্ত ব্যস্ততম।
যেখানে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। এসব সড়কে বিকেল ৩টা হলে আর গাড়ি মেলে না। মিললেও গুণতে হয় সকালের চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া। এক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা। তখন ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা গুণে গন্তব্যে যেতে হয়।
এমনকি বাস মিনিবাস, টেম্পুসহ সব ধরণের গাড়িতে ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা গুণতে হয় নগরবাসীকে। এরপরও গাড়ি মেলাতে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয় নগরীর পেশাজীবী মানুষগুলোকে। এ সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকেও।
চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, এটা সত্য যে, চট্টগ্রাম মহানগর এখন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। নগরীতে ধারণক্ষমতার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করে। এ কারণে নগরীর সবকটি সড়কে প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ট্রাফিক পুলিশ ও নগরবাসীকে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।