চট্টগ্রামে চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেছেন, আর্থিক সংকটের কারণে কেউ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন— কিংবা পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য না হন, সেজন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সেমিনার কক্ষে শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আগেও অসচ্ছল মানুষের মাঝে এ ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি এক থেকে দুই মাস অন্তর এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সামর্থ্যের মধ্যে থেকে অসহায় ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কেউ যেন আর্থিক সংকটে সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রশাসক জানান, আর্থিক সংকটের কারণে কেউ যেন নিজেকে ছোট মনে না করেন। প্রয়োজনের সময় জেলা পরিষদের কাছে আসবেন আগ্রহীরা। সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে। এ ধরনের সহায়তার বাইরেও সমাজের আরও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ কিংবা উৎসব— সবসময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণে কাজ করাকে জেলা পরিষদ দায়িত্ব ও অঙ্গীকার হিসেবে নিয়েছে।অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম বলেন, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও কোনো ক্ষেত্রে সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ও সরকার মানুষের পাশে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে। সরকারের অংশ হিসেবে জেলা পরিষদও জনকল্যাণে ভূমিকা রাখছে।জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহেদুল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহায়তা গ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের মধ্যে তেলের জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে একজন ক্যাপ্টেনের মাসিক বেতন পৌঁছেছে ১ লাখ মার্কিন ডলারে। প্রতিবার হরমুজ পাড়ি দিতে ‘ঝুঁকি বোনাস’ হিসেবে ক্যাপ্টেনের অ্যাকাউন্টে যোগ হচ্ছে আরও ৫০ হাজার ডলার।অর্থাৎ, এক মাসে যদি একজন ক্যাপ্টেন একবারও ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেন, তার মোট আয় দাঁড়াচ্ছে দেড় লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা! (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে) মাসিক এই বেতন-ভাতা মেরিটাইম সেক্টরের নজিরবিহীন নতুন এক রেকর্ড।স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ পাড়ি দেওয়া অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনের মূল বেতন ছিল মাসে ১৫ হাজার ডলার, বাংলাদেশি টাকায় ১৮ লাখ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আয় হঠাৎ অকল্পনীয়ভাবে বেড়ে গেছে প্রায় ১০ গুণ। শুধু ক্যাপ্টেনই নন, জাহাজের সাধারণ নাবিক, যাদের স্বাভাবিক বেতন মাসে দেড় হাজার ডলার, তারাও হরমুজ-ওমান উপসাগর এলাকায় প্রবেশ করলে পাচ্ছেন ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি।হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশেষ করে জ্বালানি পণ্য বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ পরিবহন হয় ১৯১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রণালি দিয়ে। পাড়ি দিতে সময় লাগে ছয় ঘণ্টা।এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত বেশি বেতন কেন, কীভাবে দিচ্ছে জাহাজ মালিক ও পরিচালনাকারীরা। এর মূল কারণ বিশ্ব জুড়ে তেলের চড়া দাম। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের সংকটে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদার গ্রাফ এখন শীর্ষে।নাবিকদের এই আকাশচুম্বী বেতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভাতার বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পণ্যের দামের ওপর গিয়ে পড়ছে। যার খেসারত গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাধারণ নাগরিকদের। জাহাজ মালিক ও পরিচালনাকারীরা এই বিপুল খরচ তুলে নিচ্ছেন ‘স্পট ফ্রেইট রেট’ বা জাহাজ ভাড়ার হার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে।হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে অস্বাভাবিক বাড়তি আয়ের সুযোগ নিচ্ছেন ফিলিপাইন, ভারত ও চীনের নাবিকরা। এ তালিকায় বাংলাদেশি কোনো নাবিকের নাম পাওয়া যায়নি।বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, কোনো নাবিক যদি স্বেচ্ছায় ঝুঁকি জেনেও হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে চান তাহলে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এই মরণফাঁদ পাড়ি দিতে নাবিককে বাধ্য করা হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনা করে দেখা দরকার।হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে অস্বাভাবিক বাড়তি আয়ের সুযোগ নিচ্ছেন ফিলিপাইন, ভারত ও চীনের নাবিকরা। এ তালিকায় বাংলাদেশি কোনো নাবিকের নাম পাওয়া যায়নি।মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নেমেছে ধস। এই রুটে জাহাজ চলাচল অনেকটা বিপজ্জনক ও মরণফাঁদ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরানের ত্রিমুখী হামলা শুরু হলে তেহরান এ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয়। অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজে হামলাও চালায়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে বসায় নৌ-অবরোধ। এই পাল্টাপাল্টির মধ্যে গত সপ্তাহে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা পৌঁছেছে সর্বোচ্চে পর্যায়ে।ওয়াইন্ড ওয়ার্ডের তথ্যে গত ১০ দিনে উপসাগরে হয়েছে ১৬টি হামলা। এই ঝুঁকি নিয়েই জাহাজ চালাতে বিশ্বের প্রভাবশালী তেল বিক্রয়, সরবরাহকারী দেশেগুলো যেকোনো মূল্যে সীমিত পরিসরে হলেও জাহাজ চলাচল সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনার সুযোগে প্রচুর জাহাজ হরমুজ পাড়ি দিয়েছে ঝুঁকি নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ক্যাপ্টেনদের রেকর্ড বেতন ও ঝুঁকি ভাতা দিল গ্রিস, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শিপিং লাইনগুলো।হরমুজ পাড়ি দিতে এই বিপুল বেতন-বোনাস কীভাবে দিচ্ছে শিপিং লাইনগুলো। জবাব মিলল ক্যাপ্টেন হাবিবুর রহমানের বক্তব্যে। তিনি বলেন, হরমুজ পাড়ির দৈনিক জাহাজ ভাড়া এখন প্রায় ১৩ লাখ ডলার, যা গত বছর ছিল ২০-৫০ হাজার ডলার। বিশাল ট্যাংকারে ৫০ হাজার ডলারের বোনাস ব্যারেলপ্রতি যোগ করে মাত্র কয়েক সেন্ট। ফলে বোনাস-ভাতা রেকর্ড ছুঁয়ে গেলেও শিপিং লাইন বা সরবরাহকারীর আর্থিক ক্ষতি নেই।জীবন বাঁচানোর ঝুঁকি জেনেও এই বিশাল আর্থিক সুবিধা নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো নাবিকদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং এককালীন বড় উপার্জনের সুযোগ। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নীতি অনুযায়ী নাবিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে বা ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে যেতে বাধ্য করা যায় না। এরপরও বিশাল অঙ্কের বেতন-বোনাসের হাতছানি এড়াতে পারছেন না অনেকেই। যদিও বাস্তব চিত্র হচ্ছে, জাহাজ পরিচালনাকারীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে চাকরি হারানোর অদৃশ্য চাপও থেকে যায়।রয়টার্স ও অন্যান্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য বলছে, বর্ধিত বোনাস পেলেও ক্যাপ্টেনদের পার হতে হচ্ছে চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। হরমুজে হামলার হাত থেকে বাঁচতে বর্তমানে বেশিরভাগ ট্যাঙ্কার রাতের আঁধারে নিজেদের ‘জিপিএস এআইএস’ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে ওমান উপকূল ঘেঁষে পথ অতিক্রম করছে।
১১ দিন আগে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। বিরোধী দলের নেতা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, ছাত্রনেতা ও সমাজকর্মীদের আটক করা হলেও আন্দোলন থামেনি।বরং নেতাদের আটকের পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি।শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং ছাত্রনেতা নেহা বোরা। আরও কয়েকজন বিরোধী নেতা ও কর্মীকে আটকের খবরও প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়। শনিবার দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই অনেককে আটক করা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে; কোনো কোনো প্রতিবেদনে তা প্রায় দুই হাজারে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তারা কর্মসূচিতে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন এলাকায় জমায়েতের আগেই পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং আটক করে।সিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতাদের আটক করা হলেও আন্দোলন বন্ধ হবে না। নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তন।আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নির্বাচনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাদের রয়েছে। এ দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জমায়েত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা অনেককে দিল্লির প্রবেশপথ, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। কয়েকজন আইনজীবীকেও আটকের পর হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন। তাদের দাবি, ধরপাকড় চালিয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি আয়োজনের কারণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
১২ দিন আগে
ভারতের নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশের তিনটি প্রগতিশীল ছাত্র ও যুব সংগঠন।শনিবার (১০ অক্টোবর) দিনগত রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠন তিনটির উদ্যোগে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ সংহতি জানানো হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রদক্ষিণ করে আবার পুরানা পল্টনে এসে শেষ হয়।মিছিলে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।সমাবেশে বক্তারা বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন থামানো যাবে না। ভারতের ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করবে। দেশটির আন্দোলনরত ছাত্র-যুব ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করে বিজয় অর্জন করা সম্ভব।সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, নরেন্দ্র মোদির সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় যন্তর মন্তরের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। ভারতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ছাত্র-যুব নেতৃত্বকে আটকের মধ্য দিয়ে দেশটির গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ছাত্র-যুবরা আন্দোলন আরও বেগবান করে বিজয় ছিনিয়ে আনবেন। তাদের আন্দোলনের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি রয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি রিনা মুর্মু বলেন, ভারতে নরেন্দ্র মোদি যেভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করছেন, একই কায়দায় বাংলাদেশেও বন্দর রক্ষা ও দেশবিরোধী বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দমন করছে তারেক রহমানের সরকার। দেশের মৌলবাদীরা ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করছে। এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলছে। ভারতের জনগণও তাদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি রয়েছে।বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুমের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।সভাপতির বক্তব্যে খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, ভারতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং ছাত্র-যুব নেতৃত্বকে আটক করে নরেন্দ্র মোদি মনে করছেন, তিনি জয়ী হবেন। কিন্তু এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ-যুবরা ভারতকে শোষণ-বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবেন। বাংলাদেশের প্রগতিশীল জনগণ ভারতের আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছে।
১২ দিন আগে
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। হাসান রিপন লেখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজপথের পরীক্ষিত সহযোদ্ধা- মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দেশবাসী ও দলীয় সকল নেতাকর্মীর নিকট তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা করছি।’ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোটন চিকিৎসার জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ৪ অক্টোবর রাতে রোটনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রোটন। সেসময় মাহমুদ হাসান রিপন সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন।
১২ দিন আগে
অতিরিক্ত কমিশন, নানা রকম চার্জ, অর্ডার বাতিলের দায়, অপেক্ষার মাশুল, একতরফা জরিমানা ও রিফান্ডের নামে টাকা কেটে নেওয়াসহ হয়রানি বন্ধ না করলে অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডার অর্ডার স্থগিত বা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। তাদের দাবি, কমিশনসহ সব ধরনের চার্জ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। সেই সাথে আরও পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন তারা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর শুলকবহর এলাকায় বারকোড রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন রোস্তারাঁ মালিকেরা। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ ও সাধারণ স¤পাদক মঞ্জুরুল হক। এসময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন রেস্তোরাঁর মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডা এক সময় ৮ শতাংশ কমিশন চুক্তিতে তাদের ব্যবসা শুরু করেছিল। কিন্তু পরে তা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। কমিশনের বাইরেও অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, অপেক্ষার মাশুল, কমিশনের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়া হয়। যা সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশে পৌছায়। এছাড়া বিক্রির টাকা পেতেও ১৩ দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এতে একদিকে বাড়ছে ব্যবসার খরচ, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে মুনাফা। এছাড়া ফুডপান্ডার পাঠানো হিসাব এতটাই জটিল যে কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা বুঝতে হিমশিম খেতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হিসাবের খাত ও কর্তনের কারণ স¤পর্কে ¯পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। এতে নিজেদের বিক্রি, কমিশন ও প্রকৃত আয় যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে।রেস্তোরাঁ মালিকেরা বলেন, তারা প্রযুক্তির বিরোধিতা করছেন না। বরং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও পার¯পরিক সহযোগিতা চান। কিন্তু ফুডপান্ডার বর্তমান নীতিতে রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর একের পর এক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ওপরও।এমন পরিস্থিতিতে ফুডপান্ডার একতরফা ও অস্বচ্ছ ব্যবসায়িক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা। তাদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার প্রযুক্তিগত সমস্যা কিংবা খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাপনায় জটিলতার কারণে অর্ডার বাতিল হলেও এর আর্থিক দায় নিতে হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের। একটি অর্ডার পাওয়ার পর খাবার তৈরিতে কাঁচামাল, শ্রম ও সময় ব্যয় হয়। কিন্তু খাবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর অর্ডার বাতিল হলে সেই খাবার অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা সব সময় সম্ভব হয় না। এতে খাবারের পুরো খরচই লোকসানে পরিণত হতে পারে।তাদের অভিযোগ, সরবরাহকর্মী বা রাইডার দেরিতে খাবার সংগ্রহ করলে গ্রাহক অর্ডার বাতিল করেন। অথচ এ ধরনের পরিস্থিতিতেও রেস্তোরাঁকে জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। যে বিলম্বের জন্য রেস্তোরাঁ দায়ী নয়, তার খেসারতও কেন রেস্তোরাঁ মালিকদের দিতে হবে।গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না শুনেই পাওনা টাকা থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।দেশীয় খাবার সরবরাহকারী প্লাটফর্ম ফুডির উদাহরণ টেনে রেস্তোরাঁ মালিকেরা বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশনে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে ফুডপান্ডার ক্ষেত্রে কমিশনের বাইরে এত ধরনের চার্জ কেন থাকবে? তাদের দাবি, সব চার্জ কমিশনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশন নির্ধারণ করতে হবে।রেস্তোরাঁ মালিকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-কমিশনের বাইরে সব ধরনের অতিরিক্ত চার্জ বাতিল, সহজ ও স্বচ্ছ খাতওয়ারি হিসাব দেওয়া, রেস্তোরাঁর দোষ ছাড়া অর্ডার বাতিল হলে খাবারের স¤পূর্ণ খরচ বহন, রাইডারের বিলম্বের কারণে জরিমানা বন্ধ, অভিযোগ যাচাই ও রেস্তোরাঁর বক্তব্য না শুনে অর্থ কর্তন বন্ধ এবং সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে বিক্রির টাকা পরিশোধ।রেস্তোরাঁ মালিকেরা জানান, ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো মেনে না নিলে চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁ মালিকেরা সম্মিলিতভাবে এ প্লাটফর্মে অর্ডার গ্রহণ স্থগিত বা স¤পূর্ণ বন্ধ করার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। যা ঢাকাসহ দেশের সবকটি নগরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ফুডপান্ডার পাশাপাশি অনলাইন অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকরাও প্রভাবিত হতে পারেন। তবে এ সমস্যা নিরসনে চট্টগ্রাম রেন্তোরাঁ মালিক সমিতি নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফরম খোলারও ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে অনলাইন খাবার সরবরাহ খাতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা। এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে বহুজাতিক অনলাইন প্লাটফর্মের সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বৈষম্যের শিকার না হন।
১২ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর থানাগুলোতে ঘন ঘন সি বদলের ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে অন্তত ২০ দফায় অসংখ্য ওসি রদবদলের আদেশ হয়েছে।বারবার ওসি পরিবর্তনের ঘটনায় মাঠপর্যায়ের পুলিশি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এ নিয়ে থানায় থানায় বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। পলিটিক্যাল স্ক্যামে ওসি বদলির এসব ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির একটি থানার ওসি বলেন, আমরা এখন থানায় পোস্টিংয়ের অর্ডার পেলে দুশ্চিন্তায় থাকি। আদৌ থানায় যোগ দিতে পারব কি না। কখন আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কখন হঠাৎ বদলি হয়ে যাই।ওসি জানান, গত ছয় মাসে সিএমপির পাঁচজন ওসিকে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছিল মাত্র দুই দিন। আরেকজন কোনোমতে মাসখানেক। এটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার চিত্র। নগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত এ থানা এলাকা।শুধু খুলশী নয়; এ অস্বাভাবিক চিত্র সিএমপির প্রায় প্রতিটি থানার। কেউ দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে বদলি। কেউ কেউ টিকেছেন কয়েক সপ্তাহ। এমনও ঘটনা ঘটেছে, নিয়োগ দেওয়া ওসি চেয়ারে বসার আগেই করা হয়েছে প্রত্যাহার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির চরম অস্থিরতার কথা প্রকাশ পেলো পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এ কে এম শহিদুর রহমানের মুখেও। তিনি বলেন, একজন ওসি পোস্টিং পেয়ে থানায় বসে প্রস্তুতি সেরে কাজ শুরু করতেও তো মাসখানেক লাগে। ছয় মাসে এক থানায় পাঁচবার ওসি বদল করা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়; অস্থিরতার লক্ষণ।এ ধরনের বদলির কারণ উল্লেখ করে সুনির্দিষ্টভাবে জনগণকে অবহিত করা উচিত। যদি রাজনৈতিক কারণে হয়, তাহলে সেটি দুঃখজনক। আর ভুল লোককে পদায়নের কারণে যদি বারবার বদল করতে হয়, তাহলে সেটা ইউনিট প্রধানের ব্যর্থতা।তবে এটিকে রুটিন কাজ বললেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। তিনি বলেন, ‘এটি রুটিন কাজ। ওসি হিসেবে বদলির পর পারফরম্যান্স কেমন, চালাতে পারছে কি না— সেটি বিবেচনা করেই বদলি করা হয়। কেউ যদি চালাতে না পারে, তাকে দীর্ঘসময় না রেখে দ্রুততম সময়ে বদলি করে দেওয়া হয়। যে পারবে না তাকে রেখে দিয়ে লাভ কী!’ওসি বদলের কাহিনী চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ শাখা (সিটি এসবি) থেকে খুলশী থানায় ওসি হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম যোগ দিয়েছিলেন গত ২৩ আগস্ট। হত্যা মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়, অর্থাৎ নগর ভবনে অভিযান চালায় খুলশী থানা-পুলিশ।এ নিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উষ্মা প্রকাশ করেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বুধবার রাতে ওসি রহিমকে বদলির আদেশ দেন সিএমপি কমিশনার। যদিও রহিম বলছিলেন, অভিযানের সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। সর্বসাকল্যে ওসি রহিমের মেয়াদ ছিল ১ মাস ১০ দিন।আব্দুর রহিমের আগের ওসি মোজাম্মেল হক। তিনি যোগ দিয়েছিলেন ১৫ জুন। ২ মাস ৮ দিনের মাথায় তাকে পাঁচলাইশ থানায় বদলি করে দেওয়া হয়। ১৩ জুন বাকলিয়া থানা থেকে বদলি হয়ে মোহাম্মদ সোলাইমান যোগ দিয়েছিলেন খুলশী থানায়। মাত্র দুই দিনের মাথায় ১৫ জুন তাকে বদলি করা হয় সিটি এসবিতে।সোলাইমানের আগে খুলশীর ওসি ছিলেন আরিফুর রহমান। তিনি ২৫ মার্চ যোগ দিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতার ছেলে ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার অভিযোগে ১৩ জুন তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়।সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর জাহিদুল ইসলামকে খুলশী থানার ওসি করা হয়েছিল। তিনি মোটামুটি সাড়ে ৪ মাস দায়িত্ব পালন করে ২৫ মার্চ পাঁচলাইশ থানায় বদলি হন।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুই দফায় প্রথম ওসি বদলি করা হয়। যদিও সেটি করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর। প্রথম দফায় সিএমপির ১৬ থানার মধ্যে ১৩ ওসিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে থানায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই আমলের আরও তিন থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।এরপর গত দুই বছরে সবচেয়ে খুলশী থানায় আটবার ওসি বদল হয়েছে। চকবাজার, কর্ণফুলী ও চান্দগাঁও থানায় পাঁচবার করে ওসি বদল হয়েছে। কোতোয়ালি, বাকলিয়া, সদরঘাট, ডবলমুরিং, আকবর শাহ ও পাঁচলাইশ থানায় চারবার করে ওসি পদে রদবদল করা হয়েছে। পাহাড়তলী, বায়েজিদ বোস্তামী, হালিশহর, বন্দর ও পতেঙ্গা থানায় তিনবার ওসি বদল হয়েছে। ইপিজেড থানায় অবশ্য মাত্র দুবার ওসি বদল হয়েছে।এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ১৬ থানার ওসি পদে একযোগে রদবদল হয়। সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের আদেশে এটি স্বাভাবিক রদবদল ছিল। এ ছাড়া বাকি সব রদবদলের ঘটনার মধ্যে কোনো না কোনো ‘কিন্তু’ আছে। এই কিন্তুর ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না।তবে ধারণা করা যায়— মেয়র, স্থানীয় এমপি, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের পছন্দ-অপছন্দের ঠেলাঠেলিতে এসব রদবদল। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনাগ্রহী এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার আক্ষেপ, ‘সবাই বলে এই চেয়ারে বসে অনেক এনজয় করা যায়। কিন্তু আমি কোনো এনজয় করতে পারছি না।ওসি বদলি নিয়ে গত ছয় মাসে খুলশীর পর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে সদরঘাট ও কর্ণফুলী থানায়। গত ৫ জুলাই সদরঘাট থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফকে যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় বদলি করা হয়। অন্য জেলার একজন প্রতিমন্ত্রীর আধাসরকারি পত্রের (ডিও) ভিত্তিতে তাকে বদলি করার এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল।১৮ জুন সিটি এসবির পরিদর্শক কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে কর্ণফুলী থানার ওসি পদে বদলির আদেশ দিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার। আদেশ প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির একটি মিছিলে বাধা দেওয়ার ঘটনার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে দেন দলটির নেতাকর্মীরা। যদিও সেই আমলে ‘কোণঠাসা’ হয়ে থাকা পুলিশ পরিদর্শকদের মধ্যে একজন ছিলেন মাসুদ। বিএনপির আপত্তির মুখে তিনি ওসির চেয়ারে বসার আগেই তাকে প্রত্যাহার করে সিটি এসবিতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন সিএমপি কমিশনার।অস্বস্তিতে সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারাবারবার ওসি বদলি নিয়ে অস্বস্তি আছেন সিএমপির শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উপকমিশনার বললেন, প্রশাসনিক প্রয়োজন, কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে ওসি বদলি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।কিন্তু পলিটিক্যাল স্ক্যামে বারবার ওসি বদল করা হলে পুলিশের স্বাভাবিক কাজে প্রভাব পড়ে। একজন ওসি তার এলাকার অপরাধ ও অপরাধীদের নিয়ে কাজ শুরুর আগেই যদি তাকে সরে যেতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন।’ সেই সুযোগে নগরজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক দাপট। বাড়ছে হামলা-মামলাসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডও।
১৩ দিন আগে
বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন কোম্পানি ফার্স্টকমকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশনাটি এই প্রশ্নকে জোরালো করেছে।অভিযোগ উঠেছে, এর মাধ্যমে অতীতে নানা অনিয়মে অভিযুক্ত এই কোম্পানিটিকে চলমান বাজার শৃঙ্খলা, বিধিবদ্ধ নজরদারি ও আর্থিক দায়ের কাঠামো পাশ কাটিয়ে পৃথকভাবে বিশেষ সুবিধায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার একতরফা সুযোগ দেওয়া হয়েছে।গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির মহাপরিচালক শফিউল আজম পারভেজ স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কল লেনদেনের ব্যবসায় জড়িত আইজিডব্লুউ অপারেটররা কমন ইন্টারন্যাশনাল পয়েন্ট (সিআইপি) পৃথকভাবে ইন্টার অপারেটর এক্সচেঞ্জ (আইওএক্স) সুইচ স্থাপন করে কার্যক্রম চালাতে পারবে। এতদিন আইজিডব্লুউ অপারেটররা সম্মিলিতভাবে সিআইপি-যুক্ত হয়ে সেবা দিয়ে আসছিল।ফলে অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিরূপণ সহজ ছিল। এছাড়া এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত ছিল সংশ্লিষ্ট অপারেটরের আগাম ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান। এর উদ্দেশ্য ছিল-ভবিষ্যতে কোনো অপারেটরের অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক দায় তৈরি হলে সরকার যেন তার পাওনা বুঝে নিতে পারে।কিন্তু বিতর্কিত কোম্পানি ফার্স্টকম কোনো ধরনের ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়াই আইজিডব্লুউ অপারেটরদের কমন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে। অন্যান্য অপারেটরের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারণ অপারেটররা ফার্স্টকমের কাছে তাদের বকেয়া পাওনা প্রায় আড়াই কোটি টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধের দাবি জানাচ্ছিলেন।একই সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া কোম্পানিটিকে অপারেটরদের সম্মিলিত কমন পয়েন্টে যুক্ত করারও বিরোধিতা করেন তারা। তাদের আশঙ্কা ছিল, ফার্স্টকম পুনরায় কমন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার পর অতীতের মতো নতুন করে আর্থিক দায় তৈরি হলে তা আদায় করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি এর ফলে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতেই বিশৃঙ্খলা ফিরে আসতে পারে।আইজিডব্লুউ অপারেটরদের পাওনা পরিশোধ এবং অগ্রিম ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান-এই দুই শর্ত পূরণ না করায় ফার্স্টকম যখন অপারেটরদের কমন পয়েন্টে যুক্ত হতে কার্যত ব্যর্থ হয়, ঠিক তখনই আসে ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের বিটিআরসির নতুন নির্দেশনা।অভিযোগ আছে, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বকেয়া পরিশোধ না করা এবং বেশকিছু গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে কোম্পানিটির বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি।পরে ২০২৫ সালের ২৫ মে বিটিআরসি জারি করা আরেক নির্দেশনায় বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়-‘৩১ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন টপোলজিতে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।’ অর্থাৎ বকেয়া পরিশোধকে নতুন টপোলজিতে অংশগ্রহণের সঙ্গে সরাসরি শর্ত হিসাবে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এর কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি পালটাতে শুরু হয়।২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর বিটিআরসির পক্ষ থেকে এমন এক সিদ্ধান্ত আসে, যা তার আগের নির্দেশনার সম্পূর্ণ বিপরীত। আইজিডব্লুউ অপারেটর ও বিটিআরসির নিজের পাওনা পুরোপুরি বুঝে না পাওয়া সত্ত্বেও ফার্স্টকমের ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ সেদিন তুলে নেওয়া হয়।গুরুতর অনিয়মে অভিযুক্ত একটি কোম্পানির ক্ষেত্রে বকেয়া নিষ্পত্তির আগেই এ ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করাকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা গেছে, ১৫ মার্চ ২০২৬ বিটিআরসি প্রকাশিত মিটিং মিনিটসেও ফার্স্টকমের বকেয়া ইস্যুতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। মিটিং মিনিটসে ফার্স্টকম, আইজিডব্লুউ অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কথা উল্লেখ করা হলেও আসলে সেটি ছিল একটি জালিয়াতির ঘটনা।সংশ্লিষ্ট অপারেটররা সে সময় দাবি করেন, তাদের সঙ্গে এ ধরনের কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং তারা বিটিআরসির বিরুদ্ধে মিটিং মিনিটস জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। মিটিং মিনিটস নিয়ে যখন চরম বিতর্ক চলছিল, তার একদিন পর অর্থাৎ ১৬ মার্চ ২০২৬, ফার্স্টকমকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দেয় বিটিআরসি।তথ্য-উপাত্ত মতে, ফার্স্টকম কোম্পানিতে বিতর্কিত গ্রুপ এবং ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত এস আলমের বেনামে ৭৭ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে। বাকি শেয়ারের মালিকানা সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর এবং তার পরিবারের। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর স্পেশাল জজ আদালত এস আলম এবং তার পরিবারসংশ্লিষ্ট ৪২টি কোম্পানির অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দেন।সেই ৪২টি কোম্পানির মধ্যে ৫ নম্বরে আছে জেনেসিস টেক্সটাইল এবং ৩৯ নম্বরে আছে লায়ন সিকিউরিটিজ কোম্পানি লিমিটেড। এই দুটি কোম্পানি ফার্স্টকম কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ারের মালিক। আদালতের ওই জব্দের আদেশ দেওয়ার পরও কীভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম করার সুযোগ পায় তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী বলেছেন, বিটিআরসি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির জন্য কাজ করে না এবং কোনো কোম্পানিকে সুবিধা দিতে কোনো নির্দেশনা জারি করেনি। প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিটিআরসি আইজিডব্লুউগুলোর ব্যাপারে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা দিয়েছে।
১৩ দিন আগে
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি–চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’র (কেএনএফ) পোশাক তৈরিতে ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদের কয়েকটি পোশাক কারখানায় সংগঠনটির ইউনিফর্ম তৈরি কাজ চলছিল। অনুসন্ধান শেষে সিআইডি কেএনএফ’র প্রধান নাথানা লনচেও (৪৯) ওরফে নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করছে।নাথান বম ছাড়াও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮), পোশাক কারখানার মালিক নিয়াজ হায়দার (৩৯), মো. গোলাম আজম (৪৭), সাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), মো. মতিউর রহমান (৪৩) ও মো. তৌহিদুল ইসলাম (৩৮)।সিআইডির সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে বুধবার নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সিআইডি মামলাটি করে।সিআইডি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ মে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার পোশাক কারখানা ও একটি গুদামে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ২০ হাজার ৩০০ সেট কেএনএফের ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। এ ঘটনার পর আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি।সিআইডি আরও জানিয়েছে, কেএনএফের ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্ম তৈরির ফেব্রিক ও সেলাইয়ের কাজ বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। মূলত পোশাক কারখানার মালিকরা বিপুল অর্থের লোভে এসব পোশাক তৈরি করেন।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, তদন্তে আরও কোনো ব্যক্তি বা কারখানা মালিকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
১৩ দিন আগে
চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মানবাধিকার কর্মী নাভেনথাম নাভি পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়। নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন।এ ছাড়া তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তার সেই অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন কানাডীয় সাহিত্যিক অ্যান কারসন। ৭৬ বছর বয়সী অ্যান কারসন কবিতা ও গদ্যের মিশ্রণে তৈরি তার ব্যতিক্রমী লেখার জন্য পরিচিত। সমকালীন গল্পের সঙ্গে প্রাচীন পুরাণের সমন্বয়ও তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত পদ্য উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। এতে গ্রিক পুরাণের বীর হেরাক্লিসকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে এবং সমকামী এক তরুণের বেড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।এর আগের দিন বুধবার রসায়নে নোবেল পান ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি কাগান ও জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। অ্যাসিমেট্রিক জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার প্রভাব এবং অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণা করা হয়। অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল বা মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেনকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।ফ্রান্সিস হ্যালজেন প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন যে অ্যান্টার্কটিকার বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো নামে পরিচিত কণাগুলোর গতিপথ শনাক্ত করা সম্ভব।সোমবার চিকিৎসায় নোবেল প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর চিকিৎসায় যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল।‘আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস’ আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এই পুরস্কার পান তারা।নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা পাবেন একটি মেডেল, একটি সনদপত্র এবং মোট ১২ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। যা প্রায় ৯ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সমান। যেসব বিভাগে একাধিক নোবেলজয়ী থাকবেন, তাদের মধ্যে এই অর্থ ভাগ হয়ে যাবে।বিজ্ঞান, শান্তি ও সাহিত্যে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯০১ সাল থেকে সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এনসিটি ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধু নিকায়ন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। কিন্তু জমি, মূল অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে; অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দর বা টার্মিনালের মালিকানা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে না। ১৫ বছর শেষে কনসেশনের আওতায় থাকা ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরার কথা।
১৩ দিন আগে