পরকীয়ার অপবাদে সালিশি বৈঠকে অপমানের শিকার হয়ে আত্নহননের চেষ্টা করা গৃহবধু অঞ্জনা দাসের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ঈশান প্রতিবেদক১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ PMপরকীয়ার অপবাদে সালিশি বৈঠকে অপমানের শিকার হয়ে আত্নহননের চেষ্টা করা গৃহবধু অঞ্জনা দাসের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাজমুস সালেহীন। তিনি জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর অঞ্জনা দাসকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু ঘটে। নি:সন্তান অঞ্জনা দাস রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব চন্দ্রঘোনা হিন্দুপাড়ার কাঞ্চন দাস ওরফে লাল সাধুর স্ত্রী।
ঘটনা নিশ্চিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিনও। তিনি বলেন, এই ঘটনায় মৃত্যু প্ররোচনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে অঞ্জনা দাসের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন তার স্বামী কাঞ্চন দাস। অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় একটি সালিশি বৈঠক বসে। বৈঠকে স্থানীয় সালিশানদের সামনে এক যুবকের সাথে অঞ্জনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়। যার ফলে তাকে চরম সামাজিক ও মানসিক অপমানের মুখে পড়তে হয়।
জনসমক্ষে এই অপমান সহ্য করতে না পেরে গত ৪ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করেন অঞ্জনা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গৃহবধূর এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।







