টিকটকার স্নেহা মনির বিরুদ্ধে চোর হিসেবে অভিযোগ তুলেছেন নারী উদ্যোক্তা মেহেরীন শেখ অয়নিকা। গত ৮ মে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র অনুষ্ঠিত ‘বাইফ’ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এই চুরির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু স্নেহা বলছেন ভিন্ন কথা।
গত ১৩ মে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন অয়নিকা। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার পাশে বসা চোর। বাইফাতে আমি ইনভাইটেড ছিলাম আর আমার পাশেই বসা ছিল সে—একটা চোর।
অয়নিকা বলেন, আমার পাশের চেয়ারে খুব সুন্দর করে সেজেগুজে বসেছিল মেয়েটা। নাম স্নেহা মনি, বয়স ১৯। আমি তখনও জানতাম না আমার সর্বনাশ পাশেই বসে আছে। অনুষ্ঠান চলছিল, আমার ফ্রেন্ডকে কিছু খাবার আনতে বলবো বলে ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকা বের করেছিলাম। ঠিক তখনই তার চোখ পড়লো আমার ব্যাগের ভেতরে। সে দেখলো টাকা আছে, আমার ১ ভরি স্বর্ণের দুল আছে। আর ঠিক তখনই সে টার্গেট করলো—আমার ব্যাগটা নিয়ে যাবে।’
স্নেহা মনির ওপর অভিযোগের আঙুল তুলে অয়নিকা আরও জানান, আমি ভাবতেও পারিনি যে আমার পাশে, এত সুন্দর করে সাজগোজ করা হাসিমুখের একটা মেয়ে আসলে একটা পেশাদার চোর। মেয়েটা বাইফাতে ইনভাইটেড ছিল না। অন্যের কার্ড ব্যবহার করে অবৈধভাবে ঢুকেছে। চুরি করাই তার উদ্দেশ্য ছিল।
অয়নিকা আরও বলেন, আমার পাশে বসা আরও দুইজন আমাকে বলেছে উনারাও ব্যাগটি নিতে দেখেছেন। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে সে আমার ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম—এই মেয়ে আগেও নেগেটিভ কাজের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এটা তার প্রথম চুরি না।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অয়নিকা। শুক্রবার (১৫ মে) অয়নিকা বলেন, শেরেবাংলা নগর থানায় স্নেহা মনির বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। আসামীর নাম, ফোন নম্বর, ভিডিও—সব দিয়েছি। আমি মেহেরীন শেখ অয়নিকা, আমি বিচার চাই। আমি আমার হারিয়ে যাওয়া সব কিছু ফেরত চাই।
এদিকে নারী উদ্যোক্তা মেহেরীন শেখ অয়নিকার আনা চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন টিকটকার স্নেহা মনি। চুরির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে স্নেহা বলেন,‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের রুমে বসে পুলিশ কর্মকর্তারা সিসিটিভি ক্যামেরার সব ফুটেজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। কোনো উপযুক্ত প্রমাণ না পেয়ে তাঁরা চলে গেছেন।
মূলত কোনো ভিত্তি নেই দেখেই পুলিশ প্রথমে ওনার মামলা নেয়নি। এখন তিনি যদি আবারও মামলা দিতে চান এবং পুলিশ যদি তা নেয়, সেটা ওনার ব্যাপার। এখানে আমার কিছু বলার নেই। কারণ, সিসিটিভি ফুটেজ আর সাক্ষী-প্রমাণই সব কথা বলবে। উনি আমাকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে আপস করার অফারও দিয়েছিলেন।
অয়নিকার অভিযোগের বিষয়ে স্নেহা মনি বলেন, ‘তিনি বলছেন আমার নামে অভিযোগ দিয়েছেন। যদি পুলিশ তাঁকে বলেই থাকে যে ওটা ওনার ব্যাগ, তাহলে আমি বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছি কেন? তিনি পুলিশের কথা বলছেন অথচ এখনও মামলা করতে পারছেন না কেন? তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কেন বেড়াচ্ছেন? আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না। ফেসবুক তো আর ওনাকে ব্যাগ এনে দেবে না। ব্যাগ খুঁজতে হলে পুলিশই পারবে। তিনি পুলিশের কাছে না গিয়ে ফেসবুকে ভিউ কামানোর জন্য স্ট্যাটাস দিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন?’
ব্যাগের বিষয়ে স্নেহা বলেন,‘পুলিশ সিসিটিভিতে দেখেছে যে আমি যে ব্যাগটি নিয়ে বের হয়েছি সেটি আমারই ব্যাগ। আমার ব্যাগ নিয়েই আমি ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম। এমনকি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরাও আমাকে সামনাসামনি দেখেছেন। ছবি তোলার সময় আমার হাতে দুটি ব্যাগ ছিল এবং তাঁরা নিজেরাও বিভিন্ন জায়গায় কমেন্ট করে বিষয়টি জানিয়েছেন। সাংবাদিক যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সবাই দেখেছেন আমি যাওয়ার সময়ও দুটি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেছি, আসার সময়ও দুটি ছিল।’
এদিকে অয়নিকা অভিযোগ করেছেন স্নেহা মনি যদি চুরি নাই করবে তাহলে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার দুই-তিন ঘণ্টা আগে কেন বের হয়ে গেল? অভিযোগকারীর প্রশ্নের জবাবে এ টিকটকার বলেন, ‘আমার বাসা নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার দিকে। অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে রাত ১১টা বেজে যায়। একটা মেয়ে মানুষ একা এত রাতে কীভাবে বাড়ি ফিরবে? অনুষ্ঠানে আমি একা একাই গিয়েছিলাম এবং একাই ফিরেছি। মূলত সময়মতো বাড়ি পৌঁছানোর জন্যই আমি কিছুটা জলদি বের হয়ে এসেছিলাম।’