বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মাকালুর চুড়ায় পৌঁছেছেন চট্টগ্রামের পর্বতারোহী ও চিকিৎসক বাবর আলী। শনিবার (২ মে) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) তিনি এই পর্বতের চুড়ায় উঠেন। এটা প্রথম কোন বাংলাদেশীর এই পর্বত জয়।
মাউন্ট মাকালুর উচ্চতা ৮,৪৮৫ মিটার (২৭,৮৩৮ ফুট), যা নেপালের মহালাঙ্গুর হিমাল অঞ্চলে অবস্থিত। তার সঙ্গে অভিযানে ছিলেন শেরপা গাইড আং কামি শেরপা। এ অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন ও রহমান্স গ্রোসারিজ।
এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার শীর্ষক এই অভিযানের আয়োজন করে পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স। ক্লাবটির সভাপতি ফরহান জামান নেপালের আউটফিটার মাকালু অ্যাডভেঞ্চার-এর স্বত্বাধিকারী মোহন লামসালের বরাতে বাবরের মাকালু শৃঙ্গে আরোহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযান-ব্যবস্থাপক ফরহান জামান জানিয়েছেন, বাবর আলী শনিবার ক্যাম্প-২-এ এবং আগামীকাল রবিবার ৩ মে বেসক্যাম্পে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স সূত্র জানায়, গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান বা মহা-কালো নামে পরিচিত মাকালু জয়ের উদ্দেশ্যে বাবর গত ৭ এপৃল দেশ ছাড়েন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ৯ এপৃল তিনি উড়ে যান টুমলিংটার, সেখান থেকে গাড়িতে পৌঁছান সেদুয়া গ্রামে। এরপর পায়ে হেঁটে ১৮ এপৃল পৌঁছান উচ্চতর বেসক্যাম্পে।
৩০ এপৃল আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবার অভিযানে নামেন বাবর। সেদিনই পৌঁছে যান ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২-এ, পরদিন ওঠেন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ। সেখান থেকে রাতেই শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহন।
উচ্চতার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে ২১ এপৃল ক্যাম্প-১ এবং পরদিন ক্যাম্প-২-এ অবস্থান করেন তিনি। প্রায় ৭ হাজার মিটার উচ্চতা ¯পর্শ করে পরে নেমে আসেন বেসক্যাম্পে। দ্বিতীয় দফায় ২৭ এপৃল আবারো উঠে ক্যাম্প-২-এ একদিন কাটিয়ে পরদিন নেমে আসেন। এরপর শুরু হয় অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষা।
৩০ এপৃল আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবার অভিযানে নামেন বাবর। সেদিনই পৌঁছে যান ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২-এ, পরদিন ওঠেন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ। সেখান থেকে রাতেই শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহন। টানা ১ হাজার ১০০ মিটারেরও বেশি বিপজ্জনক খাড়া পথ পেরিয়ে ভোরে পৌঁছান শিখরে।
সূত্র মতে,বিশ্বে ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতকে সবচেয়ে কঠিন আরোহন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অভিযানে মাকালু জয় করে তিনি এখন পর্যন্ত পাঁচটি আট-হাজারি শৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করলেন। সেই সাথে মাকালু জয়ের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে নিজের নাম লেখালেন বাবর।
এর আগে ২০১৭ সালে বাবর ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। ২০২২ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পর্বতশৃঙ্গ অ্যামা দাবলাম জয় করেন। ২০২৪ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে জয় করেন।
২০২৫ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপুর্ণা-১ আরোহণ করেন এবং একই বছরে অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু পর্বত জয় করেন। মাকালু জয়কে তার পর্বতারোহণ অভিযাত্রার ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাবর আলী পেশায় একজন চিকিৎসক এবং পর্বতারোহণ সংগঠন ভার্টিকাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নজুমিয়া হাট এলাকায়।