মদ-গাজা, গাম, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ-আইস, হেরোইনসহ কি নেই। সব ধরণের মাদকে ভাসছে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা। যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। শুধু ভাসছে না, এসব মাদক বিক্রয় ও সেবনে পুরো অস্থির চট্টগ্রাম।মাদকসেবি কারা ও মিলছে কোথায়প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, বয়স ও শ্রেণি ভেদে এসব মাদক সেবন হয়। যেমন মদ-গাজা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল সেবন করে নিম্ন শ্রেণি থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণি পর্যন্ত। যা মিলছে নগরীর আিলগলি থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবে। সিএমপির তথ্যমতে, নগরীর অন্তত ৫০০ স্পট ও জেলার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিলছে এসব মাদক।আর বিদেশি মদ উচ্চবিত্তদের সুপেয় খাবার, যা মিলে নগর ও জেলার বিভিন্ন অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্লাবে। একই সাখে হেরোইন ও ক্রিস্টাল মেথ-আইসও সেবন করছে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাই। একমাত্র ইয়াবা সেবনে নেই কোন শ্রেণি বিভেদ। সহজলভ্য হওয়ায় ইয়াবা এখন সব শ্রেণি পেশার মাদক সেবির খাবার।অনেক নিংস্ব বেকার যুবকেরাও এই ইয়াবা সেবন করে থাকে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে-শিশু-কিশোররা পর্যন্ত বাদ নেই মাদক সেবন থেকে। বিশেষ করে নগরীর মোড়ে মোড়ে পথশিশুরা এক ধরণের গাম সেবন করে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।আর এই মাদক কিনতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। ডাকাতির মতো ঘটনার সাথেও জড়িত হচ্ছে তরুণ-কিশোর ও পথশিশুরা। এমনকি নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। যার প্রভাবে জর্জরিত শহর-বন্দর ও সমাজ।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদক বিক্রয় ও সেবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেশি জড়িত। এরপর রয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী। বাকি অন্যান্য সম্প্রদায়ও মাদক বিক্রয় ও সেবনে জড়িত। অথচ ইসলামসহ সব ধর্মে মাদক সেবন হারাম বা নিষিদ্ধ।রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অন্যতম পেশা মাদক ব্যবসাপ্রত্যন্ত এলাকার সচেতন মানুষের মতে, সমাজের সবচেয়ে হতদরিদ্র বেকার যুবকরা এক সময় দেশে তৈরি চোলাই মদ ও গাজা বিক্রি করত। যা তাদের আয়ের একমাত্র পথ ছিল। অত্যন্ত গোপনে আড়ালে আবডালে থেকে মদ ও গাজা বিক্রি করতেন তারা।আর যারা সেবন করতেন তারাও এক সময় আয়ের পথ হিসেবে মদ-গাজা বিক্রি শুরু করে। আর এ কাজ করতে গিয়ে নিকটস্থ থানা পুলিশকে মাসোহারা হিসেবে নিদিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতেন। দিতে হতো মদ গাজাও। যা সেবন করতেন থানা পুলিশও। এই সহজ পথ সুগম হওয়ায় মাদকের বিস্তৃতি ঘটে নগর-বন্দর থেকে অলিগলি পর্যন্ত।যা নজরে পড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। যারা মাদক বিক্রেতাদের সাথে মিশে শুরু করে মাদক ব্যবসা। যার প্রসার এখন দিগন্ত ছোঁয়া। ব্যবসার সুবিধার্থে তারা ব্যবহার করে দলীয় পদ-পদবি। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে এখন চলছে মাদক ব্যবসা। এর মধ্যে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে ইয়াবা। ক্রিস্টাল মেথ-আইস ও হেরোইন বেচাকেনা।রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে দিনের বেলায় টেন্ডারবাজী, দখলবাজী করলেও গোপনে করছে মাদক ব্যবসা। দলীয় নেতাকর্মীদের সিংহভাগের পেশা এখন মাদক ব্যবসা। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার প্রবণতা থেকে দেশের অসৎ লোকেরা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসায়ী, বাহক ও বিক্রির নেটওয়ার্কে প্রতি বছরই লোকসংখ্যা বাড়ছে। এদের সাথে দারুণ সখ্যতা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে। এতে অসহায় সাধারণ মানুষ।সিএমপির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত ৯০ জনের একটি তালিকা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরেকটি তালিকা করা হয়েছে পৃষ্ঠপোষকদের। এই তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী রাজনীতিক ও থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নামও আছে।এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের নাম রয়েছে এ তালিকায়। রয়েছে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন, শৈবাল দাস সুমন, এসরারুল হক এসরার, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুর নামও।যারা নিজেদের অনুগত ও বিশ্বস্ত শত শত নেতাকর্মী দিয়ে মাদক বিক্রয় ও পাচার করেন। একই পথে রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শত শত প্রভাবশালী নেতাকর্মী। নতুন তালিকা না হওয়ায় যাদের নাম এখনো পর্যন্ত তাািলকাভুক্ত হয়নি। ফলে তাদের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পলাতক ও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কারও সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম মাদক পরিবহনের প্রধান রুট। এর সঙ্গে কিছু গডফাদার যুক্ত। গডফাদার ও ব্যবসায়ীদের তালিকা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাদক পাচার ও সেবনে খোদ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীদেশে মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অর্ধিদপ্তর, পুলিশ-আনসার-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকলেও মূলত সংস্থাগুলোর সদস্যরাও লিপ্ত মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয়ে। যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।মাদকের সাথে জড়িত থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। যার মধ্যে পুলিশ ও আনসার সদস্য বেশি। যারা চাকরি হাারিয়েও ছাড়েনি মাদক বিক্রয়, পাচার ও সেবন। বরং উল্টো আঁকড়ে ধরেছেন মাদক ব্যবসাকে। ফলে থেমে নেই মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়।গত ২০ আগস্ট এক অভিযানে মিলেছে এর প্রমাণ। সেদিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবার আসর থেকে চাকুরিচ্যুত পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমান আদালত। আদালত তাদের তিন মাসের কারাদন্ড দেন।নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। ইয়াবা পাচারের দায়ে দু‘বছর আগে চাকরি হারান তিনি। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ডিবি-দক্ষিণ), অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শেখ শরীফুল ইসলামের তথ্য মতে, গত কয়েকবছরে মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসার সদস্যের চাকরি গেছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারও হয়েছেন।তবে অভিযোগ উঠেছে, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়-তখন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ঠিক তেমনি পরিস্থিতি এখন চট্টগ্রামের। নগরবাসীর ভাষ্য, সন্ধ্যা থেকে রাত দূরের কথা, দিনে-দুপুরেও অনেক পুলিশ সদস্য মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করতে দেখা যায়। যাদের অধিকাংশই হয় ইয়াবা আসক্ত, নয় তো মদ্যপ। যারা মানুষের সাথে অসংলগ্ন আচরণ করে। মানুষ যখন বুঝতে পারে তিনি নেশাগ্রস্ত তখন সেদিকে কান না দিয়ে চলে যায় নিজ গন্তব্যে। এ অবস্থায় নগরীর সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছে।চট্টগ্রামে মাদকের স্পটনগরবাসীর মতে, চট্টগ্রাম শহরের সবগুলো প্রধান সড়ক ও উড়াল সড়কের নিচে বসে দিনে দুপুরে মদ-গাজা সেবন করে কিশোর থেকে উঠতি যুবকরা, এমনকি মধ্যবয়সী লোকজনও। রেল স্টেশন, বাস স্টেশনগুলো যেন মদ গাজা সেবনের নিরাপদ জায়গা।এছাড়া বরিশাল কলোনি, চট্টগ্রাম কদমতলী বাস টার্মিনাল, মতিঝরনা, এনায়েতবাজার গোয়ালপাড়া, বায়েজিদ শের শাহ কলোনি, অক্সিজেন মোড়, ফিরোজ শাহ কলোনি, অলংকার মোড়, পাহাড়তলী, টাইগারপাস, বাটালি হিল চান্দগাঁও মাদকের সবচেয়ে বড় বাজার।সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, ৪-৫ বছর বয়সী পথশিশুরা পর্যন্ত মদ গাজা ও গাম জাতীয় মাদক সেবন করে। তাদের এসব দেখে না কোনসময়। পুলিশ এদের পাশ দিয়ে হেটে যায়, আর গালি দিয়ে বলে খা, খানকির পোলারা, খেয়ে মর। অলি গলি পেরিয়ে এবার চোখ দেয়া যাক চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টের দিকে।নগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় অবস্থিত অভিজাত হোটেল রেডিসন ব্লু-বে, চট্টগ্রাম ক্লাব, জিইসির মোড়ে অবস্থিত পেনিনসুলা, আগ্রাবাদে অবস্থিত হোটেল আগ্রাবাদ, হোটেল সেন্টমার্টিন, পতেঙ্গা বোট ক্লাব, নন্দনকানন পুলিশ প্লাজাসহ থ্রি স্টার থেকে ফাইভ স্টার মানের সবগুলো হোটেলে দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য সেবনের নিরাপদ স্পট।এসব হোটেলের বারগুলো যেন একেকটা পাপপুরি। ইয়াবা থেকে নিয়ে সব ধরণের দেশি-বিদেশি মাদক মিলে এসব হোটেলে। দেশের শিল্পপতি ও রাজনীতিকরা এসব পাপপুরির খদ্দের। আর এসব হোটেলে মাদক বিক্রয় ও সেবনের লাইসেন্স দেয় মাদক নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর। ফলে এসব হোটেলের দিকে চোখ তুলে থাকায় না প্রশাসনের কেউ।মাদক ব্যবসায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, মাদক বেচাকেনায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ খাতে ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স ও জোত পারমিট দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেগুলো দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মাদক সরবরাহ করা হয়।এক্ষত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খাতগুলোর তালিকা প্রকাশ করলেও লাইসেন্স বা জোত পারমিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম গোপন রেখেছে। যার কারণে প্রতিষ্টানগুলোর নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর খাতগুলো হলো :১. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) ব্যবহারের পারমিট২. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স৩. প্রিকারসর কেমিক্যাল/ সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স আমদানী রপ্তানী লাইসেন্স৪. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণলাইসেন্স৫. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স মজুদ ও পাইকারী বিক্রয় লাইসেন্স৬. প্রিকারসর কেমিক্যাল খুচরা বিক্তির লাইসেন্স৭. প্রিকারসর কেমিক্যাল ব্যবহারের পারমিট৮. বিলাতীমদের বন্ধেত পণ্যাগার লাইসেন্স৯. বিলাতীমদের আমদানী/রপ্তানী লাইসেন্স১০. বিলাতীমদের ব্রান্ড রেজিস্ট্রেশন১১. বিলাতীমদ মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স১২, বিলাতীমদ মজুদ ও খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স (অফ শপ)১৩. হোটেল, বেস্তোরা, হোটেল কাম রেস্তোরা, বিনোদন কেন্দ্র, বিমান কন্দর, রিসোর্ট থিমপার্ক ইত্যাদি স্থানে বারও বিলাতী মদ খুচরা বিক্রম/পরিবেশন লাইসেন্সঃ১৪. বিলাতীমদের ক্লাব লাইসেন্স১৫. বিলাতীমদ ডিউটি ফি শপ১৬. বিলাতীমদের লেট ক্লোজিং লাইসেন্স (রাত ১০ টার পর সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা)১৭. দেশীমদ খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স১৮. ইথানল আমদানি লাইসেন্স১৯. ইবানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২০. ইথানল ব্যবহার২১. ইবানল খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২২. মিথানল আমদানি২৩. মিথানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২৪. মিথানল ব্যবহার২৫. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) আমদানি লাইসেন্স২৬. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) ব্যবহারের লাইসেন্স২৭. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২৮. বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট।এ্যাবসলিউট ২৯. এ্যালকোহল/ইখাইল এ্যালকোহল/স্ট্রং এ্যালকোহল (এইচ এস কোড-২২০৭) মজুদ ও ব্যবহারের পারমিট৩০. হোামিওপ্যাথিক ঔষধ প্রসম্মুতের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট/স্টং এ্যালকোহল ইবাইল এ্যালকোহল (ইবাইল)(এইচ এস কোড -২২০৭) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং ঔষধ (মাদার টিংচার) তৈরীর উপাদান হিসেবেব্যবহারের পারমিট।৩১. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কর্তৃক ঔষধ শক্তিকরণ (ডাইলুশন) এর জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট মজুম৩২. ডিফোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (মহানগর এলাকা)৩৩. ডিকোর ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (অন্যান্য এলাকা)৩৪. ডিনেচার্য ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (মহানগর এলবাম)৩৫. ডিকোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (অন্যান্য এলবাম)৩৬. ডিকোর্ড ¯িপরিট ব্যবহারের পারমিট৩৭. মাদকাসক্তির পরামর্শ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের লাইসেন্সদেশের ১০৫ পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে বিদেশি মাদকওদেশের সীমান্ত, বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকাগুলো দিয়ে দেদার ঢুকছে মাদক। এমনকি আকাশপথ ও কুরিয়ার সার্ভিস দিয়েও আসছে নিত্যনতুন মাদক। ১৮টি সীমান্ত জেলার ১০৫টি পয়েন্টকে মাদকের সেফ রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।তারা বলছে, এ পয়েন্টগুলো দিয়েই ২৭ ধরনের মাদক আসছে নানা কায়দায়। ফলে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি স্থানেই মাদকের বিস্তার ঘটেছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অ্যানুয়াল ড্রাগ রিপোর্ট বাংলাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি করিডর দিয়ে ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সেগুলো হলো ভারত সীমান্তের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেও উচ্চমূল্যের মাদক আসছে।জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট-এর একেবারে কেন্দ্রে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং অরক্ষিত সীমান্তের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।বাংলাদেশ পশ্চিম ও উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, উত্তরে আসাম, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয় এবং পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম দ্বারা বেষ্টিত। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের (বার্মা) সঙ্গে সীমানা রয়েছে। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি ভারত থেকে গাঁজা ও ফেনসিডিল এবং মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও আইস স্রোতের মতো দেশে প্রবেশ করছে। দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের ১৭ শতাংশ ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় আসছে। আর বাকি ৮৩ শতাংশ মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন ১৮টি জেলার ১০৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এগুলো হচ্ছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গী ও পলাশপুর; যশোর জেলার বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর, শার্শা এবং আশপাশের এলাকা; চুয়াডাঙ্গা জেলার কারপাশডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর; মেহেরপুর জেলার দারিয়াপুর ও বুড়িপটা; রাজশাহী জেলার মনিগ্রাম, চারঘাট, সারদা, ইউছুফপুর, কাজলা, বেলপুকুরিয়া, হরিপুর, গোদাগাড়ি, বাঘা ও রাজশাহী সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট; জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি (প্রধান প্রবেশপথ);দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কামালপুর, বিরল, আকাশকারপুর, খানপুর, দাইনুর, মালিগ্রাম ও বনতারা; সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিংগারবিল, পাহাড়পুর ও বিজয়নগর; কুমিল্লা জেলার জগন্নাথ দিঘি, চৌদ্দগ্রাম, গোলাপশাহ, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও বিবিরবাজার এবং ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম।দেশের উত্তরাঞ্চল সীমান্তের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, বাশজানি, বলারহাট, বলাবাড়ি, কুটি চন্দ্রকোনা, পাথরডুবি ও নাখারগঞ্জ; লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী; শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী; ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা।দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সীমান্তের কক্সবাজার জেলার জালিয়াপাড়া, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, সাবরাং, সাউথপাড়া, ধুমধুমিয়া, জদিপাড়া, সাউথ হ্নীলা, লেদাপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নোয়াপাড়া, হোয়াইক্যং, তুমরু উখিয়া, কাটাখালী, বালিখালী, ঘুমধুম ও কাটাপাহাড়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্ধারকৃত মাদক, আসামি ও মামলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল এবং চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ২৬ হাজার ৯০৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ হাজার ৭৮৯ কেজি হেরোইন, ২২৭ কেজি কোকেন, আফিম ৩৭৮ কেজি, ১১ লাখ ১৫ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫৩ বোতল ফেনসিডিল, অ্যা¤পুল ইনজেকটিং ড্রাগ ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮৬টি, ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৫২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৮টি মামলায় ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৫১ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশলধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ইয়াবা পাচারকারীরা অভিনব কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে আসছেন। পেটের ভেতর, পেঁয়াজ ও কুমড়ায়, মোটরসাইকেল ও গাড়ির জ্বালানির ট্যাংক, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে বিশেষ বাক্সে করে আসছে ইয়াবা।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মানজুরুল ইসলাম বলেন, নতুন নতুন কৌশলে নগরে মাদক ঢুকছে। সম্প্রতি নগরীর কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে দুজন ইয়াবা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পেটের ভেতর ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন তাঁরা। তাঁদের পেট থেকে ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবা বের করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশে সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিদিনই ইয়াবা পাচার হচ্ছে। আবার প্রতিদিনই ধরাও পড়ছে। কিন্তু পাচারের তুলনায় জব্দ হচ্ছে খুব কম।সচেতন মহলের প্রশ্ননগরীর পুলিশ যেখানে মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িত সেখানে মাদক সেবন, বিক্রয় ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন?। মাদকের সাখে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততার কারনে চট্টগ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খোদ মাদক ব্যবসায় জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলে মাদক ব্যবসা। এ অবস্থায় মাদক নিয়ন্ত্রণ হাস্যকর।তবে সিএমপির ভাষ্য, মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে গত কয়েক বছরে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসান সদস্যের চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক মাদকসেবি ও পাচারকারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।যাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দিয়ে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেছে। কারাগারে বন্দি আটকের ৭০ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। তবে কয়েকদিন থেকে কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে তারা আবার মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানান চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) জনাব মো. রইছ উদ্দিন।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যএ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মাদকসহ যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে। মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে চেক পোষ্ট বসিয়ে প্রায় সময় অভিযান চালানো হচ্ছে।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশের ভেতরে মাদক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগরীর রেল স্টেশন, বাস স্টেশনসহ উড়াল সড়কের নিচে এবং সড়কের মোড়ে মোড়েও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম বিপিএম বলেন, সীমান্তের কোন কোন পথে মাদক আসছে সেটা আমরা চিহ্নিত করেছি। মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেক সময় লোভ-লালসায় পড়ে এজেন্সির লোকজন মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। যেসব বাহিনীর সদস্যরা এসব কাজে জড়াচ্ছে, জানতে পারলে তাদের শাস্তিও হচ্ছে। মাদক প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে সবসময় সজাগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। চলতি বছরেই নগরীর বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতেও প্রেরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সরকারি বিধি মোতাবেক কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও জোত পারিিমট দিয়ে থাকে। চট্টগ্রামে এমন ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেখান থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব যোগ হয়। বৈধ এই জোত পারমিট ছাড়া অবৈধ যে কোন মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জ পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বলেন, মাদক সম্পৃক্ততায় প্রমাণিত আনসার সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে আনসার সদস্যরা এখন অনেক সুগঠিত। মাদক সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগ এখন অনেকাংশে কমে গেছে আনসার সদস্যদের।
১ মাস ১২ দিন আগে
‘চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, রোগীদের রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগের জটিলতা ও মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম পর্যন্ত তীব্র হর্নের শব্দ পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’
১ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রামের লালদীঘির শান্ত জলের মাঝখানে ভাসছে ছোট ছোট শত শত শোলা। মাচায় বসে থাকা শিকারির চোখ ওই শোলার ওপর। চোখের পাতা যেন পড়ছে না। হঠাৎ মৃদু কাঁপুনি, শোলা ডুবছে আর উঠছে। টুপ করে শোলাটা অতলে হারিয়ে যেতেই শিকারি দুই হাতে ওপরের দিকে দেন ছিপের টান। বড়শির কাটায় বিঁধল মাছে। অমনি সাবমেরিনের মতো জলের গভীরে মোচড় দিল এক অদৃশ্য শক্তি। রিলের সাঁইসাঁই শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা চুরমার করে মাচা থেকে চিৎকার উঠল, ধরেছে রে, ধরেছে! সুতো ছাড়, সুতো ছাড়! শুরু হলো মানুষ আর জলের মাছের লড়াই।চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘিতে এভাবে বড়শিতে মাছধরা প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছেন শত শত মাছ শিকারি। এরা আসলে জুঁয়াড়ি। বড়শি প্রতিযোগীতার নামে লাখ টাকা পুরস্কারের লোভে মাছ ধরার জুঁয়া খেলা এদের নেশা। যার ছোবল পড়েছে শতবর্ষের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন পুকুরটিতে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা কিংবা একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো সবকিছুর মুখরিত সাক্ষী এই প্রাঙ্গণ। শতবর্ষী জব্বারের বলীখেলারও সাক্ষী এই লালদীঘির ময়দান। সেই লালদীঘির বুক চিরেই শুক্রবার রাত দশটা থেকে শনিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত হয়ে গেল মাছধরার জুঁয়ার উৎসব।বড়শি প্রতিযোগীতার নামে মাছ ধরার এই জঁুয়া খেলার আয়োজক হায়দার আলী। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়ে দিঘিতে প্রায় বিভিন্ন সাইজের ৩০ মণ মাছ ছেড়েছিলেন মোহাম্মদ আলম গং। অন্য একটি জলাশয় থেকে এনে লালদীঘিতে ছাড়া হয়েছিল মাছগুলো। ওই মাছ এখন আরও বড় হয়েছে। সেই মাছগুলো শিকারেই চারপাশ ঘিরে তৈরি করা হয় ১৮টি মাচা। প্রতিটি মাচায় চারজন করে বসার সুযোগ, আর প্রতিটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা।শিকারিদের এই লড়াইয়ে বড়শির চেয়েও বড় ছিল টোপের রসায়ন। কাতলা মাছকে টানতে কেউ মেখেছেন সুগন্ধি লাড্ডু, রুই-মৃগেলের জন্য বানিয়েছেন সাদা রুটি আর পিঁপড়ার ডিমের চারা, আবার পাঙাশ শিকারে ছিল ভিন্ন উপাদান। সেই অপেক্ষার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। দিঘিতে সর্বনিম্ন এক-দেড় কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত মাছ ছিল। খালি চোখে যেটাকে ১২ কেজি মনে হয়েছিল, দাঁড়িপাল্লায় তুলে দেখা গেল ১৪ কেজির এক ব্ল্যাক কার্প! এছাড়া বড়শিতে উঠেছে ১১ কেজির বেশি ওজনের কাতলা, ৫ কেজির পাঙাশসহ ঝাঁকে ঝাঁকে রুই ও মৃগেল। অনেকের মাচায় জমা হয়েছে এক মণেরও বেশি মাছ।বকশির হাটের বাসিন্দা এবং দীর্ঘ ৩৫-৩৬ বছর ধরে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকা মোহাম্মদ টিপু জানান, তার মাছ শিকারের হাতেখড়ি হয়েছিল এই লালদীঘির পানিতেই। চুয়েটের কর্মকর্তা রিয়াদ কিংবা তরুণ উদ্যোক্তা আরাফাত হোসেনের মতো শিকারিরাও এসেছিলেন কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে।বড়শি প্রতিযোগীতার এই রোমাঞ্চ দেখতে দিঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত কৌতূহলী মানুষ। তাদের মতে, এই প্রতিযোগিতা কোন উৎসব নয়। এটি ছিল পুরুস্কারের লোভ। এই প্রতিযোগীতায় প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৭ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা।
১ মাস ১৭ দিন আগে
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার যে মূলমন্ত্র বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভীকতা এবং নিরপেক্ষতা- বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তা আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে।সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় প্রেসক্লাবের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা সাংবাদিকতার জগতের সেই ক্ষতটিকে আবারও উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে মনের গভীরে তীব্র দহন তৈরি করছিল। শরীয়তপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির প্রতিনিধি এ বি এম ইসরাফিল, নিউজ ২৪-এর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর সাথে ঘটে যাওয়া হামলা, ধারাবাহিক হেনস্তা ও আইনি হয়রানি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আসলে বর্তমান বাংলাদেশের সাংবাদিকতার এক নির্মম ও বাস্তব প্রতিচ্ছবি।সাংবাদিক নেতারা যখন সরাসরি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী হন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবধারিতভাবেই সংকট তৈরি হয়। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং স্বয়ং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে মাঠপর্যায়ের সৎ সাংবাদিকরা আজ সম্পূর্ণ অসহায় ও অভিভাবকহীন।এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থক সরকারি কর্মকর্তাদের রোষানল, প্রকাশ্য হুমকি কিংবা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শরীয়তপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে যদি পুরো দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে ত্রিমুখী চাপ রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসনের কারণেই সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।রক্ষক যখন ভক্ষকশরীয়তপুরের ঘটনার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ক্ষমতার তিনটি স্তর- স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক নেতৃত্ব একযোগে সাধারণ ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে কোনো রকম পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ও তিনটি দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রেসক্লাবের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এই জায়গাটির উন্নয়ন করেছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ পার্ক সম্প্রসারণের নামে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের দিনের আলো এড়িয়ে রাতের আঁধারে উচ্ছেদ অভিযান প্রথম ধাক্কাটি দেয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিস্ময় ও ক্ষোভের জায়গাটি তৈরি হয় তখন, যখন জেলা প্রশাসক দাবি করেন যে এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে খোদ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতে।এখানেই মফস্বল সাংবাদিকতার আসল ট্র্যাজেডি স্পষ্ট । প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন একই সাথে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। একজন সাংবাদিক নেতার যখন এমন দ্বৈত ও সাংঘর্ষিক পরিচয় থাকে, তখন তিনি আর সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার অভিভাবক থাকেন না, বরং নিজের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে, প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদকে মেনে নেওয়া হয়, যা সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।মব-জাস্টিস ও প্রকাশ্য ফ্যাসিবাদের দোসর ট্যাগিংএমন প্রশাসনিক অবিচারের বিরুদ্ধে যখন সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হন এবং প্রতিবাদী পোস্ট দেন, তখন ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা জুড়ে দিয়ে তার ওপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন। প্রেসক্লাব চত্বরেই সেই ক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ ও তার দলবল ইসরাফিলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়। শুধু তাই নয়, নিজেদের প্রাণের প্রেসক্লাব উচ্ছেদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে হামলার শিকার হন সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা।এই হামলার মূল অভিযুক্ত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা যখন প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’ তখন তা আর কোনো সাধারণ অপরাধীর হুমকি থাকে না। এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে রাজনৈতিক ক্ষমতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন এ দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ দেখছে, সেখানে মাঠপর্যায়ের এই ক্যাডারভিত্তিক মব-জাস্টিস এবং গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ফ্যাসিবাদের পতনের পর যদি আরেকটি উগ্র ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থান ঘটে, তাহলে রাষ্ট্রের মৌলিক গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই দাঁড়াতে পারবে না। বিগত আওয়ামী আমলেও দেখা গেছে, প্রত্যন্ত উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতা-নেত্রীরা সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলীয় পদধারী এই নেতারা ভিন্নমতের সাংবাদিকদের যেমন কোণঠাসা করেছেন, একই সঙ্গে যখন ভিন্নমতের সাংবাদিকরা হামলা কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন তখন তারা প্রতিবাদ না জানিয়ে বরং জুলুমে সঙ্গত দিয়ে গেছেন।হামলা, পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানিশরীয়তপুরে সাংবাদিকতায় নির্যাতনের দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হয় কাউন্টার ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি মামলা বা পাল্টা মামলার সংস্কৃতি। সাংবাদিক ইসরাফিল ও আক্রান্ত অন্য সাংবাদিকরা যখন থানায় অভিযোগ করতে যান, তখন পুলিশ তা নিতে গড়িমসি করে। অপরদিকে সাংবাদিকদের দমনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটভিত্তিক কৌশল। যখনই কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অপরাধ বা দাপটের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আইনি পদক্ষেপ নেন, তখনই তাদের কণ্ঠ রোধ করতে পাল্টা চাঁদাবাজি বা মানহানির মামলা দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য একটাই, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সাংবাদিকদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আপস বা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি‘সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা হয়, তখন সাধারণ সাংবাদিকরা মার খায়।’ এমন একটি বাক্য বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূঢ় সত্য। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে সাংবাদিক নেতৃত্ব থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে অবস্থান করে। তখন পেশাগত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপকে নির্দেশ করে। স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রধান শর্ত হলো যেকোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ বা দলীয় এজেন্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কিন্তু বাংলাদেশে জেলা-উপজেলার প্রেসক্লাবগুলো বহুদিন ধরেই সাংবাদিকতার চেয়ে স্থানীয় রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রেসক্লাবের শীর্ষ পদগুলো পেতে এখন মেধা বা পেশাদারির চেয়ে রাজনৈতিক লবিং ও দলীয় পরিচয় বরাবরই বেশি গুরুত্ব পায়।যখন একজন সাংবাদিক নেতা একই সাথে বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হন, তখন তার প্রথম আনুগত্য থাকে দলের প্রতি, সাংবাদিকতার প্রতি নয়। ফলে দলের কোনো নেতা-কর্মী যখন সাধারণ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, তখন এই নেতারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। তারা প্রশাসন বা পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে উল্টো আক্রান্ত সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। শরীয়তপুরেও আমরা দেখছি, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিনও আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেননি। এই দলীয় লেজুড়বৃত্তি মফস্বলের সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকদের ভেতর থেকে একা ও নিঃসঙ্গ করে দিচ্ছে।প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের উদাসীনতা এবং কর্পোরেট অবহেলাকোনো সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ হওয়ার পরে অনেক ক্ষেত্রেই বলতে শোনা যায় আমরা আমাদের কর্মস্থল থেকে কোনো সাপোর্ট পাচ্ছি না। এটি বাংলাদেশের মিডিয়া হাউসগুলোর এক অন্ধকার দিক। ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যেসব গণমাধ্যম মালিক ও নীতি-নির্ধারকরা বড় বড় বুলি আওড়ান, মফস্বলের প্রতিনিধিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান প্রায় শূন্য। মফস্বলের একজন সাংবাদিককে প্রতিদিন অত্যন্ত সীমিত বেতনে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনা বেতনে, কেবল লাইনেজ বা সংবাদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া অংকের বিনিময়ে কাজ করতে হয়। তারা যখন স্থানীয় ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ আমলা বা রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন, তখন মিডিয়া হাউসগুলো সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাঠক, টিআরপি বা ভিউ বাড়ায়। কিন্তু সেই প্রতিবেদনের কারণে যখন ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার স্থানীয়ভাবে অবরুদ্ধ ও আক্রান্ত হন, তখন কেন্দ্রীয় অফিস অনেক সময়ই দূরত্বের অজুহাতে বা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে নিজেদের হাত গুটিয়ে নেয়।শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিক তো আক্ষেপ করে বলেছেন, এই বিপদে নিজের প্রতিষ্ঠানকেই পাশে পাননি তিনি। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা মফস্বল সাংবাদিকদের মানসিকভাবে আরো বেশি পঙ্গু করে দেয়। যখন একজন সাংবাদিক দেখেন যে আক্রান্ত হওয়ার পর তার নিজের প্রতিষ্ঠান, তার নিজের প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় প্রশাসন কেউ তার পাশে নেই, তখন তার পক্ষে ক্ষমতার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ধরন একইশরীয়তপুরের এই ঘটনাটি যদি আমরা সমগ্র বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মানচিত্রে স্থাপন করি, তাহলে দেখব যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নির্যাতনের একটি সাধারণ প্যাটার্ন, ধরন বা ছক রয়েছে। এই ছকের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে প্রথমে তথ্য পাওয়ার অধিকারের টুঁটি চেপে ধরা। অর্থাৎ সরকারি বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়মের তথ্য চাইতে গেলে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা বর্তমানের সাইবার নিরাপত্তা আইন বা সরকারি গোপনীয়তা আইনের ভয় দেখানো হয়। নোটিশ ছাড়া প্রেসক্লাবের দেয়াল ভাঙা যেমন প্রশাসনিক স্বৈরাচার, ঠিক তেমনি সরকারি প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি ঢাকতে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়াও একই সংস্কৃতির অংশ।দ্বিতীয়ত, বিশেষ করে মফস্বলে পুলিশ প্রশাসন সাধারণত স্থানীয় ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের ইশারায় চলে। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দিলেও ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে অজুহাত দেখায়। অথচ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি মিথ্যা মামলা দিলে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তা গ্রহণ করে।প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এখন রাজনৈতিক দলের মতো প্রেসক্লাবগুলোও আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থী- এমন সব ধারায় বিভক্ত। এই বিভক্তির কারণে এক পক্ষের সাংবাদিক আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ খুশি হয় বা চুপ থাকে। সাংবাদিকদের এই নিজেদের ভেতরের ঐক্যহীনতাকেই পুঁজি করে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।সাংবাদিকতায় যে সংস্কার অপরিহার্যঅন্ধকূপ থেকে সাংবাদিকতাকে টেনে তুলতে হলে এবং সাংবাদিকদের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কিছু মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন বাধ্যতামূলক। যেমন প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকদের যেকোনো ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট ধারা যুক্ত করতে হবে যেকোনো ব্যক্তি যদি সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকেন বা কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী হন, তবে তিনি কোনোভাবেই সাংবাদিক সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচন বা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। সাংবাদিকতা এবং সক্রিয় দলীয় রাজনীতি কখনো একসাথে চলতে পারে না।ঢাকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে তাদের মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল গঠন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি পেশাগত কারণে আক্রান্ত বা মামলার শিকার হলে, কেন্দ্রীয় আইনি দল দিয়ে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যা সরাসরি জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা হয়রানিমূলক মামলা হলে এই কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধা দিতে যেসব হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা বা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়, সেগুলোর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল থাকা উচিত। তদন্ত ছাড়া কোনো সাংবাদিককে এসব মামলায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা যাবে না- এমন আইনি বিধিমালা তৈরি করতে হবে।শরীয়তপুরের মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ্, বিধান মজুমদার, এ বি এম ইসরাফিল কিংবা জাহিদ হাসান রনিরা যে লড়াইটা লড়ছেন, তা কেবল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই নয়, তা মূলত বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক শেষচেষ্টা। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং কর্মস্থলের সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে সাংবাদিকরা আজ যেভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন, তা একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বন্ধ না হলে এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের কর্মীদের পক্ষে ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে সর্বস্তরেই একদিন বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ডেস্কে বসে সাজানো সংবাদের চেয়ে মাঠের সত্য উন্মোচন করায় যে সাংবাদিকরা নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন, তাদের এই একাকীত্ব ও অসহায়ত্ব দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং স্বয়ং সাংবাদিক সমাজকেই নিতে হবে। ক্ষমতার কাছে সাংবাদিকদের এই অসহায় আত্মসমর্পণের সংস্কৃতি যদি আজ ভাঙা না যায়, তাহলে আগামী দিনে কোনো অন্যায়, অত্যাচার বা দুর্নীতির কথা আর কখনো মূলধারার গণমাধ্যমে উঠে আসবে না।লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক এদিন
১ মাস ১৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম শহরে খাওয়ার পানিতে রাজত্ব গেড়েছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। প্রতি ফোঁটায় শনাক্ত হয়েছে হাজার হাজার জীবাণু। ফিল্টার বা ফোঁটানোর পরও কমছে না ক্ষতিকর নানা জীবাণু। উল্টো বাড়ছে ভাসমান কণা। যা পান করে কোন না কোন জটিল রোগে ভুগছেন নগরীর বাসিন্দারা।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম মালয়েশিয়া পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উদ্বেগজনক এই তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (সিডিএ)। সংস্থাটির খসড়া মহাপরিকল্পনায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।সিডিএর খসড়া পরিকল্পনা ও গবেষণা প্রতিবেদনের মতে, চট্টগ্রাম শহরে ৭০ লাখ লোকের বাস। যাদের তৃষ্ণা মেটাতে ওয়াসা, নলকূপ ও বাণিজ্যিক জার থেকে খাবার পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই তিন উৎসের প্রতি ফোঁটা পানিতে ৫০০-৭০০ ব্যাকটেরিয়াসহ হাজার হাজার ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।যেখানে বলা হয়েছে জীবন বাঁচানোর জন্য এসব উৎসের ওপর ভরসা করলেও তা মোটেও নিরাপদ নয়। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, নগরীর বাসাবাড়িতে ২০-৩০ মিনিট ধরে ফোটানো বা ফিল্টারে শোধন করার পরও প্রতি ফোঁটা পানিতে থেকে যাচ্ছে ক্ষতিকর প্রায় ৫০০-৭০০ উপাদান। এমনকি শোধনের পর পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার পরিমাণ কমার বদলে উল্টো বেড়ে যাওয়ার প্রমাণও পেয়েছেন গবেষকরা।গত ২ আগস্ট প্রকাশিত সিডিএর খসড়ায় স্ট্রাকচার প্ল্যান অংশে সুপেয় পানির মান নিয়ে রাখা হয়েছে একটি বিশেষ অধ্যায়। সেখানে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী হেলিওন-এ প্রকাশিত একটি যৌথ গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের সব উৎসের পানিতেই অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত জীবাণুর উপস্থিতি।মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম মালয়েশিয়ার পাঁচ গবেষক। তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কোতোয়ালি, হালিশহর, বায়েজিদ, চান্দগাঁও, বন্দর ও সরাইপাড়া এলাকা থেকে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পানির ৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করেন ল্যাবরেটরিতে। পাশাপাশি মান নিয়ে মতামত জানতে নেওয়া হয় ১৪৯ বাসিন্দার মতামত।গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার রিসার্চের গবেষক ও চবি অধ্যাপক ড. শ্যামল কর্মকার বলেছেন, গবেষণায় পাওয়া ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিকের উপস্থিতি দেশেই পরীক্ষা করা সম্ভব। এর বাইরেও মিলেছে অসংখ্য অজানা অজৈব দূষক। যা হয়তো শনাক্তই করতে পারছি না।গবেষণা কার্যক্রমের বিবরণগবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয়টি শোধনাগার ও ৪৬টি নলকূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, সুপেয় বা পানের পানিতে ক্ষতিকর উপাদান বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শূন্য থাকতে হবে।কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে এলাকাভেদে প্রতি মিলিলিটারে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে ৯ হাজার ২৫০ থেকে ১৪ হাজার পর্যন্ত। বাসাবাড়িতে শোধন করার পরও থেকে যাচ্ছে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ১০ হাজার ৩০০ পর্যন্ত।একইভাবে নলকূপের পানিতে অপরিশোধিত অবস্থায় ৬৮০ থেকে ১৩ হাজার ৫০০ এবং শোধনের পর ৬৮০ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। জারের পানিতে অপরিশোধিত অবস্থায় ১৫০ থেকে ১ হাজার এবং শোধনের পর ১০০ থেকে ৬৫০টি ব্যাকটেরিয়া মিলেছে।গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মিলিলিটার পানিতে যে পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তা এক ফোঁটা পানির হিসাবে আনলে চিত্রটি আরও ভয়াবহ। সাধারণত এক মিলিলিটার পানিতে প্রায় ২০ ফোঁটা ধরা হয়। অর্থাৎ এক ফোঁটা পানির পরিমাণ প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৫ মিলিলিটার।এই হিসাবে চান্দগাঁও এলাকার ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১৪ হাজার ব্যাকটেরিয়া মিলেছে। অর্থাৎ এক ফোঁটায় থাকছে ৭০০। বন্দর এলাকার নলকূপের অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১৩ হাজার ৫০০ ক্ষতিকারক উপাদান। এক ফোঁটা পানিতেই থাকছে প্রায় ৬৭৫। শোধনের পরও সেই পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১০ হাজার ব্যাকটেরিয়া থেকে যাওয়ায় প্রতি ফোঁটায় দূষণের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০০টি। একইভাবে কোতোয়ালি এলাকার ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি ফোঁটায় মেলে প্রায় ৫০০টি ব্যাকটেরিয়া।শোধনের পর উল্টো বাড়ছে ভাসমান কণাপরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, খাবার পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার (এসএস বা টিএসএস) গ্রহণযোগ্য সীমা প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ১০ মিলিগ্রাম। কিন্তু ওয়াসা ও নলকূপের পানিতে তা ৪০ থেকে ১ হাজার ৮৮৮ মিলিগ্রাম। কোতোয়ালি এলাকার ওয়াসার পানি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে শোধন করার পর আরও বেড়ে গেছে ভাসমান কণার পরিমাণ।গবেষকদের ধারণা, বাসাবাড়ির ফিল্টারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে এই চিত্র। একই বিধিমালা অনুযায়ী, পানিতে দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের (টিডিএস) আদর্শ মান প্রতি লিটারে ১ হাজার মিলিগ্রাম। কিন্তু বন্দর ও হালিশহর এলাকার নলকূপের পানিতে তা বেশি পাওয়া গেছে।পানি পানে জটিল রোগে ভুগছেন নগরীর বাসিন্দারাগবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন উৎস্যের পানি পানে ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিসসহ নানা জটিল রোগে বুগছেন নগরের বাসিন্দারা। জরিপে অংশ নেওয়া ওয়াসার পানি ব্যবহারকারীদের ৭৬ শতাংশ মানুষের কাছ থেকে এ তথ্য মিরেছে।তাদের মতে, এই পানি পানের অনুপযোগী। তাদের মূল অভিযোগ দুর্গন্ধ (৫৬ শতাংশ) এবং ভাসমান কণার উপস্থিতি (১৭ শতাংশ)। অন্যদিকে নলকূপ ব্যবহারকারীদের ৫৮ শতাংশ পানিতে অস্বাভাবিক বাদামি রঙের কথা জানিয়েছেন।শোধন করে পান করার পরও ওয়াসার গ্রাহকদের ১১ শতাংশ এবং নলকূপের গ্রাহকদের ৯ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া উভয়ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশিই শিশু।যে কারণে দূষিত হচ্ছে পানিগবেষকরা বলছেন, কর্ণফুলী ও হালদা নদী থেকে পানি শোধনের পর সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কিন্তু পাইপলাইনের ফুটো এবং ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনার কারণে গ্রাহকপর্যায়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দূষিত হয়ে পড়ছে সেই পানি। অন্যদিকে অনিবন্ধিত কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জারের পানি প্রক্রিয়াজাত করায় সেখানেও থেকে যাচ্ছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে দূষণের দায় নিতে নারাজ চট্টগ্রাম ওয়াসা।সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেছেন, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারব, ওয়াসার পানিতে কোনো ব্যাকটেরিয়া নেই। প্রতি মাসে ২৪০টি স্পট থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যেখানে পাওয়া যায় না দূষণের অস্তিত্ব। মূলত গ্রাহকপর্যায়ে গিয়ে পানি দূষিত হচ্ছে।কারণ, সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর পরও পানির রিজার্ভার ও ট্যাংক পরিষ্কার রাখে না মানুষ। ঘরের পানির জগ যেমন পরিষ্কার রাখা হয়, তেমনি পানি জীবাণুমুক্ত রাখতে হলে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে রিজার্ভার ও ট্যাংক। এছাড়া অনেক সংস্থা উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে পাইপ ফাটিয়ে ফেলে। তখন ময়লা পানি ঢুকে দূষণ হতে পারে। তবে আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা মেরামত করে ফেলি।এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র বৈজ্ঞানিক ও টেকসই সমাধান হলো বাসাবাড়ির পাশের নালা থেকে শুরু করে ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠের পানির উৎসগুলোকে দূষণমুক্ত করা বলে মত দেন ওয়াসার এই প্রধান প্রকৌশলী। একি মত দিয়েছেন চট্টড়্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনও।
১ মাস ২১ দিন আগে
সাজানো-গোছানো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিপাটি পরিবেশ, ব্র্যান্ডও বেশ পরিচিত— যা দেখে পণ্যের মান নিয়ে আস্থা রাখেন ভোক্তারা। কিন্তু সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে ভোক্তাদের সাথে পুরোপুরি প্রতারণায় লিপ্ত সুপারশপ ‘উৎসব’। মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ-বিক্রি, নষ্ট মসলা ও চকোলেট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ, যথাযথ লেবেল ও আমদানিকারকের তথ্য ছাড়া খাদ্যপণ্য বিক্রির মতো একের পর এক অনিয়মের মধ্যে এবার নকশা বহির্ভূত নির্মাণ ও পর্যাপ্ত পার্কিং না রাখার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে গুণতে হয়েছে ৮ লাখ টাকা জরিমানা।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এক্সেস রোডে উৎসব সুপারমার্কেটের আউটলেটে অভিযান চালিয়ে নকশা বহির্ভূত স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এই জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ।সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অভিযানের সময় উৎসব সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেনি। পরিদর্শনে দেখা যায় বাণিজ্যিক ভবন হলেও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধা নেই।তানজিব হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষ রাস্তার জায়গায় গাড়ি পার্কিং করার কথা জানিয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিষ্ঠানটিকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।তিনি আরও জানান, ভবন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। তারা অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যত্যয়কৃত অংশ সংশোধন এবং পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, উৎসবে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোসসহ নষ্ট মরিচ, মসলা ও চকোলেট পাওয়া যায়। আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যে লেবেল ও আমদানিকারকের তথ্য না থাকা এবং শিশুখাদ্য ও খাদ্য সম্পূরক বিক্রিতে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা অনুমোদনের ঘাটতির বিষয়ও উঠে এসেছে।আরও গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে একই সরঞ্জাম দিয়ে গরু ও খাসির মাংস প্রক্রিয়াকরণ। এতে খাদ্যদূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। এছাড়া পণ্যের পুষ্টিতথ্য আড়াল করে নিজস্ব স্টিকার ব্যবহারের বিষয়টিও আদালতের কার্যক্রমে এসেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এসব ঘটনায় ৮ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি আদালত আমদানিকৃত ফলমূলের ক্রয়মূল্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় পুষ্টিতথ্য ও অনুমোদন ছাড়া আচার এবং ‘হোমমেড’ পণ্য বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট এসব বিষয়ে আদালতে তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ রয়েছে।এর আগে গত এপৃলে হালিশহরের বড়পোল এলাকায় উৎসবের একটি শাখায় বন্যপ্রাণী প্রদর্শনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে সাপ, বানর ও টিয়াসহ বিভিন্ন প্রাণী উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। তবে ওই ঘটনাটি খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে পৃথক।এদিকে বিনিয়োগের টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত চাওয়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একজন ব্যবসায়ীর অভিযোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি একটি অভিযোগ; আইনগতভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটিকে প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।উৎসব সুপারশপের একের পর এক অভিযোগ ও অভিযানের বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, বারবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের নিয়মনীতি মানছে না। উৎসবের ক্ষেত্রে যেন আইন না মানার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তারা নিয়মনীতি কোনোভাবেই তোয়াক্কা করছে না।তিনি বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থে উৎসবের কার্যক্রম সামনে থেকে ফলোআপ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শুধু সুপারশপের চাকচিক্য দেখে পণ্য না কিনে কেনার আগে পণ্যের মেয়াদ (ডেট), লেবেলসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য যাচাই করে পণ্য কেনার আহ্বান জানান তিনি। এতে ভোক্তারা যেমন প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন, তেমনি সবার জন্যই বিষয়টি আরও ভালো হবে।অভিযোগগুলোর বিষয়ে উৎসব সুপারমার্কেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোনে কল করলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
১ মাস ২৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের বর্তমান আয়তন ১৫৫.৪ বর্গকিলোমিটার। আর সেই আয়তন বিস্তৃত হয়ে আট গুণ বড় হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর। এর আওতায় আসছে নগরীর আশপাশের সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, রাউজান, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলা। এতে চট্টগ্রাম মহানগরের আয়তন বেড়ে দাড়াবে প্রায় ১,২৫৫ বর্গকিলোামিটারে।২৫ বছর মেয়াদি এমন একটি নতুন মাস্টার প্ল্যানের খসড়া চুড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এমন তথ্য জানিয়েছেন সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।তিনি জানান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ২০২৫-২০৫০ এর আওতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সঙ্গে আশপাশের পৌরসভা, উপজেলা মিলিয়ে আগামী ২০৫০ সালের জনসংখ্যা এবং চাহিদাকে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ নগরায়ণের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোকে সিডিএর আওতায় আনা হচ্ছে। ২৫ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রামকে অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের বদলে একটি আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা।তিনি বলেন, খসড়ার ওপর নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণের জন্য গত ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে। যেকোনো নাগরিক এই মাস্টার প্ল্যান স¤পর্কে নিজের মতামত জানাতে পারবেন। অনলাইনেও মতামত জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এই উদ্যোগের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে নগরীর বর্তমান অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ। পাহাড় কাটা, জলাশয় ও খাল ভরাট, আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক স্থাপনা, যানজট, জলাবদ্ধতা এবং আবাসন সংকট-এসব সমস্যা শুধু বর্তমান সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নগরীর চারপাশে দ্রুত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় ভবিষ্যৎ নগরায়ণকে এখনই পরিকল্পনার আওতায় আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।নতুন মহাপরিকল্পনায় তাই শুধু রাস্তা বা ভবন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, আবাসন, পানি নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবা-সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় ১৫টি খাতে ৭৭টি নীতিগত প্রস্তাব এবং ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কথা রয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ উন্নয়নে ২১টি প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে নগরকেন্দ্রিক চাপ কমানো। এজন্য ওয়ান সিটি, টু টাউনস ধারণা সামনে আনা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের উন্নয়নকে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি আনোয়ারার জন্য পৃথক ডিটেইলড অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকলিয়া ও আগ্রাবাদ এলাকাকেও পৃথক পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা রয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, নগরীর উপর সবকিছুর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এখন শহরের বাইরে সীতাকুন্ড কিংবা হাটহাজারীতে যদি পরিকল্পিতভাবে একটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বহু মানুষের নগরীতে আসার প্রয়োজন হবে না। আমরা নগরীর উপর চাপ কমানোর জন্য কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।খসড়া প্রস্তাবে যা আছেসিডিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক আয়তন ১৫৫.৪ বর্গকিলোমিটার। নতুন মাস্টার প্ল্যানের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের বাইরের বিস্তৃত এলাকাকে ভবিষ্যৎ নগরায়ণ কিংবা স্যাটেলাইট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিডিএ একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।পরিকল্পনায় নগরীর যানজট কমাতে নতুন বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন এলাকায় উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল নগরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে একাধিক কেন্দ্রভিত্তিক নগরায়ণ বা স্যাটেলাইট টাউন মডেল অনুসরণের কথা বলেন তিনি। এতে কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও নাগরিক সুবিধা নগরের কেন্দ্র থেকে বাইরের পরিকল্পিত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা। নতুন মাস্টার প্ল্যানে খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু খাল-নালা পরিষ্কার নয়, নগরায়ণের ধরন, জলাধার সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের বিষয়টিকেও পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার পুকুর ও অন্যান্য জলাধার চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।পাহাড় ও জলাধার রক্ষায়ও কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় নগরীর প্রায় ১৮ বর্গকিলোমিটার অক্ষত পাহাড় এবং পুরো পরিকল্পনা এলাকার প্রায় ১৮৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ঢাল ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেখানে নির্মাণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে। নগরীর পাহাড়গুলোকে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।চট্টগ্রামের জন্য নতুন এই পরিকল্পনায় ভূমিক¤প ঝুঁকি বিবেচনায় ভূমি ব্যবস্থাপনা সংযোজন করা হয়েছে। খসড়া মাস্টার প্ল্যানে চট্টগ্রামের প্রথম সয়েল লিকুইফ্যাকশন রিস্ক ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকা বাদ দিলে পরিকল্পনা এলাকার ৩০ শতাংশের বেশি জায়গা এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভূমিক¤েপর সময় পানিসিক্ত মাটি শক্তি হারিয়ে ফেললে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ নগরায়ণে এ ঝুঁকি বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনায় বড় আকারের উন্মুক্ত স্থান ও পার্ক তৈরির কথাও রয়েছে। জাতীয় উদ্যানের আদলে দুই থেকে তিনটি বড় পার্ক, জাতীয় কবরস্থানের আদলে একটি বড় কবরস্থানের জন্য জমি সংরক্ষণ এবং একটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত নগরায়ণের মধ্যেও খোলা জায়গা, সবুজ এলাকা ও জনসাধারণের বিনোদনের সুযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।ব্যয় ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকাসরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নতুন মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সিডিএ।সূত্র মতে, চট্টগ্রামের জন্য ১,২৫৫ বর্গকিলোমিটারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু নগরীর আবাসন বা সড়ক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্পাঞ্চল, বন্দর, পর্যটন, কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, নদী-খাল, পাহাড় ও পরিবহন অবকাঠামো-সবকিছুর ভবিষ্যৎ বিন্যাস এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।অর্থাৎ ১৫৫ বর্গকিলোমিটারের বর্তমান নগরকে ঘিরে আগামী ২৫ বছরের জন্য প্রায় আট গুণ বড় একটি মহানগর পরিকল্পনা এলাকা তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উক্ত এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে সিডিএ থেকে ডিজাইন এবং ড্রয়িং অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।উল্লেখ্য, সিডিএ ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ২০২০-২০৪১ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় জরিপ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ নেওয়া হয়েছিল। নতুন ২০২৫-২০৫০ পরিকল্পনা মূলত আগামী ২৫ বছরে নগরীর বিস্তার, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত চাহিদাকে সামনে রেখে আরো বিস্তৃত পরিসরে তৈরি করা হচ্ছে।
১ মাস ২৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শাহীন সুলতানা নামে এক শিক্ষিকা নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে অভিযোগ উঠেছে সৈয়দা নিলুফা আক্তার নামে আরেক শিক্ষিকার চাকুরি স্থায়ীকরণ নিয়ে। সেই সাথে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য আসছে সামনে। সিডিএর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এসব অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদনও ফেল। আর এ নিয়ে এলাকা জুড়ে তোলপাড় চলছে অভিবাবক ও সচেতন মহলের মাঝে। তাদের প্রত্যাশা দুদকের মাধ্যমে এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে। অভিবাবক ও সচেতন মহলের দাবি, আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগকালীন সময়ে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি এবং ঘঞজঈঅ নিবন্ধনধারী একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তাঁদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। উল্টো সকল নিয়ম তোয়াক্কা না করে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে B.Pharm I M.Pharm ডিগ্রিধারী শাহীন সুলতানাকে। যাঁকে সরাসরি দশম গ্রেডে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রিধারী ও নিবন্ধিত যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে মাত্র ৬ মাসের কম্পিউটার কোর্স থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এ পদে আসীন করার নেপথ্যে স্বজনপ্রীতি কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ তিনি ছিলেন তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিবের আপন ভাগিনী।প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় নানা প্রশাসনিক অসংগতি। নিজ বিষয় বাদ দিয়ে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাব খাটিয়ে রুটিনে ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে মূল আইসিটি বিষয়টিতে শিক্ষকতা করতেন অন্য বিষয়ের অনভিজ্ঞ শিক্ষকরা, আর শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হতো নিয়মিত ল্যাব প্র্যাকটিস থেকে। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসন যোগ্যতা অনুযায়ী রুটিন বণ্টন করলে শিক্ষক মিলনায়তনে শুরু হয় হট্টগোল। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুধু সহকর্মীদের সাথে অসদাচরণ ও শিক্ষকদের নিয়ে গ্রুপিং সৃষ্টিই নয়; পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল, রুটিন পরিবর্তন, ক্লাস পার্টির নাস্তার কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব অবহেলার মতো একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।এসব ধারাবাহিক অব্যবস্থার রেশ ধরে ২০১৯ সালের ৭ই মার্চ শিক্ষক মিলনায়তনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রতিষ্ঠানের ৩৪ জন শিক্ষক যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।তদন্ত কমিটির (তদন্তকালীন পদবি) আহ্বায়ক ছিলেন জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন শাহ্ (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড), সদস্য সচিব ছিলেন জনাব কে. বি. এম শাহজাহান (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড) সদস্য ছিলেন জনাব ভূপতি ভূষণ ইমরান (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড), জনাবা তাহেরা ফেরদৌস বেগম (তৎকালীন সচিব, সিডিএ) এস. এম. এরশাদ হোসেন (সিনিয়র শিক্ষক-গণিত, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ) সদস্য সচিব জনাব এ. এস. এম হাবিবুর রহমান (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২, সিডিএ)অডিও রেকর্ড, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রবিধান ভঙ্গের দায়ে সিডিএ ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে চূড়ান্ত বরখাস্ত ও অপসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু রহস্যজনক ও প্রশাসনিকসহ নানা অজুহাতে সেই বরখাস্তের আদেশ আজও কার্যকর হয়নি। অভিযুক্ত এই শিক্ষিকা এখনো পদে বহাল রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং এসব বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শাহীন সুলতানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, নিয়োগের সময় আমার কাছে যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল, আমি সবই জমা দিয়েছি। শিক্ষকদের অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো ঘটনার কথা আমার মনে নেই, আমি সবকিছু ভুলে গেছি। অন্যদিকে একই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই এক সহকারী শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণের অভিযোগ উঠেছে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ এপৃল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত যে রেজুলেশন গৃহীত হয়, সেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা নিলুফা আক্তারের নাম ছিল না। অথচ একই বছরের ৪ আগস্ট তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল আলম স্বাক্ষরিত স্থায়ীকরণ পত্রে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, উক্ত পদে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ও রেজুলেশন ব্যতিরেকে কীভাবে এ স্থায়ীকরণ পত্র জারি করা হলো-তা নিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যেখানে নোটিশ বোর্ডে ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা দিয়ে আসা সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৭ জন শিক্ষকের স্থায়ীকরণ নিয়ে দুদকের তদন্ত চলছে এবং একই কারণে সিডিএ গার্লস স্কুলের অন্তত সাতজন অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন শিক্ষকের স্থায়ীকরণ আটকে রয়েছে, সেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই সৈয়দা নিলুফা আক্তারের স্থায়ী পদে বহাল থাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সৈয়দা নিলুফা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং বর্তমানে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছি। পরিচালনা কমিটি আমাকে উক্ত পদে স্থায়ী করেছেন। এ বিষয়ে জানতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা দুটি ২০১৬ সালের হওয়ায় আমার পুরোটা স্পষ্ট মনে নেই। তবে রেজুলেশনে আমার স্বাক্ষর থাকতে পারে, আলাদা কোনো কাগজে স্বাক্ষর থাকার কথা নয়। আমি ঢাকা থেকে ফিরে কাগজপত্র দেখলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।
২ মাস ১ দিন আগে
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাড়িও মশার প্রজননক্ষেত্র। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও স্বাস্থ্য বিভাগের পৃথক জরিপে নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ড. ইউনুসের নিরিবিলি বাড়ির আঙিনাসহ মোট ১৫৫টি স্থানকে এডিস মশার হটস্পট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।এছাড়া হট¯পটের তালিকায় রয়েছে নগরীর বেশ কয়েকটি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এছাড়া কাতালগঞ্জের পরিত্যক্ত ভবন, এগারো ডাইমের বিল্ডিং, টুপিওয়ালা পাড়া, মীর নাসির গলি, মুন্সিপুকুর পাড় এবং চকবাজার কাঁচাবাজারের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি। তিনি বলেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের কীটতত্ত্ববিদদের জরিপ অনুযায়ী নগরের ৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হট¯পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা সম্ভাব্য ১৫৫টি প্রজননক্ষেত্র বাছাই করে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ ও প্রজননস্থল ধ্বংস করেছি।তিনি বলেন, আমাদের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশাকে গৃহপালিত বা ভিআইপি মশা বলা হয়, কারণ এটি ডমেস্টিক পর্যায়ে বেশি থাকে। দিনের বেলা বা রাতে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিন দিনের বেশি বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।চসিকের এই কর্মকর্তা বলেন, আক্রান্ত রোগীর বাসস্থান চিহ্নিত করে আঙিনা ও আশপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত নয়া হাট বাজার, কুয়াইশ রোড, বকশি নগর, চালিতাতলী (নির্মাণাধীন ভবন ও বাজার), চালিতাতলী শীলবাড়ি মন্দির, পাঁচলাইশ উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর আবাসিক, গুলবাগ আবাসিক, আহমদীয়া হাউজিং সোসাইটি, পশ্চিম শহীদনগর, মধ্যম শহীদ নগর (নির্মাণাধীন আবদুস ছত্তার টাওয়ার), অক্সিজেন আবাসিক এলাকা, পাঠানপাড়া এবং আতুরার ডিপো (জাহানপুর ও হাসেমপাড়া বাজার) এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ২ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে প্রজননস্থলের তালিকায় আছে কে বি গ্রামার স্কুল, বালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাইনিং জুয়েল স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, অন্ধ হুজুরের মাজার ও আশপাশের ডোবা, আগুন ফকিরের মাজার, খন্দকীয়া হাট, চন্দননগর বাজার, শেরশাহ সংলগ্ন বাজার-কলোনি ও হাউজিং, অক্সিজেন মোড়ের পাশের আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট গেটের বিপরীতের দোকানসমূহ, বালুছড়া আবাসিকের শুরুর দিকের নির্মাণাধীন ভবন, শীতল ঝর্ণা আবাসিক, জেলা পরিষদ আবাসিক, ওয়াপদা গলি কলোনি, আলপনা ক¤িপউটারের উত্তর পাশ, খাজা টাওয়ার এলাকা, কুঞ্জছায়া আবাসিক, ডেবারপাড় এলাকা, চন্দননগর আবাসিক, শ্যামল ছায়া আবাসিক, বিহারি কলোনি, সড়ক ও জনপদ কোয়ার্টার, জামশেদ শাহ রোডের আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা এবং সেনা কল্যাণ মিলের সামনের রাস্তার ফুলের টবকে মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আছে বি.এড কলেজ, বাকলিয়া স্কুল (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক), মৌসুমী আবাসিক এলাকা, কালাম কলোনি (আব্দুল লতিফ রোড), চান মিয়া মুন্সির লেইন, তাহের কলোনি, শান্তি নগর এলাকা, মিয়া বাপের মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, মদিনা মসজিদ লেইনের নির্মাণাধীন ভবন এবং সাবেক কাউন্সিলের বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া নগরীর ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে চিহ্নিত প্রজননস্থলের তালিকায় আছে বড় কালি বাড়ি (ঈশান মহাজন রোড), গোলার বাড়ি (সিটি গেট সংলগ্ন), মনসুরাবাদ, সাগরিকা শিল্প এলাকা, কাস্টমস একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল, স্টেডিয়াম সংলগ্ন খেজুরতলা জেলেপাড়া, বিশ্বাস পাড়া, আমানত উল্লাহ শাহ পাড়া, নাজির বাড়ি, মুন্সি বাড়ি, মুকিম তালুকদার বাড়ি, সিডিএ আবাসিকের নালা, প্রশান্তি আবাসিকের নালাসমূহ, আগ্রাপাড়া (ভিক্টোরিয়া জুট মিল), কুতুব বাড়ি, জাকের উল্লাহ সওদাগরের বাড়ি, বশির মোহাম্মদ বাড়ি, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, আচার্য্য পাড়া-জলিল মিস্ত্রি বাড়ি, তমিজুর রহমানের বাড়ি (ওয়ার্ড অফিস সংলগ্ন), পন্ডিত বাড়ি, ছোট কালি বাড়ি, জ্বালাকুমারী মন্দির, কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, চান মিয়া ডাক্তারের বাড়ি, উত্তর সরাইপাড়া (অলংকার), কর্নেল হাটের আশরাফ আলী চৌধুরী বাড়ি, সিরাজ উদ্দিনের বাড়ি ও নুর মোহাম্মদ বাড়ি, পেয়ারি মোহন সেনের বাড়ি, শাহের পাড়া এবং ৩৪ নং ওয়ার্ডের তিলোত্তমা, এমপি সাহেবের ড্রেন, ইসলাম কলোনি ও মনোহর খালি এলাকায়ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।সরেজমিনে জানগে চাইলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসার প্রহরী মো. সায়েম খান জানান, স্যার প্রধান উপদেষ্টা থাকার সময় এখানে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হত। এখন আর সেভাবে ওষুধ ছিটাতে আসেন না। বৃষ্টি হলেই আঙিনায় পানি জমে যায়। মূলত এ কারণেই জায়গাটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।
২ মাস ২ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ৭ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। স্থাপনাগুলোর একটি চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের। অন্যগুলো হচ্ছে আবাসন কোম্পানী সিপিডিএল-পিটুপি-জুমাইরার স্থাপনা। যারা আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। সিডিএর জোন-২-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগরীর লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা হামদর্দ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।'সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২ মাস ৩ দিন আগে
আগামী ২৫ বছরের উন্নয়ন রূপরেখা হিসেবে প্রণীত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের (২০২৫-২০৫০) সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব ওয়ান সিটি টু টাউন। যেখানে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে সমন্বিত করে গড়ে তোলা হবে দুটি সমান্তরাল নগরকেন্দ্র। যা করতে নগরবাসীর পরামর্শ চায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।সে লক্ষ্যে আজ ১ আগস্ট শনিবার থেকে শুরু হলো এই মহাপরিকল্পনার ওপর ৬০ দিনব্যাপী গণশুনানি ও জনমত গ্রহণ কার্যক্রম। চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চউক ভবনে সরাসরি এবং অনলাইনে নগরবাসী নিজেদের মতামত, আপত্তি ও পরামর্শ জানাতে পারবেন।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০)-এর চূড়ান্ত খসড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্পের পরিচালক ও চউকের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী। মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন কৌশল স¤পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন।গণশুনানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, বিগত কয়েক দশকের অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে চট্টগ্রাম তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, খাল ও জলাধারের বড় অংশ হারিয়েছে। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মাস্টারপ্ল্যানে নতুন খাল খনন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাহাড় ও জলাশয় সংরক্ষণ, বিশেষ অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান এবং ভূমি মালিকদের অংশীদার করে উন্নয়ন বাস্তবায়নের মতো একাধিক নতুন উদ্যোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও রাউজানসহ আশপাশের এলাকাকে সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।চউকের প্রত্যাশা, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে চূড়ান্ত হওয়া এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই দশকের মধ্যে কর্ণফুলীর দুই তীরে গড়ে উঠবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চট্টগ্রাম যেখানে ওয়ান সিটি টু টাউন হবে নগর উন্নয়নের নতুন মডেল।প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ১৯৬১, ১৯৯৫ ও ২০০৮ সালের পর এটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা। একটি এলাকার সমস্যা সেই এলাকার মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই নাগরিকদের যৌক্তিক মতামত যাচাই-বাছাই করেই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন থেকে নকশার বাইরে কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী নকশা লঙ্ঘনকারীদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের নান্দনিক মহানগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বলেন, জনমত গ্রহণের জন্য নাগরিকরা ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চউক ভবনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অথবা ডিজিটাল ওয়েব জিআইএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত ও আপত্তি জানাতে পারবেন। পরিকল্পনায় পলিকেন্দ্রিক গ্রোথ মডেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেল কেন্দ্র করে ওয়ান সিটি টু টাউন ধারণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আনোয়ারার জন্য পৃথক অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান রাখা হয়েছে।জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর এলাকায় ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার এবং বৃহত্তর এলাকায় ১১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার নতুন খাল খননের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ভূমি মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস (টিডিআর) গাইডেড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ট্রাইপার্টাইট মডেল ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।চউক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী পৌরসভা ও উপজেলার প্রায় এক হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ স¤পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।মহাপরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আবাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ মোট ১৯টি খাতে ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প রয়েছে।
২ মাস ২১ দিন আগে
জুলাই মাস থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন সরকারি পে-স্কেল। এ নিয়ে দারুণ স্বস্তিতে সরকারি চাকুরিজীবীরা। অন্যদিকে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন বেসরকারি বিভিন্ন খাতের চাকুরিজীবীরা। কারণ তাদের বেতন-ভাতা নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে না। ফলে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বেসরকারি চাকুরিজীবীরা।যাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে। আর সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বা গুঞ্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলে তা দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ এবং নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি খাতের কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারে দুটি বড় প্রভাব পড়ে। চাহিদা বৃদ্ধি অর্থাৎ একসাথে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর হাতে অতিরিক্ত টাকা আসায় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। সরবরাহ যদি সেই অনুপাতে না বাড়ে, তবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বাড়ে। মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে। কেননা, বাজারে কেবল বেতন বৃদ্ধির খবর ছড়ালেই একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পরিবহন ভাড়া এবং বাসাভাড়া বাড়িয়ে দেন। যার ভুক্তভোগী হন বেসরকারি খাতের কর্মীসহ দেশের সব সাধারণ নাগরিক। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি যখন এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী, তখন বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো। সরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা দিতে গিয়ে যদি বেতন বাড়ানো হয়, তবে তার খেসারত দিতে হবে দেশের সিংহভাগ বেসরকারি চাকরিজীবী, দিনমজুর এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে, যাদের আয় বাড়েনি।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের কর্মসংস্থানের মাত্র একটি ছোট অংশ সরকারি খাতের আওতাভুক্ত। বাকি বিশাল জনগোষ্ঠী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অনানুষ্ঠানিক খাত বা আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারদরের যে ঊর্ধ্বগতি হবে, তা সামাল দেওয়ার মতো কোনো অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর থাকবে না। ফলে ধনী-গরিবের ব্যবধান আরো প্রকট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দা তৌহিদ আসলাম। চাকরি করেন ইপিজেড এলাকার িএকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখানে যত টাকা বেতন পান, উচ্চমূল্যের বাজারে সেটি দিয়ে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর খবর তাকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তৌহিদ আসলাম বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সাথে সাথে সেগুলোর দাম আবারও বেড়ে যাবে। আমাদের মতো মানুষের আয় তো বাড়ছে না। তাহলে আমরা বাঁচব কিভাবে?’ তার এই উদ্বেগ যে মোটেও অমূলক নয়, অর্থনীতিবিদদের কথাতেও সেটির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলছেন, সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন বৃদ্ধি ফলে কেবল মূল্যস্ফীতিই বাড়বে না, সেইসঙ্গে বৈষম্য, দারিদ্র্য, তারল্য সংকটসহ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন, সরকার সেদিকে দৃষ্টি না দিলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট আরো বেড়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আয়ের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক সাত শতাংশ, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারিখাতের কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা না বাড়লে আয় বৈষম্য আরো বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে দেশে দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। গত কয়েক বছর ধরেই দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার উচ্চ। গত জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কমলেও এখনো সেটি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে- এমনটাই বলছেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন পে-স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে যে বাড়তি বেতনের অর্থের প্রয়োজন হবে, সেটির জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হবে বা নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে। বাড়তি ওই টাকা অর্থনীতিতে যোগ হলেই সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরো বেড়ে যাবে। তখন সেটা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে বলে জানান সেলিম রায়হান।প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনার বিধান থাকলেও গত দশ বছরে একবারও সেটি করা হয়নি। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, গত এক দশকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ-খরচা যেভাবে বেড়েছে, সেই বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল ঘোষণার এই উদ্যোগ অত্যন্ত যৌক্তিক, বলছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। কিন্তু উদ্যোগটি এমন একটি সময় নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হলেও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সেটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে কি-না, সেই প্রশ্নটি সামনে চলে আসছে বলেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এর ফলে আগের চেয়ে বেশি কেনাকাটা করার কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যেতে পারে। তবে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঠিক রেখে পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশের অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, চাহিদা বাড়লেই বরং ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এক্ষেত্রে সরকার যদি নিত্যপণ্যের সংকট বা লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে ভোগান্তি থেকে তাদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন পদে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে, অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা বাড়ছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের 'জনপ্রশাসন-নিট' খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বাড়তি এই ব্যয়ের বিপরীতে সরকার আয় তো সেভাবে বাড়ছে না, বরং নতুন বাজেটে যে বিপুল আর্থের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, সেটা মেটাতেই সরকারকে দেশে-বিদেশে ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হলে অর্থনীতি বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আবার দেশি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে সেখানে তারল্য সংকট দেখা দিবে, সেটাও আরেক সমস্যা বলে জানান তারা। দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন যে চ্যালেঞ্জিং হবে, বিএনপি সরকারও সেটা স্বীকার করছে। তারপরও ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ইশতেহারে বলা হয়েছে যে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ীই একটা রিভিউ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেতন-ভাতা একবারে না বাড়িয়ে সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে বলে জানান উপদেষ্টা তিতুমীর।তার আগে, গত জুনে সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তব্যে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি বলে বাজেট বক্তৃতায় সংসদে বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও নতুন করে আর পে-স্কেলে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০২৫ সালে নতুন একটি বেতন কমিশন গঠন করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিশন বেতন কাঠামো পর্যালোচনা শেষে গত জানুয়ারি মাসে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেন কমিশনের সদস্যরা। এছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার জন্য অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কমিশন গঠন করে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করলেও সেটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের হাতে ছেড়ে দেন অধ্যাপক ইউনূসের সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর আগের কমিশনের পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিএনপি সরকার। সেই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে, যেখানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড, অর্থাৎ মধ্যম ও নিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই খসড়া রূপরেখাটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর কথা রয়েছে। অনুমোদন শেষে চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে বলেও জানা যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এক বছরের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে বলা হলেও বাস্তবে পণ্যের দাম কমেনি; বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে মাত্র। তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। তিনি বাজার কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি চড়া মূল্যস্ফীতির সময়ে খাদ্য ভর্তুকি ও সুবিধাভোগীর আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য জনগণ ও অর্থনীতি প্রস্তুত কি না, তা যাচাই জরুরি। সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ না করে পে স্কেল বাস্তবায়ন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া অর্থনীতি এখনো মজুরি বাড়ানোর মতো সক্ষমতায় পৌঁছায়নি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি টেকসই হবে না। বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে অর্থনীতি মন্দার পূর্বমুহূর্তে রয়েছে, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির সুফল পাওয়া কঠিন।
৩ মাস ১ দিন আগে
যানজট কমাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে চরম হুশিয়ারী দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। প্রাথমিক পরিদর্শনে নগরীর যানজট তৈরীর একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে তিনি সতর্ক করেন। পরবর্তী পরিদর্শনে অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর জিইসি মোড়ের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতাল এবং সিএসসিআর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।পরিদর্শন শেষে সিডিএর চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় কোনোটিতেই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে এবং পার্কিং ব্যবস্থা ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চেয়ারম্যান আরও বলেন, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা নগরের যানজট নিরসনে একযোগে কাজ করছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব হাসপাতালকে সতর্ক করা হয়েছে, পরবর্তী পরিদর্শনে তাদের আকার অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে কোনো অজুহাত গ্রহণ না করে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরিদর্শনকালে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান এ.জি.এম. সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, অথোরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ, অথোরাইজড অফিসার-২ তানজীব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিডিএর তথ্যমতে, বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, প্রয়োজনীয় পার্কিং ¯েপস না রাখা, নকশায় পার্কিং হিসেবে দেখানো স্থান অন্য কাজে ব্যবহার, পার্কিং এলাকা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা এবং পার্কিং ¯েপসে ময়লা-আবর্জনা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের মতো একাধিক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে এই অনিয়ম সংশোধন না করলে হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নকশা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর সবকটি বেসরকারি হাসপাতালে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে অসহনীয় যানজট লেগে থাকে। সাধারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে এসব সড়কে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে বসে থাকতে হয়। এমনকি এসব হাসপাতালে আসা রোগীর অবস্থাও কাহিল হয়ে পড়ে। এ সুযোগে যানবাহনগুলোও দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া বেশি আদায় করে। এতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুরাদপুর-চকবাজার-বহদ্দারহাট সড়ক। এ সড়কের পাঁচলাইশ মোড়ে বেমসরকারি পার্কভিউ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অবস্থান। এ হাসপাতাল ভবনের নিচের তলায় পার্কিং থাকলেও তা রোগীদের কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য এই পার্কিং ব্যবহার যোগ্য। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে সড়কে তাদের গাড়ী পার্কিং করে। একইভাবে নগরীর জিইসির মোড় থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সড়কের সামনে অবস্থিত বেসরকারি এপিক হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, পপুলার হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, প্রবর্তক মোড় শেভরণ হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, সিএসিআর, ল্যাব এইড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মেট্টোপলিটন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ন্যাশনাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ম্যাক্স হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, রয়েল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল, এশিয়ান হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার আন্যতম। এসব হাসপাতালের কারণে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, কাজীর দেউড়ি সড়ক, জামালখান সড়ক, চকবাজার সড়ক, বহদ্দারহাট সড়ক, টাইগার পাস মোড়, নিউমার্কেট মোড়, আন্দরকিল্লা মোড় পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ে বলে জানান সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আহমেদ কবীর। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা ঠিক হলে নগরীর অর্ধেক যানজট নিরসন হয়ে যাবে। নগরবাসী মুক্তি পাবে ভোগান্তি থেকে।
৩ মাস ২ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কারিগরি উন্নয়নের পর চালু হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী এখন ঘরে বসেই বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ও সেবার জন্য চসিকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নগরবাসীর অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে মনিটরিং করা হবে মেয়র অ্যাপটির বিবরণ দিয়ে বললেন, অ্যাপে নাগরিকেরা রাস্তা, নর্দমা, মশা, আবর্জনা, সড়কবাতি, পাবলিক টয়লেট, অবৈধ স্থাপনা, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ ১০টি প্রধান খাতে ছবি ও লোকেশন সংযুক্ত করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ দাখিলের পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছে যাবে এবং সমাধানের অগ্রগতি অ্যাপেই দেখা যাবে। অভিযোগ নিষ্পত্তি হলে অভিযোগকারীকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়া অ্যাপটিতে ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, প্রত্যয়নপত্র, স্কুল হেলথকার্ড, জরুরি যোগাযোগ নম্বর, আবহাওয়ার তথ্য এবং নিকটস্থ হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, থানা, গণশৌচাগার, পার্ক, এটিএম, কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবার গুগল ম্যাপ লোকেশন যুক্ত করা হয়েছে বলে মেয়র জানান।চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, অ্যাপটি নির্মাণে সিটি করপোরেশনের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)-এর করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি তহবিলের অর্থায়নে এবং ভেনটো টেক-এর কারিগরি সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অ্যাপটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।চসিকের প্রত্যাশা, আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ নগরবাসীর সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের যোগাযোগ আরও কার্যকর করবে, কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জনাব মো. তরিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
৩ মাস ৪ দিন আগে
খড়া ছিল আষাঢ়ের শুরুতেই, মধ্য সময়ে এসে সাগরে লঘুচাপ। পরে তা মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে যাচ্ছে গত তিন দিন ধরে। এর মধ্যে ৭ জুলাই মঙ্গলবার ছিল ১৯ বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন একদিনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল ৪০৮ মিলিমিটার। সেদিন চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর পাহাড়ধসে মারা যান ১২৭ জন। সেই ১১ জুনকেও ছাপিয়ে গেছে মঙ্গলবারের ৪১২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত। কিন্তু সেদিনের মতো এত প্রাণহানি ঘটেনি। তবে একেবারে ঘটেনি তা নয়, পাহাড় ও দেয়ালধসে মারা গেছেন এক নারী ও এক যুবক। দুই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। স্থবির জনজীবন চলতি মৌসুমে জুন মাসে বৃষ্টির জন্য হাহাকার ছিল। স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয় ওই মাসে। জুনে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল ৬১৩ মিলিমিটার, হয়েছে ৩৫১। আর জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ সাধারণত ৬৯৪ মিলিমিটার। কিন্তু আজ এক দিনের বৃষ্টিতে তা অর্ধেক পার হয়ে গেছে।এই বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, দোকানপাট, বাসাবাড়ি সব। নগরের কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, মৌলভীপুকুর পাড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনি, সিডিএ আবাসিক, সল্টগোলা ক্রসিং ও হালিশহর এলাকাসহ সর্বত্র পানি থই থই করছে। বলতে গেলে ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর জনজীবন। তলিয়ে গেছে বাসাবাড়ি, অফিস। বন্ধ রয়েছে বেশির ভাগ দোকানপাট। থেমে গেছে বিয়ের অনুষ্ঠান। তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী রোড। ডুবে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন। ফলে চট্টগ্রাম ষোলশহরে আটকে গেছে কক্সবাজারগামী পর্যটন এক্সপ্রেস, একইভাবে কক্সবাজারে আটকে গেছে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস। মঙ্গলবার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, হালিশহর, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, প্রবর্তক মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।সকালের দিকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। তবে আগে থেকে না জানায় অনেক শিক্ষার্থী বাসা থেকে বের হয়ে পথে নেমে জলাবদ্ধতার মধ্যে আটকা পড়ে। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আবার বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।কোমর সমান পানি মারিয়ে বাবার সঙ্গে স্কুল থেকে ফেরত আসা শিক্ষার্থী সাইমা রহমান বলল, 'স্কুলে পৌঁছে জানতে পারি আজকের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। আগে থেকে জানানো হলে নোঙরা পানির মধ্যে এসে এমন ভোগান্তি পোহাতে হতো না।'নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা খোকন চৌধুরী বলেন, এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা আগেও হয়েছে, কিন্তু কখনো এত ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি বা এত দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়নি। এখন বাসার মধ্যেই বন্দিজীবন কাটাতে হচ্ছে।জলাবদ্ধতার কারণে গণপরিবহনের সংকটে বেশি বিপদে পড়েছে চাকরিজীবীরা। রিকশাভাড়া বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ, তবুও মিলছে না। পানিতে ডুবে সিএনজি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বহু গাড়ি রাস্তায় অচল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঢাকনাবিহীন লানা পানির নিচে ডুবে থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। বহদ্দারহাটে রিকশাচালক এমরান হোসেন বলেন, 'রাস্তায় এত পানি যে অনেক জায়গায় রিকশা চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীরাও ভয়ে আছে কখন খাদে পড়ে গাড়ি উল্টে যায়। চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আবুল মনছুরের অভিযোগ, প্রতিবছরের মতো এবারও ভারী বর্ষণে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবায়ও। বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলায় পানি ঢুকে জরুরি বিভাগ, ল্যাবরেটরি ও প্রশাসনিক কক্ষ প্লাবিত হয়েছে। এতে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে।এজন্য স্বল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাতকে দুষলেন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী। তিনি বললেন, ৫ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনে চট্টগ্রামে ৫৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টি ধারণ করার মতো সক্ষমতা রেখে জলাবদ্ধতা প্রকল্পটি নকশা করা হয়। অতিবৃষ্টিতে পানি জমলেও তা এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে।বাড়ছে পাহাড়ধসের ঝু^ঁকিএদিকে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র।এদিকে আজ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় না থাকার অনুরোধ করছি।সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর রেসকিউ টিম মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন ও জনদুর্ভোগ কমাতে কাজ করছে তারা। রাতেও আমি নগরের নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করবো।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মহানগরে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আটটি আশ্রয়কেন্দ্র সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সই করা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।বৃষ্টিপাত কম ক্ষতি বেশি যেসব সালে গত ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট এক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। তখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনটি সদ্য স্থাপন করা হয়েছিল। উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু বৃষ্টি ও ঢলজনিত বন্যায় বেঁকে গিয়েছিল নতুন ওই রেলপথের প্রায় তিন কিলোমিটার।সেদিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল মাত্র ৩২২ মিলিমিটার। তাহলে আজকের মৌসুমি বৃষ্টির তুলনায় সেদিনের বৃষ্টি ছিল প্রায় ৯০ মিলিমিটার কম। তবে শুধু চট্টগ্রামে নয়, ওই দিন বৃষ্টি হয়েছিল সাতকানিয়ার পূর্বদিকের জেলা বান্দরবানেও। সেখানকার পাহাড়ের ঢলও নেমে এসেছিল উপজেলাটির ওপর।এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পাহাড়ধসে প্রায় ১৫০ জন মারা যায়। সেদিন চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ছিল ১৭৭ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ছিল রাঙামাটিতে।যেসব সালে আরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আরেক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল ২০১২ সালের ২৬ জুন, নগরীর আকবরশাহ মাজার এলাকায়। মারা গিয়েছিল ২৮ জন। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৬৩ মিলিমিটার। আজকের চেয়ে যা প্রায় ৫০ মিলিমিটার বেশি ছিল।তবে চট্টগ্রাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সর্বকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ মিলিমিটার। ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট এটি রেকর্ড করা হয়েছিল। সে হিসাবে আজকের বৃষ্টিপাত প্রায় ১০০ মিলিমিটার কম।
৩ মাস ১৫ দিন আগে
সোমবার মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে ডুবে গেছে চট্টগ্রামের কিছু নিচু এলাকা। এতে ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের। ভারী বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও। ফলে পাহাড় থেকে সরে যেতে মাইকিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) ওমর ফারুক। তিনি জানান, সোমবার দিনগত রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ডুবেছে নগরীর কিছু নিচু এলাকা। অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু করা হয়েছে। ঝুঁিকপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকায় দুটি স্কুলে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয় নগর, জিয়া নগর, বেলতলীগোনা, খুলশী, বায়েজিদ, সলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাইকিং শুরু করেছে। তারা বাসিন্দাদের পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এসব নির্দেশ বাসিন্দারা কানে তুলছেন না। নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পরিবার বসবাস করছে বলে সূত্র জানায়।এদিকে নগরবাসীর তথ্যমতে, সোমবার দিনগত মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে নগরীর চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, ডিসি রোড, তেলপট্টি, চান্দগাঁও, বাদুরতলাস, সল্টগোলা ক্রসিং, হালিশহর, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার সড়কগুলো কোথাও হাঁটু পরিমাণ আবার কোথাও হাঁটুর চেয়ে বেশি পরিমাণ পানিতে তলিয়ে গেছে।নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার বাসন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. মহিউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি থই থই করছে। ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাসা থেকে বের হওয়ারও কোন সুযোগ নেই। পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। মৌসুমী নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা রয়েছে। আরও দুই থেকে তিন দিন মাঝারি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।এদিকে বৃষ্টির সময় সোম ও মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে নালা নর্দমায় ময়লা আবর্জনা না ফেলে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান মেয়র।
৩ মাস ১৫ দিন আগে
“দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচতে ২০০৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাজী হাসান বিন শামস বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখার মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করে ট্রুথ কমিশন থেকে মার্জনাপত্রও নেন।”
৩ মাস ২৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম শহরে অবৈধ ভবন নির্মাণ থামছেই না। আর এসব ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যাদের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ অনুমোদনের বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ অনুমোদনে সিডিএর চার কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। কর্মকর্তারা হলেন-সিডিএর সাবেক অথরাইজড অফিসার। এন কাজে সহযোগী ছিলেন ইমারত পরিদর্শক, আবু জাফর ইকবাল, আব্দুর রশিদ ও বিমান বড়ুয়া।সূত্র জানায়, নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে ২০ তলা বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠে সিডিএর সাবেক অথরাইজড অফিসারের বিরুদ্ধে। দাল্লা মেডিকেলের পেছনে অবস্থিত “মুনতাসির বিল্ডিং লিমিটেড” এর নামে ভবনটির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৩ সালে। অনুমোদনের স্মারক নম্বর—২৫.৪৭.১৫০০.০৭৩.৪৩.১৯১.২৩।সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভবনটির জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ প্রবেশপথ (অ্যাকসেস রোড) না থাকা সত্ত্বেও অলৌকিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনাপত্তি বা অনুমতি ছাড়াই নকশা অনুমোদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর ছোট পুল এলাকায় একটি নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফাইল নং ১৩৪/২৪ অনুযায়ী নুরুল্লাহ গং-এর মালিকানাধীন ওই প্লটের জন্য সিডিএ ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেয়। তবে প্রকল্প মালিকের প্রয়োজন ছিল ১৩ তলার অনুমোদন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠান ও সিডিএ-র কিছু কর্মকর্তা।অনুসন্ধানে জানা যায়, পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইউসুফ শাহ সাজু (৪৫) নিজেকে সিডিএ’র প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে প্রথম দফায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা নেন। পরে ওই অর্থের ভাগ পান তৎকালীন সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. হোসেন, প্রকৌশলী নোবেল মিত্র, কর্মচারী নইম উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউসুফ শাহ সাজু বলেন, “এই ঘটনায় প্রকৌশলী নোবেল মিত্র, কর্মচারী নইম উদ্দিন ও প্রধান প্রকৌশলীর পিএ হোসেন জড়িত। নইম উদ্দিন ও হোসেন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ১৩ তলা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।কর্মচারী নইম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ২০২৪ সালের। কে কত টাকা নিয়েছে তা আমি জানি না। তবে ইউসুফ শাহ সাজু ও পিএ হোসেন বিষয়টি পরিচালনা করেছে।অন্যদিকে পিএ হোসেন দায় এড়িয়ে বলেন, টাকা নেওয়ার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। শুধু ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করেছিলাম যাতে ১৩ তলার অনুমোদন দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নকশা পরিবর্তন, সরু রাস্তা প্রশস্ত দেখানো, সরকারি জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে উপস্থাপন, এমনকি ভুয়া খতিয়ান তৈরি করেও ভবনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। অথচ ভবন অনুমোদন থেকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ইমারত পরিদর্শকদের একটি অংশই এসব অনিয়মের মূল সহায়ক হিসেবে অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেইনি সিডিএ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএ-র সদ্য নিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়গুলোর খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
