বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) দপ্তরটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানন্তরে সক্রিয় রয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী কুচক্রি মহল। যা হলে প্রথমত চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতা সূলভ আচরণ হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারের ব্যয় ও সরঞ্জাম সংরক্ষণ জটিল হয়ে পড়বে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপির সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদানের সময় এমন তথ্য উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন (বারেসাএসাএ) এর নেতৃবৃন্দ।বৃহস্পতিবার (২৩ এপৃল) সকালে রেলভবনে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী এবং বারেসাএসাএ‘র সভাপতি ফেরদৌস হুদার নেতৃত্বে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।এ সময় বারেসাএসাএ‘র অন্যতম পরিচালক এনায়েত কবির, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি বাবুল, জাকির হোসেন, আরিফুর রহমান, জাহিদুল হক জাহিদ, এ কে এম মাহফুজুর রহমান পিপলু, খন্দকার তারিকুল ইসলাম এবং মঈনুল আহসান রাসেল সাথে ছিলেন।নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীকে অবগত করেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিএিস) বিভাগটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন যাবৎ সক্রিয় ছিল। বর্তমানে আবারও সেই চক্রটি প্রাক্তন রেলপথ মন্ত্রী, রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানসহ কিছু লুটেরা ব্যবসায়ী এবং সুযোগ সন্ধানী রেলওয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থেই এই প্রক্রিয়ার সহিত সক্রিয় হয়েছে। যার অংশ হিসেবে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তর ঢাকা স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচারের মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে কিন্তু রেলওয়ে প্রয়োজনীয় বেশীরভাগ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করতে হয়। ফলে তৎসংশ্লিষ্ট ডিসিওএস শিপিং, ডিসিওএস ডিপো, ডিসিওএস পরিদর্শন, এসিওএস জেটি ও ইনভেন্ট্রি কন্ট্রোলসেলসহ প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামো ও সুবিধাসমূহ ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রামে বিদ্যমান আছে। এই সকল কারণে অফিসটি স্থানান্তর করা চট্টগ্রামের সহিত একটি বিমাতা সুলভ আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে সরঞ্জাম ক্রয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ ও সরঞ্জাম সংরক্ষণে জটিলতা সৃষ্টি হবে। এতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তাই এ বিষয়ে আমরা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়ের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।সিসিএস, পাহাড়তলীর আরপিও নং-২৪৭সি তাঃ ১৮/১২/২০২৩ইং। আমরা “বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লায়ার্স এসোসিয়েশন” এর পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীর সদয় অনুধাবন পূর্বক অবগতির জন্য জানান যে, আরপিও-২৪৭সি এ প্রদর্শিত বিভিন্ন শ্রেণী/ডিজিটাল (ব্রাস অন্তর্ভুক্ত) শ্রেণী সমূহ যেমন: ইবি১(১০৪)অ, ইবি১(২০৪),ই, ইবি২ (১২৩), ইবি৬ (১০৯), ইসি২ ৯(১১০), ইসি২(১৪২), আইএফ১ (১২৭) মালামালগুলি সিসিএস দপ্তর কর্তৃক ক্রয়/সংগ্রহ করা হতো, কিন্তু বিগত ১৮/১২/২০২৩ইং একটি আরপিও জারির মাধ্যমে সিওএস (পূর্ব) ও সিওএস (পশ্চিম) হইতে উপরোক্ত উল্লেখিত শ্রেণীর মালামাল সমূহ ক্রয়/সংগ্রহ করা হইতেছে। যাহা সিসিএস দপ্তরকে স্থানান্তরের প্রথম প্রক্রিয়া। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় হইতে সিসিএস দপ্তর হইতে রেলওয়ের যাবতীয় মালামাল ক্রয় সংগ্রহ করা হতো। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান এরশাদ সাহেবের মতামতের ভিত্তিতে সিওএস/পূর্ব ও সিওএস, পশ্চিম দপ্তর গঠন করা হয় এবং তখন এই দুই নতুন দপ্তর সমূহ কি মালামাল ক্রয় করিবেন তাহার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু যাহা বিভিন্ন মহলের স্বার্থ লঙ্ঘিত হইয়া আসিতেছে।নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আলোচিত বিভিন্ন শ্রেণীর মালামালগুলো রেলওয়ের সেফটি ও ¯পর্শকাতর আইটেম হিসেবে বিবেচিত এবং অধিকাংশ মালামাল সমূহ স¤পূর্ণরূপে আমদানী নির্ভর। অতীতে এইধরনের মালামাল সমূহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় সংগ্রহ করা হইত। এই ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রয়কার্য স¤পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা শুধুমাত্র প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক এর দপ্তরে বিদ্যমান রয়েছে, যেমন (আমদানীর জন্য এলসি খোলার ব্যবস্থা, মালামাল খালাসের জন্য আর এন্ড আই দপ্তরের মাধ্যমে রেলওয়ের নিজস্ব জেটি ও শিপিং এর ব্যবহার)।এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকাকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করে ঢাকাকে যানজট ও যানজট মুক্ত করা ও চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে গড়ে তোলার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে বলে উল্লেখ করেন। পরিশেষে প্রতিমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন নেতৃবৃন্দ। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী মনযোগ সহকারে নেতৃবৃন্দের কথা শুনেন এবং যাবতীয় সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া তিনি প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তর পরিদর্শনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে বারেসাএসাএ নেতৃবৃন্দ সদ্য পদায়িত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন।স্মারকলিপিতে যা আছে : বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লায়ার্স এসোসিয়েশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক টিও লাইসেন্স প্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র ব্যবসায়িক সংগঠন। যাহা বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এর “এ” শ্রেণীভুক্ত সদস্য। প্রতি দুই বছর অন্তর অত্র সংগঠনের নির্বাচন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা করা হয়ে থাকে।অত্র সংগঠনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব-পশ্চিম জোনের সকল নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের সকল ব্যবসায়িক স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে তদারকি করে থাকে। স্বার্থ সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য। বর্তমানে এই দপ্তরে তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী আছে ১১৩০ জন।বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তর অন্যান্য সকল বিভাগের মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ, সিগনালিং, পি-ওয়ে সামগ্রী ও দৈনন্দিন কাজের জন্য সকল পণ্য যেমন কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ক¤েপানেন্ট, টিকেট, ফরমস ও স্টেশনারী, আইটি ইকুইপমেন্ট, লুব অয়েল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়/সংগ্রহ এবং সংগৃহীত মালামাল যথাযথ ও কার্যকরভাবে মজুদকরণ, বিতরণ এবং ব্যবহার ব্যবস্থাপনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত রয়েছে। রেলওয়ে সমুদয় মালামাল সরঞ্জাম বিভাগের প্রধান ইউনিট প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পাহাড়তলী। প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পাহাড়তলী দপ্তর হতে লোকোমোটিভের সকল দেশী ও বিদেশী যন্ত্রাংশ, বিভিন্ন ধরণের বিয়ারিং, ক্যারেজ এন্ড ওয়াগনের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পণ্য ক্রয়/সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এছাড়া বৈদেশিক উৎস হতে সংগৃহীতব্য বিভিন্ন ধরণের ক্যাপিটাল এসেট, কৌশলগত ক্রয় সংক্রান্ত কাজ দক্ষতার সাথে স¤পাদন করে আসছে। অন্যদিকে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পূর্ব ও পশ্চিম স্থানীয় বাজার ও স্থানীয় কারখানায় প্রস্তুতকৃত প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন বিভাগের পরিচালন কাজে যথা অফিসে ব্যবহার্য সামগ্রী, প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী ক্রয়/সংগ্রহ নিশ্চিত করে।বর্তমানে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী দপ্তরকে রেল পরিচালনার জন্য কাঙ্খিত মালামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী দপ্তরে মালামাল ক্রয়/সংগ্রহের ক্ষেত্রে পিপিআর-২০০৬, পিপিআর-২০০৮ নতুন করে পিপিআর-২০২৫ এবং বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারীকৃত বিভিন্ন আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করে ক্রয় প্রক্রিয়া স¤পন্ন করা হয়। পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী যে কোন ক্রয় প্রক্রিয়ার শুরুতে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুমোদন করাতে হয়। যাহার ইনভেন্ট্রি সেকশন প্রধান সরঞ্জাম দপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন।অতএব, আপনার নিকট আমাদের আরজি যে, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে তথা বর্তমান বাংলাদেশ রেলওয়ের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সিএিস দপ্তর সহ সরঞ্জাম বিভাগটি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বহাল রেখে পূর্বের ন্যায় মালামাল ক্রয় সংগ্রহের ব্যবস্থা করিয়া ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ বর্তমান বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিকায়ন করে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিচক্ষণতা ও দক্ষতার মাধ্যমে আপনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।
১ দিন আগে
বৈশাখের ভর দুপুর। মাথার ওপর সূর্য যেন অগ্নিবর্ষণ করছে। কিন্তু চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের উত্তাপ ছাপিয়ে গেছে সেই অগ্নিবর্ষণ। মানুষের উন্মাদনার কাছে হার মেনেছে বৈশাখের সেই তপ্ত দুপুর।শনিবার (২৫ এপৃল) বেলা শেষে এল শান্তির বার্তা। এবারের ১১৭ তম বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ। যিনি সবার কাছে ‘বাঘা’ শরীফ নামে পরিচিত। আর তাতে তার হয়ে যায় হ্যাটট্রিক। খেলায় রানারআপ মো. রাশেদ।সূত্রমতে, এবারের বলীখেলায় অংশ নিয়েছিলেন ১০৮ জন বলী। নবীন থেকে প্রবীণ সবার লক্ষ্য ছিল একটাই, লালদীঘির শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াইটি গিয়ে ঠেকে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী গতবারের চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ ও মো. রাশেদের মধ্যে।ফাইনালে রিংয়ের চারপাশ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। ঢোলের বাদ্য আর দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারে মেতে উঠেছে পুরো এলাকা। লড়াই শুরু হতেই দেখা গেল কৌশল আর শক্তির অপূর্ব সমন্বয়। কখনো রাশেদ আক্রমণ করছেন, তো কখনো শরীফ তা দুর্দান্ত দক্ষতায় সামলে নিচ্ছেন। এভাবে চলল টানা ২৫ মিনিট। শেষ মুহূর্তে হুট করেই নিজের কৌশল বদলে ফেললেন শরীফ। রাশেদকে ভারসাম্যহীন করে এক নিপুণ প্যাঁচে মাটিতে ফেলে দিতেই রেফারির বাঁশি বেজে উঠল। বাঘা শরীফ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করলেন। অরণ্য তৌফিকএর আগে খেলায় বাজিমাত করেছেন ঢাকা হরাইজন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী অরণ্য তৌফিক। ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর হারিয়ে দিয়েছেন তার চেয়ে ১২ বছর বেশি বয়সের মোহাম্মদ মানিককে।শনিবার ঢাকা থেকে লালদীঘির মাঠে এসে পৌঁছান তৌফিক। সঙ্গে এসেছেন তার কোচ সামির। তৌফিক কুস্তি ও রেসলিং পছন্দ করেন ছোটবেলা থেকেই। ঢাকায় মাঝেমধ্যে খেলেন। এবার শখের বশে জব্বারের বলীখেলায় আসলেন প্রথমবার।তৌফিক ও হালিশহরের মানিকের দ্বৈরথটি এক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়। রিং থেকে নামার মুখেই তিনি জড়িয়ে ধরেন কোচ সামিরকে।তৌফিক বলছিলেন, ‘আমার চেয়ে অনেক স্থুলকার বড় একজনের সঙ্গে খেলেছি। সাহস করে নেমেছি। প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেলেও সাহস হারাইনি। শেষপর্যন্ত জিতে গেছি। ভালো লাগছে।’ঢাকার মগবাজার এলাকার বাসিন্দা তৌফিক। বাবা তৌফিকুল আলম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা। মা রোকসানা চিকিৎসক। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তৌফিক বড়।তৌফিক জানান, তার বাবা মা তাকে খেলার বিষয়ে উৎসাহ দেন। টিভিতে নিয়মিত রেসলিং দেখেন তিনি। ভবিষ্যতে একজন বড় কুস্তিগির হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।তৌফিক এবার জব্বারের বলীখেলার সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রতিযোগী। জেতার পর দারুণ উচ্ছ্বসিত। ‘আগে অনেক শুনেছি এ বলীখেলার কথা। এখন সামনাসামনি দেখলাম।’শতবর্ষী আবদুল জব্বার বলীখেলা এবার ১১৭ বছরে পা দিল। এবার শতাধিক বলী অংশ নেন। ১৯০৯ সালে বদরপাতির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার প্রচলন করেন। তখন উদ্দেশ্য ছিল নিছক বিনোদন নয়, বরং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের তরুণদের শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও সাহসী করে গড়ে তোলা। ১১৪ বছর ধরে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ এই আয়োজন চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালদীঘি ঘিরে আয়োজিত কয়েক কিলোমিটারের এই বৈশাখী মেলায় কেউ গামছা বেঁধে, কেউ ছাতা হাতে, আবার কেউ গাছের ছায়ায় ঠাঁই নিয়ে চাতক পাখির মতো বেলা দেখেছেন।
১ দিন আগে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর হঠাৎ বদলে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর তেলের পাম্পগুলোর দৃশ্যপট। গেলেই মিলছে সোনার হরিণ অকটেন-পেট্রোল। গত দেড় মাসের মতো পা¤পগুলোতে এখন নেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। প্রায় ফাঁকা পাম্পগুলো।শুক্রবার (২৪ এপৃল) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর, নতুন ব্রিজ, পাঁচলাইশ, অক্সিজেন, ওয়াসা মোড়, লালদীঘি ও গণি বেকারি সংলগ্ন একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। পা¤প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পগুলোতে বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক। বিশেষ করে অকটেন সরবরাহ বাড়ানো এবং সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়ার কারণে বাজারে চাপ অনেকটাই কমে গেছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হতো না, এখন চালকরা ইচ্ছেমতো তেল নিতে পারছেন। এতে ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত সেবা পাচ্ছেন তারা।গ্রাহকদের অভিযোগ, তেলের দাম বাড়াতেই এতদিন জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি করা হয়েছিল। যেভাবে এখন সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে সংকট তৈরী করা হয়েছে। তেলের পাম্পের ভিড় এখন গ্যাস রি-ফুয়েলিং স্টেশনে শুরু হয়েছে।আহসান উল্লাহ নামে এক সিএনজি চালক জানান, তারা নগরীর যে কোন স্টেশনে গ্যাসের জন্য গেলে মাইলেরও অধিক ভিড় দেখছেন। রি-ফুয়েলিং স্টেশনের মালিক ও কর্মচারীরা বলছে, গ্যাস সংকটের কারণে চাপ কম, তাই রিফুয়েলিং করতে সময় লাগছে। এতে গ্যাস চালিত যানবাহনগুলোর ভিড় বাড়ছে। নগরীর টাইগার পাস মোড়ের ইন্ট্রাকো সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশনে গ্যাস রি-ফুয়েলিং করতে আসা প্রাইভেটকার চালক রেজাউল করিম বলেন, শুক্রবার সকাল ৯ টায় গ্যাস নিতে এসে লাইনে দাড়িয়েছি। এখন দুপুর দেড়টা বাজে। এখনো পর্যন্ত গ্যাস নিতে পারিনি। সামনে যে লাইন আছে তাতে মনে হচ্ছে আরও এক ঘন্টা সময় লাগবে। এভাবে নগরীর প্রতিটি গ্যাস রি-ফুয়েলিং স্টেশনে ভিড় জমে আছে বলে জানান গ্যাস নিতে আসা চালকরা। অন্যদিকে স্বস্তির নিংশ্বাস ফেলছেন তেলের পাম্পগুলোর কর্মচারী ও তেল নিতে আসা যানবাহন চালকরা। তারা বলছেন, আগে যেখানে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি থাকতো এখন সেখানে স্বাভাবিক সময়ের মতোই অল্প কিছু গাড়ি থাকছে। কোন কোন পা¤েপ কর্মরতরা অলস সময় কাটাচ্ছে। নগরীর গণি বেকারি সংলগ্ন কিউ সি ট্রেডিংয়ে অকটেন নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক রহিম উল্লাহ বলেন, আমি মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করি। এ কয়েকদিন সীমাহীন কষ্ট করতে হয়েছে। এক ঘণ্টা, কোন সময় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়েছে। হঠাৎ দেখি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরই দেখি পা¤েপর চিত্র পাল্টে গেছে। তেল নেওয়ার কোনো লিমিটেশন নেই। ফুল ট্যাংক লোড করে নিতে পারছি। চট্টগ্রাম মহানগরীর গাড়ির বেশি চাপ থাকা পা¤েপর একটি দামপাড়া এলাকার মেসার্স সিএমপি ফিলিং স্টেশন। দেড় মাস ধরে রাতদিন লাইন থাকতো পা¤পটিতে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে উল্টো চিত্র মিলেছে। শুক্রবার সকালে পা¤পটিতে গাড়ির কোনো লাইন ছিল না।একই চিত্র দেখা গেছে নগরীর নাছিরাবাদ ও কাতালগঞ্জ এলাকার পা¤পগুলোতেও। আগে যেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লম্বা লাইন থাকতো, সেখানে এখন স্বাভাবিক বিক্রি হচ্ছে। কিছু পা¤েপ একসময় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ির লাইন থাকলেও বর্তমানে সেই দৃশ্য একেবারেই অনুপস্থিত।পা¤প মালিকদের ভাষ্য, ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে অকটেনের ক্ষেত্রে সরবরাহ উন্মুক্ত করে দেওয়ায় বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে। এতে একদিকে যেমন গাড়ির চাপ কমেছে, অন্যদিকে মানুষের মধ্যে থাকা আতঙ্কও অনেকটাই দূর হয়েছে।কিউ সি পা¤েপর কর্মচারী মো. আলমগীর বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পর বুধবার একটু চাপ ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চাপ একদম কমে গেছে। অনেকে আগে অকটেন-পেট্রোল মজুত করেছিল, দাম বাড়ানোর পর এখন সেগুলো ব্যবহার করছে। এজন্য পা¤েপ চাপ কমে গেছে।তিনি বলেন, দুইদিন আগেও সবাই ট্যাংকি ভরে অকটেন নিতে চাইতো। এখন নিচ্ছে তিনশ থেকে পাঁচশ টাকার মতো। এখন কেউ আর অতিরিক্ত তেল কিনছেন না। আতঙ্ক প্রায় কেটে গেছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির আগে বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সামনে তেলের দাম বাড়বে কিংবা সরবরাহ কমে যাবে। সেই আশঙ্কা থেকে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু দাম সমন্বয়ের পর এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ফলে সেই মজুত তেল এখন বাজারে ব্যবহার হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ সীমাবদ্ধ না রেখে উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এতে পা¤পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় কমেছে এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে। মানুষের মধ্যে যে 'প্যানিক' তৈরি হয়েছিল, সেটিও কেটে গেছে।সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, অকটেন ও পেট্রোলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ডিজেলের ক্ষেত্রে এখনো কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে ডিজেলের চাহিদা বেশি থাকায় এই সংকট পুরোপুরি কাটেনি। তবে সংকট কাটাতে সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে ডিজেল আমদানির চেষ্টা করছে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিজেল ও অপরিশোধিত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ দেশে আসতে পারেনি। তবে অকটেন ও পেট্টোল দেশে তৈরী হত। এরপরও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দেয়ার কথা বলেন ডিলার ও পাম্প মালিকরা। ফলে আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি তেল নির্ভর যানবাহনের চালক ও মালিকরা অকটেন ও পে্েট্রালের জন্য দেশের সবগুলো পেট্রোল পাম্পে ভিড় জমাতে শুরু করে। যা একপর্যায়ে দীর্ঘ হতে থাকে। এ সময় সরকার ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দেশে অকটেন ও পেট্রোলের কোন সংকট নেই বলে দাবি করেন। তবে ডিপো ও পাম্প মালিকরা তেল মজুত করছে বলে স্বীকার করেন বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। যা সত্যে পরিণত হল সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর। তেলের মূল্য বাড়ার ঘোষণার পরপরই উধাও হয়ে গেল সরবরাহ সংকট।
৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর অনিয়ম তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক সম্প্রতি মো. রাজু আহমেদ এ বিষয়ে চিঠি দেন বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনকে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে শ্রমিক, কর আদায়কারী, অফিস সহায়ক, সড়ক তদারককারী, সুপারভাইজার ও সড়ক পরিদর্শকসহ বিভিন্ন পদে বিপুল জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ করে তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে অন্তত ১৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এসব নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, নিয়োগ পরীক্ষার রেকর্ড এবং নিয়োগপত্রসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই চাকরির ব্যবস্থা করেছেন এবং পরে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়ন করা হয়। শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিয়েই একলাফে উচ্চ গ্রেডের পদে পদায়ন করা হয়েছে অন্তত ৬৪ জনকে, যা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। চসিকের জনবল কাঠামো অনুযায়ী, শ্রমিক পদ ২০তম গ্রেডের হলেও, সেখান থেকে সরাসরি ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী, ১৬তম গ্রেডের কর আদায়কারী বা অনুমতিপত্র পরিদর্শক পদে পদায়ন করা হয়েছে।এছাড়া রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে মারধরের ঘটনাও ঘটে, যা তখন বেশ আলোচিত হয়। কাজের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকৌশলী মো. গোলাম ইয়াজদানী ঠিকাদারদের হামলার শিকার হন।সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদকালে নগরের চারটি ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি ও দোকান-অফিস থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ (ডোর-টু-ডোর) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মেসার্স পাওয়ার সোর্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট সার্ভিস ও চান্দগাঁও ক্লিনার্স সার্ভিস। এসব প্রতিষ্ঠান তৎকালীন মেয়র ও এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন ছিল বলেও বিতর্ক তৈরি হয়। এ ঘটনায় সাবেক মেয়রের ব্যক্তিগত নথি, তার দায়িত্বকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যাদেশ প্রদানের দলিল এবং বর্জ্য সংগ্রহের চুক্তিপত্রসহ সব প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তলব করেছে দুদক। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এসব নথি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশনকে।চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩ দিন আগে