চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি একটি বড় কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সংঘটিত এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে বন্দরজুড়ে। আমদানি-রপ্তানিমুখি কনটেইনার চুরির এমন ঘটনা একের পর এক চলছে। ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেই দায় সারছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।কনটেইনার চুরির বিষয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকের মাঝে ধারণা থাকলেও তাদের কারও কিছুই বলার সুযোগ নেই। সামগ্রিক ব্যবসায় ক্ষতির ভয়ে মুখ বন্ধ ব্যবসায়ীদের। তাদের মুখে এখন শুধুই প্রশ্ন। যেখান থেকে মিলছে উত্তরও। কিন্তু এ নিয়ে কারো কোন মাথা-ব্যাথা নেই। এ অবস্থায় আমদানি-রপ্তানি নিয়ে চরম আতঙ্কে ভূগছেন ব্যবসায়ীরা।ব্যবসায়ীদের ধারণা, কনটেইনার চুরির নেপথ্যে জড়িত খোদ বন্দরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক লোকজন। তাদের মুখে প্রশ্ন, বন্দর চত্বরের মতো সুরক্ষিত ও সিসিটিভি ক্যামেরার ভেতর থেকে বিশাল আকৃতির কনটেইনার চুরি করা একার পক্ষে কীভাবে সম্ভব? এর পেছনে টার্মিনাল অপারেটর, বন্দর ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে।কিন্তু তারা কারা তা বলার সুযোগ নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সিসিটিভি ব্যবস্থার কারসাজিকে দায়ী করে ব্যবসায়ীরা বলছেন. এর আগেও বন্দর থেকে এ ধরনের বেশ কয়েকটি কনটেইনার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা গায়েব হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ ধরণের প্রায় ২৫০টি কনটেইনারের হিসাব মেলাতে পারছে না। যা বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি ফুটিয়ে তোলে।সূত্র মতে, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি-২ বার্থে কনটেইনার খালাস করে এমভি এমসিসি ডানাং। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে (কনটেইনার নং- এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) আসে সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স (কাপড়ের রোল)।আমদানিকারকের পক্ষে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান। অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৩০ আগস্ট কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ গোল্ড স্টার গার্মেন্টেসের আমদানিকৃত কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনারটি কিপডাউন দিতে পারেননি। এরপর কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি। এরপর গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ফাঁস হয় কনটেইনারটি গায়েব হওয়ার ঘটনা। এ নিয়ে বন্দরজুড়ে তোলপাড় চলছে।সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে তা পাওয়া যায়নি। কনটেইনারটিতে আসা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে আমাদের গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য বায়ারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।তিনি বলেন, আমাদের অভিযোগের পর শুনেছি বন্দর কর্তৃপক্ষের ছয় সদস্যের কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কনটেইনারটির কোন হদিস দিতে পারছে না। বারবার কনটেইনার চুরির ঘটনা ঘটলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে। একটি ঘটনায় দু‘জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।কনটেইনার চুরির ঘটনা একের পর এককনটেইনার চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়, চলতি বছরে অন্তত চারটি কনটেইনার চুরির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢ-৮১-০০০৩ নম্বরের একটি ট্রেইলার ব্যবহার করে মেসার্স প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সাবেক জেটি সরকার সাইফুল ইসলাম মজুমদারের যোগসাজশে বন্দর থেকে বের করে নেয়া হয় তিন কোটি টাকা মূল্যমানের এক পণ্যের কনটেইনার।তার সহযোগী হিসেবে কাজটি করেন একই সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের আরও দুই জেটি সরকার মোরশেদ আলম ও সাইদুর রহমান। এতে বিপদে পড়েন আমদানিকারক ও লোকাল সিএন্ডএফ এজেন্ট। মূলত রাতের এই সময়টিতে বন্দরের নিরাপত্তা তদারকি তুলনামূলক শিথিল থাকার সুযোগেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলার নথিপত্র থেকে মিলেছে এ তথ্য।বন্দর থানা সূত্র জানায়, ঘটনার পর মোরশেদ আলম ও সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযোগের তীর যার দিকে, সেই সাইফুল ইসলাম মজুমদারকে ঘিরে রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৭ সালেই তার জেটি সরকার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় কীভাবে বন্দরে প্রবেশ করছেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এছাড়া তার নাম মামলার কপিতে না থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য।এ বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও সাড়া মেলেনি।তদন্তের নামে ভাওতাবাজিচট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ওঠানামা করে হাজার হাজার কনটেইনার। এগুলো হ্যান্ডলিং নিয়ন্ত্রণ করেন জেটি সরকার। যাদের দায়িত্ব বন্দর থেকে পণ্য খালাসের সময় সিএন্ডএফ এজেন্টের পক্ষে সমন্বয় করা। কিন্তু এই দায়িত্বই এখন পরিণত হচ্ছে অনিয়মের হাতিয়ারে। ঘটছে অহরহ চুরির ঘটনা।যা নিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও ফলাফল শূন্য। যা পুরো ভাওতাবাজি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বরং ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, কাস্টমসের ডিউটি ও বন্দরের সব চার্জ পরিশোধের পরও কনটেইনার গায়েব হয়, এটা কীভাবে সম্ভব? ভুয়া ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে বা ডিজিটাল কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেমে কারসাজি করছে কারা?জেটি সরকারের কার্যক্রম তদারকির সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, প্রবেশ-বাহিরের বায়োমেট্রিক নজরদারি এবং লাইসেন্স বাতিলের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা কার্যকরেও পরামর্শ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, বন্দরকর্মী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের স¤পৃক্ততা ছাড়া একটি কনটেইনার ছাড়ার সুযোগ নেই। শুধু শ্রমিকদের আটক করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার কোনো যুক্তি নেই বলেও জানান তিনি।চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ আল আমিন বলেন, সাধারণত একটি কনটেইনার বন্দর থেকে বের হওয়ার আগে একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়। কাস্টমসের পরিদর্শনসংক্রান্ত তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস গ্রুপ ঘোষিত পণ্যের মূল্য, এইচ এস কোড এবং প্রযোজ্য আইন যাচাই করে শুল্ক ও কর নির্ধারণ করে।শুল্ক-কর পরিশোধের পর শিপিং এজেন্ট ডেলিভারি অর্ডার দেয় এবং পণ্যের কাস্টডিয়ান হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেলিভারি প্রক্রিয়া স¤পন্ন করতে সহায়তা করে। একটি কনটেইনার ছাড়পত্র পাওয়ার আগে বিভিন্ন ধাপে এবং একাধিক চেকপয়েন্টে কাগজপত্র যাচাই করা হয় বলে জানান তিনি।তিনি আরও জানান, বন্দর থেকে পণ্য বের হওয়ার আগে কাস্টমস চূড়ান্ত যাচাই করে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কোন পর্যায়ে কথিত অনিয়ম ঘটেছে, তা তদন্ত করে বের করতে হবে বলে জানান তিনি। কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বা শিপিং এজেন্টের স¤পৃক্ততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।জালিয়াতি হচ্ছে যেভাবেএমভি এমসিসি ডানাং জাহাজে করে বন্দরে আসার পর কনটেইনারটি এনসিটি-২ জেটিতে খালাস করা হয়। পরে এটি সাইফ পাওয়ার টেক এলটিডি পরিচালিত সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়। কাস্টমসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট সেটি সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কনটেইনারটির সেখানেই থাকার কথা।কিন্তু মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১১ আগস্ট এন-৪ সিস্টেমে কনটেইনারটির অন-ডেট, অন-চ্যাসিস ডেলিভারি দেখানো হয়। সিস্টেমে দেখা যায়, বন্দরের ম্যানিফেস্ট শাখার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের হাই এক্সটার্নাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নেয়ামুল হক সরকার ১৪৫৩২ নম্বর কর্মী আইডি ব্যবহার করে সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে এন্ট্রিটি করেন।তবে এজাহারে নেয়ামুল হক নিজে কনটেইনার সরানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কোনো অভিযোগ নেই। শুধু বলা হয়েছে, তার কর্মী আইডি ব্যবহার করে ডিজিটাল এন্ট্রি করা হয়েছে। কে প্রকৃতপক্ষে এন্ট্রিটি করেছেন এবং কার নির্দেশে করেছেন, এখন সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কনটেইনার সরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে আরও একটি বড় অসঙ্গতি পাওয়া যায়।বন্দর কর্মকর্তারা অন-ডেট, অন-চ্যাসিস অ্যাসাইনমেন্টের একটি কপিতে ৪০ নম্বর সিরিয়ালের বিপরীতে থাকা স্বাক্ষর পরীক্ষা করে দেখেন। সেটি সিসিটি-এনসিটি ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. ইস্কান্দার ফারুকের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছিল।এজাহারে আরও বলা হয়েছে, কাগজপত্র আসল বলে দেখাতে ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। এতে তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে: স্বাক্ষর যদি জাল হয়, তাহলে সেই কাগজের ভিত্তিতে বন্দরের ডিজিটাল সিস্টেমে কীভাবে মুভমেন্ট এন্ট্রি তৈরি হলো এবং সেই এন্ট্রির ভিত্তিতে কনটেইনারটি কীভাবে বাস্তবে বন্দর থেকে বেরিয়ে গেল? তদন্ত কর্মকর্তারা অবশ্য তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।আতঙ্কে ব্যবসায়ীরাচট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে একের পর এক কনটেইনার চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এ পর্যন্ত সংঘটিত স কয়টি চুরি সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল থেকে হয়েছে। যা পরিচালনা করছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাইফ পাওয়ারটেক।ভ্যবসায়ীদের ভাষ্য,কনটেইনার চুরির ঘটনা শ্রমিকদের রক্তঝরা ঘাম আর দেশের ব্যাংকিং লোনে পরিচালিত ব্যবসায় কোটি টাকার বড় ধাক্কা। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ মজুর ও অর্থনীতি। যা সামলাতে মাশুল গুণতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।এমন কথা বলেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিমাসে কনেটইনার গায়েবের ঘটনা ঘটছে, যা সত্যিই উদ্বেগ ও আতঙ্কের।সম্প্রতি গায়েব হওয়া কনটেইনারের সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, একের পর এক কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা সত্যিই আতঙ্কিত। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখনও এ ধরণের প্রায় ২৫০টি কন্টেইনারের হিসাব মেলাতে পারছে না বলে জানান তিনি।বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, কনটেইনারগুলো কীভাবে বন্দর থেকে বের হচ্ছে এবং বন্দর বা টার্মিনালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব ঘটনার সাথে জড়িত আছে কি না, তা নজরে রাখছে পুলিশ।
১ মাস ১৩ দিন আগে
নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে উঠলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে এলপিআরে যাওয়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মনি লাল দাস। তবে অবসরে গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না তার ও স্ত্রী সেপিকা দাসের।দুদকের জালে ধরাশায়ী হচ্ছেন বিপিসির দুরন্ধর এই কর্মকর্তা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শেষে এ সক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখসহ স্বামী-স্ত্রী দু‘জনের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, বিপিসির কর্মকর্তা মনি লাল দাস ও তার স্ত্রীর নামে পাওয়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তালিকাসহ একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে আলোচ্য সম্পদগুলোর জন্য পৃথকভাবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, চাকরির নিয়োগে জালিয়াতিসহ মনি লাল দাসের সব ধরণের অনিয়মের বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচিত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিপিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। হয়েছে অভিযোগও। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।ইতোমধ্যে বিপিসির চাকরি থেকে এলপিআরে যাওয়ার পর তার নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য মুছে ফেলতে ফাইলগুলোও গায়েব করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে বিপিসি জুড়ে। যার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা।দুদক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মনি লাল দাস বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মনি লাল দাস ও তার স্ত্রী সেপিকা দাসের নামে আড়াই কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় সংস্থাটি।দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে, মনি লাল দাসের দায় বাদে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮০৪ টাকা। পাশাপাশি তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয় ৯৪ লাখ ১০ হাজার ৪০৩ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ১৯৩ টাকা। বাকি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।অন্যদিকে মনি লাল দাসের স্ত্রী সেপিকা দাসের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ পাওয়ায় যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৯২৭ টাকার। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় মাত্র ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭২ টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ২৫৫ টাকা আয়ের উৎস কম পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রেখেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।বিপিসি সূত্র আরও জানায়, ২০২৩ সাল থেকে ১৩ আগষ্ট ২০২৬ সালের অবসরে যাওয়ার আগে তিনি আরও রমরমা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন, তার হিসাব মিলালে শত কোটি টাকা তিনি সরকারের ক্ষতি করেছেন। এসব করে তিনি ভারতে টাকা পাচার করেছেন।অবৈধ আয় বৈধ করতে স্ত্রীকে বানানো হয় মাছ ব্যবসায়ীমনি লাল দাস সরকারি চাকুরিজীবী হলেও তার স্ত্রী সেপিকা দাস একজন গৃহিণী। কিন্তু তিনি ২০১০ ও ২০১১ করবর্ষ হতে সরকারের একজন নিবন্ধিত করদাতা। সকল সম্পদের হিসেবে তার আয়কর নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। তাতে নিজেকে কমিশন ব্যবসা হতে আয়, সঞ্চয়পত্রের সুদ, এফডিআরের সুদ, শেয়ার ব্যবসা ও মাছ চাষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, সেপিকা দাস নিজেকে কমিশন ব্যবসায়ী কিংবা মৎস্য চাষী হিসেবে উল্লেখ করলেও বান্তবে তিনি কখনোই কোন প্রকার কমিশন ব্যবসায়ে যুক্ত ছিলেন না। এছাড়া মৎস্য চাষী হিসেবে দাবি করলেও দুদকের কাছে মৎস্য চাষের স্বপক্ষে কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনও করতে পারেননি। কিংবা এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রও তিনি দাখিল করতে পারেননি। বরং স্বামীর অবৈধ অর্থ তার নামে আয়কর নথি খুলে বৈধ করার চেষ্টা করেছিলেন।চাকরির নিয়োগেও মনি লাল দাসের জালিয়াতিবিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি ম্যানেজার পদের জন্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যুনতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাশ চাওয়া হয়। কিন্তু মনি লাল দাশের স্নাতকের রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি। এ কারণে বিপিসির ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তার আবেদন করার যোগ্যতাই ছিল না। কিন্তু নিয়োড় পেয়েছেন সেই মনি লাল দাস।আবার সময়ে অসময়ে প্রমোশন পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এমন কোন বছর নেই ভারত সফর করেননি। কখনও একাধিক দফায় সফরের রেকর্ড রয়েছে। তদন্ত করা হলের পিকে হালদারের মতো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ পাওয়া মো. মনিরুল ইসলাম চাকরি ছেড়ে দিলে কপাল খুলে যায় মনি লাল দাসের। অভিযোগ উঠে, তিনি বিপিসির পেছনের দরজা দিয়ে আসীন হয়ে সামনের দরজা দিয়ে অবসরে চলে গেছেন।এ বিষয়ে জানতে মনি লাল দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জোরে এসএমএসে খুদে বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনরকম সদুত্তর পাঠাননি।উল্লেখ্য, মনি লাল দাস বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি সম্প্রতি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন শেষে পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) বা অবসর প্রক্রিয়ায় আছেন।তিনি বিপিসিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং পূর্বে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক (এমআইএস) হিসেবে বিপিসিতে কর্মজীবন শুরু করেন, বিপিসির তথ্য অনুযায়ী ১৩ আগস্ট ২০২৬ সালে তার অবসর সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়।
১ মাস ১৪ দিন আগে
সাগরিকা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে ঝুঁকিতে ফেলে আধুনিক এলপিজি টার্মিনাল ও বোতল প্ল্যান্ট বানাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যেখানে একসঙ্গে ৪০ হাজার টন এলপিজি রাখা হবে। এ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু করছে বিপিসি।সূত্র জানায়, প্রায় ৫০ একর জমিতে বিপিসি আধুনিক এলপিজি টার্মিনাল ও বোতল প্ল্যান্ট বানাতে চাইছে। যেখানে একসঙ্গে ৪০ হাজার টন এলপিজি রাখা হবে। আর এই টার্মনাল সাগরিকা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে। এই জমির বাম পাশ দিয়েই চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোডের সংযোগ ফ্লাইওভার। পশ্চিমে মাথার ওপর দিয়ে নির্মিত পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চার লেনের সড়ক। এই সড়কটি দেশের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর’-এর পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। আবার এই সড়ক দিয়েই কর্ণফুলী টানেল হয়ে নদীর দক্ষিণ পাড়ের যোগাযোগ। জমির ডান পাশে সবুজেঘেরা প্রকৃতি। আছে ধানিজমি-বিল। জমির আশপাশেই আছে হাজারো মানুষ, আছে জেলেদের বসতি। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে চোখ পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। যদিও জমিটি এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় রয়েছে। যেখানে বিপিসি এলপিজি টার্মিনাল ও বোতল প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন সেই জমি পেতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিচ্ছে বিপিসি। জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের খবর জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এলাকাবাসী। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি এবং একেবারে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় থাকায় লোভ সামলাতে না পেরেই এ জমির ওপর নজর পড়েছে বিপিসির। স্থানীয়রা এ বিষয়ে জ্বালানি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাবেত আলীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল সেই জমি পরিদর্শনে যান ৫ সেপ্টম্বর শনিবার দুপুরে। দলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বিপিসি, চট্টগ্রাম বন্দর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চুয়েট, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শন শেষে কমিটিপ্রধান সাবেত আলী জানালেন, ‘অভিযোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। অভিযোগগুলো আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডিতে আমলে নিতে বলব। ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড অনুযায়ী সেইফটি এবং বাফার জোনের দূরত্ব ঠিক আছে কি না সেগুলোই স্টাডিতে উঠে আসবে। অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে মডেলিং হবে। এরপরই বাস্তবায়নের পালা। এখন কমিটি দ্রুত সময়ে রিপোর্ট দিবে। এরপরই মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে।’এলাকাবাসী জসিম উদ্দিন জিয়ার দাবি—প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সেফটি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ফায়ার অ্যান্ড এক্সপ্লোশন রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট এবং এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করা। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হলে প্ল্যান্টটি অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে।স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ নবীর ভাষ্য, এলপিজি একটি অতি-দাহ্য ও চাপযুক্ত গ্যাস হওয়ায় যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, লিকেজ বা ছোট দুর্ঘটনা থেকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ঠিক কাছেই অবস্থিত সাগরিকা স্টেডিয়াম, যা একটি প্রধান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ভেন্যু এবং খেলার সময় যেখানে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় ও হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। এমন একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় এলপিজির বিশাল মজুদ স্থাপন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় অপূরণীয় মানবসম্পদ ও জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করবে।স্থানীয় আরেক অধিবাসী আবু রায়হান আরও বড় ঝুঁকির কথাই জানান। তার শঙ্কা, প্রকল্পের গা ঘেঁষে থাকা চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড। এই রিং রোডটি চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহন ও নগরের অন্যতম প্রধান সংযোগ সড়ক। যদি কখনো কোনো দুর্ঘটনায় এই টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তবে পুরো রিং রোডের যোগাযোগব্যবস্থা স্তব্ধ হবে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বন্দরমুখী মূল সরবরাহ সাইকেলের ওপর এবং জরুরি ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।প্রসঙ্গত, ২০২২ সালেও দক্ষিণ কাট্টলির এই জমিতে তখনকার সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন ও সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের যৌথ উদ্যোগে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ তৈরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। হোসনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল এই স্টেডিয়াম।সেসময়ে পুরো জমির মূল্য ছিল আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা। রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের পাশে শেখ হাসিনার নামেও ‘সবুজ পার্ক’ নির্মাণের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তারা। এই স্টেডিয়ামের পাশের খালি জায়গায় মোস্তফা হাকিম গ্রুপ একটি কাভার্ডভ্যান ও স্কেভেটর ইয়ার্ড বানিয়েছিল। স্টেডিয়ামের অপর পাশে প্রায় পৌনে তিন একর জায়গা ভরাট করে তারা চীনের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেই পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়।জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এই জমি উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেওয়া হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। এরপর চারিদিকে দেয়াল নির্মাণ করে নিজেদের জিম্মায় নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এখন উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সেই জমিতে ব্লক বানানোর কাজে ব্যবহার করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। এই ব্যবহার চলাকালীন বিপিসি এলপিজি টার্মিনাল ও বোতল প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন সেই জমি পেতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিচ্ছে বিপিসি।
১ মাস ১৬ দিন আগে
দেশে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে গত ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল (জেট এ-১) লোড করে চারটি ট্যাংক লরি রওনা হয় ঢাকার কুর্মিটোলা অ্যাভিয়েশন ডিপোর (কেএডি) উদ্দেশে। লরিগুলোতে ছিল প্রায় ৮১ লাখ টাকা দামের ৭২ হাজার ১৩২ লিটার জেট ফুয়েল। অভিযোগ ওঠে, ওই তেল কেএডিতে না নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে বাইরে। চুরি হওয়া জ্বালানি উচ্চমূল্যের পণ্য হওয়া সত্ত্বেও তা সাধারণ কেরোসিন কিংবা পেট্রল, অকটেনের সঙ্গে বাজারে বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন পদ্মা অয়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিপিসি। তদন্তে প্রমাণিতও হয় তেল চুরির বিষয়টি। এরপর গত ১৫ এপ্রিল পদ্মা অয়েলের অ্যাভিয়েশন ডিপোর ইনচার্জ ও সাবেক ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হক, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা ছামির উদ্দিন, চেকার আকতার কামাল এবং সিকিউরিটি বিভাগের নায়েক শওকত কাজীকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বদলি করা হয় কয়েকজনকে।তেল চুরির মূল হোতা হিসেবে চিক্নিত হলেও সাইদুল হক বড় গলায় পুরো ঘটনা অস্বীকার করার পাশাপাশি তদন্ত কমিটিকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাংক লরিগুলো কেএডিতে প্রবেশ করেছে বলে কমিটিকে মিথ্যা তথ্য দেন সাইদুল হক। তবে সিসিটিভি ফুটেজে ট্যাংক লরিগুলো কেএডিতে প্রবেশ না করার সত্যতা মেলে। চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী মানিক চন্দ্র রায় এবং সিকিউরিটি সুপারভাইজার মো. শওকত হোসেন কাজীকে গেট এন্ট্রি রেজিস্টারের তথ্য জালিয়াতির নির্দেশ দেন তিনি।গত ১২ এপ্রিল জমা দেওয়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সাইদুল হকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলে তিন দিন পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিসের পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে একাধিক চিঠি। গত ৮ জুন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অভিযোগপত্রে সাইদুল হককে তেল চুরির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।চিঠিতে তেল চুরির দায়ে তাকে অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দণ্ডের কথা বলা হয়। এগুলো হলো— নিম্ন পদে বা নিম্ন বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ, আর্থিক ক্ষতির অংশবিশেষ বা সম্পূর্ণ আদায় করা, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ এবং বরখাস্ত।এর যেকোনো একটি দণ্ড কেন প্রয়োগ করা হবে না, তা সাইদুল হকের কাছে জানতে চেয়ে ১০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। গত ১৬ জুন কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাবে সাইদুল হক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি তদন্ত কমিটিকে ‘কথিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।একই সঙ্গে স্বপদে ফিরতে গত ২৬ জুলাই উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। আদালত তার বরখাস্ত ও বদলি আদেশ স্থগিত করেছেন উল্লেখ করে বিপিসি এবং পদ্মা অয়েলকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। তবে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ ওই রিটের বিপক্ষে কোনো আপিল করেনি।সাইদুল হক এখন চট্টগ্রামে সংযুক্ত আছেন। ব্যবস্থাপক পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর তাকে এর চেয়ে ওপরের পদ উপ-মহাব্যবস্থাপকের কক্ষ ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাইদুলের পাশাপাশি জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।জানতে চাইলে পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাইদুল হককে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি দুদকেও চিঠি পাঠােনা হয়েছে। আরেকটি তদন্ত চলছে। নিয়ম মেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পদ্মা অয়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তেল চুরির ওই ঘটনা তদন্তে কিছুটা গড়িমসির পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্ত করতেও কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করে। পরে বিপিসি চেয়ারম্যানের নির্দেশে তা করা হয়।এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইস্টার্ন ব্যাংকে ‘স্যালারি সার্টিফিকেট’ জাল করার অভিযোগে সাইদুলকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় পদ্মা অয়েল। সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাইদুল হক দাবি করেছেন, তিনি কোনোভাবেই তেল চুরির সঙ্গে জড়িত নন, ষড়যন্ত্রের শিকার। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তার দাবি, ঘটনার সময় আমি অফিসে ছিলাম না। তখন দায়িত্বরত দুজন কর্মকর্তাকে বিশ্বাস করেছিলাম। তারাই আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি নিয়েও আপত্তি আছে। তারা তেল চুরির তথ্য যাচাইয়ের সময় আমাকে কিংবা অন্য কোনো স্টাফকে সঙ্গে রাখেননি। প্রকৃতপক্ষে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি দাবি করে সাইদুল হক জানালেন, দুজনকে দায়সারা বদলি করা হলেও তারা এখনো আগের স্থানেই রয়েছেন। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বদলি ও সাময়িক বরখাস্ত এগুলো তেমন কোনো শাস্তির মধ্যে পড়ে না। এগুলো অনেকটা সতর্ক করা বা ধমক দেওয়ার মতো। কঠোর শাস্তি হয় না বলেই ঘটনাগুলো বারবার ঘটছে।
১ মাস ১৭ দিন আগে
সম্পদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্নসাতের মামলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কথিত ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবা এবং শ্যালক মহিউদ্দিন ওরফে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি রাঙ্গুনিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলও।সূত্র মতে, সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির মৃত ওয়াহেদ আলীর পূত্র মোহাম্মদ জানে আলম (৫৫)।মামলাটির সি.আর মামলা নং- ৮৪৯/২০২৫ ইং (রাঙ্গুনিয়া) মূলে গ্রহণ করেন আদালত। ঘটনা তদন্তের পর আদালত মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত ইঞ্জিনিয়ার (লোহার রডের দোকানদার) শামসুল আলম তালুকদার ও তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।মামলার আরেক আসামি হলেন ১নং রাজানগর হাজী রহম আলী তালুকদার বাড়ীর মৃত আবুল হাসেম তালুকদারের পূত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তালুকদার প্রকাশ মোহন (৩৯)। তিনি কথিত ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের শ্যালক। তাদের সবাই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।মামলার এজাহারে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ক্ষমতাবলে ওয়ারিশান সনদ জাল করে মামলার বাদির বিপুল পরিমাণ জমির অবৈধ মালিক ও জবর দখল করে ভোগ করেন।এতে আপত্তি ও বাধা দিলে বাদিকে মারধর ও হামলা করে প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় ছিলেন বলে জানান মামলার বাদি জানে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যান লোহার রডের দোকানের ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম। সেখানেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় আসামি হন তিনি।পরে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে পুনরায় রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে গা-ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি রাজানগর ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিরাপদে আছেন। ওই বিএনপি নেতার লবিংয়ের কারণে পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করছে না।জানে আলম আরও বলেন, মামলা তুলে নিতে বিএনপির প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়িতে গত কয়েক মাস আগে আসামি ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের সাথে আমার বৈঠক হয়। কিন্তু জমি ফেরত দিতে রাজী না হওয়ায় কোন সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার বলেছে, তিনি অবৈধ মালিক হওয়া জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা।প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলাসহ একাধিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে অন্যতম প্রধান আসামি। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মাদ্রাসার অনুদান এবং এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ (যেমন- ইস্টার্ন কেমিক্যালস সংক্রান্ত টেন্ডার) এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগে তার নাম বিভিন্ন মামলার নথিতে উঠে এসেছে। শামসুল আলমের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ঠিকাদারি ব্যবসা থাকলেও গোপনে ছিল মাদকের ব্যবসা।
১ মাস ১৯ দিন আগে
রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেত্রী পরিচয়ে টানা লুটপাটে লুৎফা’ শিরোনামে সম্প্রতি দৈনিক ঈশান ও কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সিপিও দপ্তরের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা লুৎফা বেগম। তিনি সংবাদটিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। এমনকি হীন উদ্দেশ্যে এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, রেলওয়েতে চাকরির পর থেকে কোন কাজে ঘুষ নেওয়া তো দূরের কথা কারও কাছ থেকে এক কাপ চা খেয়েছি তার প্রমাণ নেই। এমন কথা কেউ বলতেও পারবেন না। প্রয়োজনে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মচারীর সাথে কথা বলে তার সত্যতা জানার চ্যালেঞ্জও করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার স্বামী উচ্চপদস্থ একজন সরকারি কর্মকর্তা। দুই মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত। আমার আত্নীয় স্বজনরাও দেশের বাইরে প্রতিষ্ঠিত। আমরা অত্যন্ত উচু বংশের উত্তরাধিকারী। এ অবস্থায় কোন রকম অনিয়ম-দূর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারে না।প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেভাবে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা মানহানিকর। এ সংবাদের কারণে চাকরিস্থলসহ সামাজিক ও পারিবারিকভাবে আমার সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। যা জাতীর বিবেক খ্যাত সাংবাদিকদের কাছে কোনোমতেই কাম্য নয়। আমি এ সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আশা করব ভবিষ্যতে প্রকৃত সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ছাড়া এ ধরণের মিথ্যা, বানোয়াট ও হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ থেকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকগণ বিরত থাকবেন। অন্যথায় আমি আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হব।
১ মাস ২১ দিন আগে
রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেত্রী পরিচয়ে টানা লুটপাটে লুৎফা
১ মাস ২২ দিন আগে
বদলির মুহুর্তেও রাঙ্গুনিয়া থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতালেন এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ
১ মাস ২৯ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের অধীনে ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহি ক্যারেজ বা বগি কেনা হয় চীন থেকে, যা খুবই নিম্নমানের। কিন্তু এই বগি কেনা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের এযাবৎ কালের সবচেয়ে উচ্চ দামে। নেপথ্যে লুট হয় ২০০ কোটি টাকা। যার মূলে রেলওয়ের বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন।যার সত্যতা উঠে এসেছে রেলওয়ের অডিট আপত্তিতেও। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অভিযোগেও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এই কারসাজির মুলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তৎকালীন পরিচালক ও বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) জড়িত। তাঁকে সহায়তা করেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার।এতে লাভবান হন প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও। এমন তথ্য ফাঁস করেছেন রেলওয়ের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এ ধরনের প্রকল্পের মালামাল কেনার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে খ্যাত আফজাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের বগি অতি উচ্চ দামে ক্রয় দেখিয়ে ২০০ কোটি আত্নসাৎ করেছেন। এর সত্যতার তথ্য মেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনের কথায়ও।তিনি বলেন, ২০২২-২৩ সালে ১০০ বগি কেনা হয় চায়না থেকে। আবার ২০২৫ সালে ইন্ডিয়া থেকেও কেনা হয় ২০০ বগি। যার প্রথম চালানের ২০ বগি আসছে বাংলাদেশে। কিন্তু ২০২২-২৩ সালে চায়না থেকে কেনা বগির সাথে ইন্ডিয়ান বগির বিশাল দামের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া ইন্ডিয়ান বগির তুলনায় চায়না বগি অত্যন্ত নিম্নমানের।তিনি আরও বলেন, ইন্ডিয়া থেকে কেনা বগির তুলনায় চায়না থেকে কেনা বগি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশী দাম দিয়ে কেনা হয়েছে। অথচ চায়না থেকে কেনা বগির দাম অনেক কম হওয়ার কথা। কিন্তু কেনা হয় অতি উচ্চ দামে। এতে সিন্ডিকেট লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সরকার।সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২-২৩ সালে কেনা চায়না ১০০ বগির প্রতিটি যাত্রীবাহী বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) বগির দাম পরে- ৫৭,৮৩৮২ ইউএস ডলার। একই বগি ২০২৫ সালে ইন্টারিম সরকারের আমলে ইন্ডিয়া থেকে কেনা প্রতিটি বগির বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) কেনা হয় ৩,১২০০০ ইউএস ডলার দামে। ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে ২৮.২৮১৫ ডলার বেশি দেয়া হয় চায়না বগিতে!! আবার ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে চায়না বগি খুবই নিম্নমানের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, বগিগুলোর দাম যেমনি অতি উচ্চ, তেমনি গুণগত মানও বেশ খারাপ। অতি অল্প সময়ে বগিগুলোর চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও আওয়ামী সরকারের দোসর হওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ক্ষমতা বলে যাত্রীসুবিধা হ্রাস করে লাগেজ ভ্যান ব্যবহার না করে যাত্রীবাহী সচল ট্রেনের চাকা খুলে নিম্নমানের চায়না বগিতে ব্যবহার করে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়েছে।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, দুর্নীতি করার উদ্দেশ্যে বগি ক্রয়ে পৃথক প্রকল্প না নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প মুল্যের আইটেমের মতো করে ১০০টি বগি কেনা হয়। এতে প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হয়েছেন।বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে কৌশলে চায়না প্রতিষ্ঠানের সাথে পাতানো টেন্ডার করে এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ দামে নিম্নমানের চায়না কোচ কেনেন। বিপুল কারসাজির মাধ্যমে এগুলো কিনতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও তৎকালীন ডিজির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন রোলিং স্টক বিভাগকে ব্যবহার করে।সেই সাথে পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের আওয়ামী সিন্ডিকেটের সব তথ্য অতি গোপনীয়তার সাথে রক্ষার লক্ষ্যে আফজাল হোসেনকে ডিজি পদে প্রমোশনের রাস্তাও তৈরি করে দেন তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী। নেপথ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার তাঁকে সহায়তা করেন। ফলে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তাদের দোসর রেলওয়ে ডিজি আফজাল হোসেনের ক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়ে যায়।আওয়ামী স্বার্থ সংরক্ষণকারী এ কর্মকর্তা (ডিজি) বর্তমানে তার অনুসারী কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। এসব বিষয়ে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বগি কেনার চুক্তিপত্রের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) স¤পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এত বড় দুূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা দুূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত করে দেখা দরকার। একই সঙ্গে জবাবদিহিতার স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তরফ থেকেও তদন্ত হওয়া উচিত।রেলভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যাশা, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তারা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আরো বলেন, দুর্নীতি যেই করুক, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা জরুরী।এ সংক্রান্ত আরও : -ডিজি আফজালের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে!!রেল লুটছে রেল কর্মকর্তারাই,শীর্ষে ডিজি আফজাল হোসেন!রেলের সর্বনাশ হচ্ছে যেসব কারণে!
২ মাস ৪ দিন আগে
রেলের অনবোর্ড কর্মীদের বেতন মেরে খাচ্ছে শাহ আলম
২ মাস ৫ দিন আগে
নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ে ক্রমেই অচ্যুত হয়ে উঠছেন ড বিসর্গ হাছান মাহমুদ, ডাক পাচ্ছেন না দলীয় অনুষ্ঠানেও। ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানেও দলের আমন্ত্রণ পায়নি চিকন চতুর সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাধারণ প্রবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তাঁকে অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পের কক্সপ্লেইনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল হক। প্রধান বক্তা সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী রতন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের নেতা খোকন শরীফ, হুমায়ুন মাকসুদ হিমু ও মোশারফ হোসেন বাবু। বেলজিয়ামে অবস্থান করলেও এই অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দলটির ইউরোপে অবস্থানকারী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ হাছান মাহমুদের ওপর বিরক্ত। তাঁদের ভাষায়, দলের কেউ তাকে পছন্দ করছেন না। সবাই তার ওপর বিরক্ত। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সমালোচিত নেতাদের একজন হিসেবে দলীয় কর্মীদের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।গত ১৬ জুলাই বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সহ-আয়োজনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর, মানবাধিকার এবং ভূ-রাজনীতি: প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন করা হয়েছিল। কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এই আয়োজনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বেলজিয়ামে থাকা হাছান মাহমুদকে।এ নিয়ে বসে নেই সাইলেন্ট কীলার হাছান মাহমুদও। বেলজিয়ামভিত্তিক একটি সূত্র জানান, অতিথি হিসেবে তাকে রাখা হচ্ছে না— এমন ইঙ্গিত পেয়ে একপর্যায়ে অনুষ্ঠানটিই বানচাল করার চেষ্টা চালান গোপনে।তবে হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ট এক ব্যক্তির দাবি, বেলজিয়াম ছাড়াও যুক্তরাজ্যে যাতায়াত থাকলেও দুই দেশের আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও হাছান মাহমুদ খুব একটা যান না বলে। রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কায় তিনি এসব অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন। লন্ডনে ছেলের সঙ্গে থাকলেও সেখানে অনেকটা আড়ালে থাকছেন তিনি।হাছান মাহমুদের ছেলে সাফওয়ান মাহমুদ লন্ডনে পড়াশোনা করছেন। মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ আমলে নাফিসা গ্রিন টিভি নামের একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের চেয়ারপারসন হিসেবে আবির্ভূত হন। আরেক মেয়ে সাকিলা জুমাইদা মাহমুদ পরিবারের সঙ্গেই আছেন। হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা বর্তমানে বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্য আসা-যাওয়ায় রয়েছেন। বেলজিয়ামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা এক প্রবাসী নেতা বলেন, ব্রাসেলস থেকে হাছান মাহমুদের বাড়ি প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে। তিনি সেখানেই থাকেন। বেলজিয়ামে তাঁর আরও অন্তত চারটি বাড়ি আছে। সম্প্রতি তিনি নতুন করে বেলজিয়ামের পাসপোর্ট নিয়েছেন।লাঞ্ছিত হচ্ছেন ঘাটে ঘাটেগত বছরের ১৯ ডিসেম্বর জার্মানির কোলনের উলিথজক্যাস্টরে আওয়ামী লীগের একটি সভায় উপস্থিত হওয়ার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি দল হাছান মাহমুদের দিকে তেড়ে যায়। তাঁরা আওয়ামী লীগের বর্তমান দুর্দশা ও দুর্নীতির অন্যতম কুশীলব হিসেবে তাঁকে সরাসরি দায়ী করেন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি নীরবে সভাস্থল ছেড়ে যান।ওই সময় বার্লিন থেকে যাওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা হাছান মাহমুদের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলেন, আপনাদের লোভ আর দুর্নীতির কারণেই দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। হুমকির মুখে আছে সবার জীবন। আহত-নিহত নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজখবর আপনি রাখেন নাই। যাকে ইচ্ছা তাকে দলে ঢুকিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির কারণে দল আজ বিপর্যস্ত, দিশেহারা।গত বছরের ৩০ মার্চ ছেলেসহ তাঁকে প্রথম দেখা যায় লন্ডনের গ্যাংসহিল এলাকার আল-কালাম মসজিদের ঈদের জামাতে। এরপর ওই বছরের ২০ এপৃল লন্ডনের ওটু এলাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের ছেলে ডা. সৈয়দ ফাইয়াজ রহমানের বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁকে অংশ নিতে দেখা যায়।শেখ হাসিনার সাক্ষাতেও অস্বস্তিবেলজিয়ামে থাকলেও হাছান মাহমুদ দু‘বার ভারতে গিয়ে অনেক চেষ্টার পর একবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন হাছান মাহমুদ। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় প্রধানের প্রশ্নবাণে ওই সাক্ষাৎ খুব স্বস্তিকর ছিল না।দলীয় একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি) ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন হাছান মাহমুদ। তবে ওই আয়োজনে দলের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে রাখা হয়। গণ আন্দোলনের মুখে বেলজিয়ামেগণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাছান মাহমুদ পালিয়ে যান বেলজিয়ামে। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদকে ঢাকার বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে বলে খবর বের হয়েছিল। এরপর তিনি সেনা হেফাজতে ছিলেন বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় জার্মানি হয়ে তিনি নিরাপদে বেলজিয়ামে পৌঁছান। এরপর থেকে তিনি বেলজিয়ামের লিমবুর্গ প্রদেশের হ্যাসেল্ট সিটিতে নিজের বাড়িতেই আছেন। এর আগে ওই সালের ৪ আগস্ট রাতে হাছান মাহমুদের স্ত্রী ও মেয়েরা বাংলাদেশ বিমানের ইকে-৫৮৬ নম্বর ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। তাঁদের গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। দুবাই, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বেলজিয়ামেও হাছান মাহমুদ বিপুল অংকের টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আওয়ামী লীগ বেচে কুঁড়েঘর থেকে রাজপ্রাসাদে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর হাছান মাহমুদের রাজনৈতিক ভাগ্য বদলাতে শুরু করে। পরে ২০০৯ সালের মহাজোট সরকারের প্রথম ছয় মাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং এরপর বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে জলবায়ু তহবিলের বিপুল অংকের টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সর্বশেষ তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।গত বছরের ১৬ জানুয়ারি হাছান মাহমুদ, তাঁর স্ত্রী নুরান ফাতেমা, মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদসহ তাঁদের ছয়টি কোম্পানির নামে থাকা মোট ৮১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। হাছান মাহমুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাইরে যে ছয়টি কোম্পানির ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়, সেগুলো হলো দ্য বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসেস লিমিটেড, একাডেমি অব মেরিন এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস, জেএএস লিমিটেড, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেড এবং অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সোলারস পাওয়ার লিমিটেড।ওই বছরের ২৩ জুন হাছান মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী নুরান ফাতেমার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে তার আগেই তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ওই বছরের ১৬ জুলাই হাছান মাহমুদের মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদের নামে চারটি এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ১২১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ঝুলছে একাধিক মামলাগত ৩০ জুন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাসহ অন্তত ৩০টি মামলা ঝুলছে। এছাড়া দখলবাজি, চাাঁদাবাজি, নির্যাতনসহ অারও ১০টি মামলার আসামি হাছান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদ-এরশাদ মাহমুদ প্রকাশ নব্য এরশাদ শিকদার।
২ মাস ৭ দিন আগে
এলপিজির পর দেশের জ্বালানি তেলের বাজারও কব্জায় নিয়ে চায় পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর বসুন্ধরা গ্রুপ। এ বিষয়ে দু‘দিন সময় দিয়ে বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর কাছে আবেদনের নাম হুকুম জারি করেন মাফিয়া শিল্প গ্রুপটির কর্ণধার সায়েম সোবহান আনভির। আর তাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রতিষ্ঠান বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন) বিপক্ষে মত দেওয়ায় বেজায় চটেছেন খোদ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী। একপর্যায়ে গত ২৬ জুলাই রাতে হঠাৎ করে বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে বিপিসির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।আর দায়িত্ব দেওয়ার পরপরই বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য কমিটি গঠন করে চারদিনের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এতে ধারণা করা হচ্ছে বসুন্ধরার কব্জায় যাচ্ছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজার। আর তাতে চটেছেন জ্বালানি সরবরাহ সংশ্লিষ্ট সবগুলো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় এলপিজি, চিনি, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ কিংবা লবণের বাজারে বিভিন্ন সময়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।তাদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা করলেও দেশে কখনো বড় ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। এমনকি গত মার্চে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ তা সামাল দিতে সক্ষম হয়। এর বিপরীতে এলপিজি খাতের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় সরবরাহ সংকটের অজুহাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ সীমিত থাকায় এখনো দেশের অনেক এলাকায় ভোক্তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।জ্বালানি খাতের একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বড় অংশ যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বাজারে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ জ্বালানি তেল দেশের পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতে সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব পড়বে প্রায় সব পণ্য ও সেবার দামে। একই মত দিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমানে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি বেসরকারি খাতে চলে গেলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভোক্তারা। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ভোক্তারাই নয়, সরকারও একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তার পরিবর্তে যদি রাষ্ট্র নিজের দায়িত্ব বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আনভীরের আবেদনে কি আছে? বেসরকারি জ্বালানি নীতিমালার আওতায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল আমদানি এবং বিপণনের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল)।গত ২৪ মে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে বিওজিসিএলকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি দেওয়া হোক। এ জন্য দু‘দিনের মতে চেয়েছেন আনভীর। যা একেবারে রাষ্ট্রীয় হুকুমের মতো। চিঠিতে বলা হয়, বসুন্ধরা অয়েল প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজস্ব রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে দেশে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয় দেশের জ্বালানির চাহিদা প্রতিবছর ২ থেকে ৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালে দেশের মোট জ্বালানির চাহিদা প্রায় ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে, যার প্রায় পুরোটা আমদানি নির্ভর হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ডিজেলের।বিপক্ষে মত দেওয়ায় হঠাৎ চেয়ারম্যান অপসারণ : বিপিসির তথ্য মতে, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বিওজিসিএল বছরে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল, ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং ৮ থেকে ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর।আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য বিপিসি ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এবং মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একাংশও তখন বিস্ময় ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, পরিশোধিত জ্বালানির বড় অংশ বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে গেলে ভবিষ্যতে বাজারে প্রভাব বিস্তার, কৃত্রিম সংকট কিংবা মূল্য নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে চটে গিয়ে গত ২৬ জুলাই রাতে হঠাৎ করে বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দেওয়া এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সরবরাহকারী তালিকাভুক্তির শর্টলিস্টে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত না করায় তিনি চাপের মুখে ছিলেন। পরে ২ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে বিপিসির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।এরপর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। চিঠিতে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে খসড়া নীতিমালা বিভাগে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নীতিমালার খসড়া তৈরির জন্য বিপিসিকে সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র চার দিন।শ্রমিক সংগঠনগুলোর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ : বিওজিসিএলের আবেদন পর্যালোচনায় বিপিসির কমিটি গঠন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিভিন্ন স্মারক ও নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ অয়েল এন্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতারা। এরপর চট্টগ্রাম মহানগরের যমুনা ভবনে বাংলাদেশ অয়েল এন্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের জরুরি সভায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, বিওজিসিএলের আবেদন অনুমোদনের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠনই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খাতকে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি করার ষড়যন্ত্র করা হলে ফেডারেশনের নেতৃত্বে কঠিন আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কায়ছার হামিদ বলেন, তেল চুরি ও সিস্টেম লস-সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি গঠিত কমিটির কার্যপরিধি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। তেল চুরি ও সিস্টেম লস বন্ধের পরিবর্তে বিপণন কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ওপর মনিটরিং ও জবাবদিহির নামে কোনো ধরনের হয়রানির চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।স্মারক ও নীতিমালা নিয়েও আপত্তি : ইস্টার্ন রিফাইনারী এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা বিভিন্ন স্মারকে বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, এক্স-গ্রেশিয়া ও ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এবং কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, এসব নির্দেশনা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন-৯৮ অনুযায়ী শ্রমিকদের যৌথ দর-কষাকষির অধিকারও ক্ষুণ্ন করছে। তিনি এসব শ্রমিকস্বার্থবিরোধী স্মারক অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।পদ্মা অয়েল কোম্পানি সিবিএর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিপিসি ও এর অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর জন্য জ্বালানি বিভাগ থেকে প্রান্তিক সুবিধা-সংক্রান্ত যে নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর পরিপন্থী। এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের কোনো এখতিয়ার জ্বালানি বিভাগের নেই। এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে কোম্পানিগুলোর সিবিএ তা মেনে নেবে না।ইস্টার্ন রিফাইনারী সিবিএর সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি বাস্তবায়নে নতুন করে কোনো জটিলতা সৃষ্টি করা হলে তা চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগের কারণ হবে। তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়গুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানে সরকার ও জ্বালানি বিভাগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।শ্রমিক সংগঠনের তাদের দাবি, বসুন্ধরা একটি মাফিয়া শিল্প গ্রুপ। পতিত ফ্যাসিস্টের দোসর। এই শিল্প গ্রুপ কোনোমতেই দেশের জন্য ভাল কিছু করতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকান্ডগুলো পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করলে ভয়ংকর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। দেশে আমদানি করা জ্বালানির চোর সিন্ডিকেট এই শিল্প গ্রুপই নিয়ন্ত্রণ করে। দেশের জ্বালানি বাজার এ শিল্প গ্রুপের হাতে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই খাত ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাবাধীন হয়ে পড়বে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভোক্তারা।
২ মাস ৮ দিন আগে