চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির চবি শাখার প্রথম কমিটিতে নেতৃত্বে আসছেন আব্দুল্লাহ আল মাহাতির ও মো. ইসমাইল।শনিবার (৯ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি। তিনি জানান, চবি শাখার প্রথম কমিটেতে সভাপতি পদে থাকছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহাতির এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকছেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল। সভাপতি পদে আসতে যাওয়া আব্দুল্লাহ আল মাহাতির বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রশক্তির অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। আনুষ্ঠানিক কমিটি হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গুছিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এ সপ্তাহের মধ্যেই ৫ কিংবা ৭ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি প্রথমবারের মতো চবি শাখা ছাত্রশক্তির সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন।এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা-এ সময় উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ’ বিলুপ্ত করে জাতীয় ছাত্রশক্তি গঠন করা হয়।
১ দিন আগে
গত ২৭ এপৃল জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক ঈশানের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত চট্টগ্রাম এলএ শাখার আলী আযম কি আরেক জাবেদ আলী?" শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছেন সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ এর এডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল আজিম. এলএল.বি.(অনার্স), এলএল,এম,(হাইকোর্ট ডিভিশন) ও জজ কোর্ট, চট্টগ্রাম। এনেক্স ভবন-১, রুম নং-৪২৬ (চতুর্থ তলা)।৫ মে পাঠানো প্রতিবাদ লিপিতে তিনি মক্কেল আলী আযমের পক্ষে সংবাদে প্রকাশিত সব তথ্য স¤পূর্ণরূপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও একতরফা বলে দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবাদ লিপিতে দাবি করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পূর্বে মক্কেল আলী আযমের নিকট হতে কোন বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি, কিংবা সত্যতা যাচাইয়েরও কোন যথাযথ চেষ্টা করা হয়নি। যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করায় মক্কেল আলী আযমের সামাজিক মর্যাদা, সুনাম ও ভাবমুর্তি মারাত্নকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এরূপ মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার হইতে বিরত থাকাসহ উক্ত প্রতিবেদন অতিঃস্বত্বর ফেসবুক হইতে চিরতরে অপসারণ করিবার জন্য আমার মক্কেলের পক্ষ হইতে অনুরোধ করা হইলো। একইসাথে প্রকৃত তথ্য সম্বলিত প্রতিবাদলিপিটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল "দৈনিক ঈশান’ নামীয় ফেসবুক পেইজে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন তিনি। অন্যথায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সহ দেশের প্রচলিত আইনানুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেন বিজ্ঞ আইনজীবী।প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রতিবাদ লিপি পড়ে মনে হয়েছে, বিজ্ঞ আইনজীবী সংবাদটি গুরুত্বসহকারে অনুধাবন না করে আলী আযমের প্রতি বিশেষ ইমোশন হয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঝেরেছেন। বিজ্ঞ আইনজীবী দাবি করেছেন, সংবাদটি প্রকাশের পূর্বে মক্কেল আলী আযমের নিকট হতে কোন বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি কিংবা সত্যতা যাচাইয়েরও কোন যথাযথ চেষ্টা করা হয়নি, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নীতিমালার পরিপন্থী। এক্ষেত্রে বিজ্ঞ আইনজীবী বুঝতে পারেননি, সংবাদে আলী আযমের বক্তব্য প্রচার আছে। বক্তব্যের রেকর্ড প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত আছে। আর সংবাদের তথ্য মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য সামির আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রমান্বয়ে বিষোদগার করে গেছেন বিজ্ঞ আইনজীবী। কিন্তু তিনি অনুধাবন করেননি, সংবাদের মূল বিষয়বস্তু সামির আলীর বিষয় নিয়ে নয়, আলী আযমের দূর্নীতির খতিয়ানের অংশ মাত্র। যা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও দুদক বরাবরে প্রতিবেশী সামির আলীর দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এখানে সামির আলী একজন ভুক্তভোগী মাত্র। আর আলী আযম বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। তার তথ্যচিত্রও সংরক্ষিত রয়েছে। অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত, আলী আযম চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করে অর্জন করেছেন অঢেল সম্পদ। যা স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের স্বজনদের নামে কিনে আড়াল করেছেন। এর মধ্যে স্ত্রীর নামে ড্যাফোডিল ভবনের মালিকানা ও জমি কেনার তথ্য প্রমাণ সংবাদে উল্লেখ আছে। রাঙামাটিতেও ভাইয়ের নামে কেনা বিপুল সম্পদের তথ্য মিলেছে ইতোমধ্যে। যা এখনো অপ্রকাশিত। আলী আযম সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখায় উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদায়ন হয়েছেন। কিন্তু বিজ্ঞ আইনজীবী বিষয়টি অনুধাবন না করে প্রলোভনের বশবর্তী হয়ে প্রতিবাদ লিপিতে দূর্বৃত্তের ভাষায় তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার হমকি দিয়েছেন। যা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য মারাত্নক হুমকি। সিনিয়র আইনজীবীরাও বিষয়টিকে হয়রানি হিসেবে দেখছেন। সর্বশেষ মেসেজ, আলী আযমের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুদকের একটি টিম। এতে থলের বেড়াল বের হবে নিশ্চয়ই। দৈনিক ঈশানের পক্ষ থেকে ঘোষণা, আলী আযমের উল্লেখিত সম্পদের প্রতিবেদনটি অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আলী আযমের প্রতি কোন রকম হিংসাত্নক মনোভাব ও লোভের বশবর্তী হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়নি। আলী আযমের সাথে প্রতিবেদকের কোন বিরোধও নেই। দায়িত্বশীল সংবাদিকতার অংশ হিসেবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
১ দিন আগে
শপথ গ্রহণ করলেন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, চট্টগ্রাম ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রামে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও বিনোদনমূলক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কে.সি.দে ইনস্টিটিউট (অফিসার্স ক্লাব) এর নির্বাচিত কমিটি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সম্মানিত সদস্য ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, চট্টগ্রামের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মো. গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া দুই অফিসে সিনিয়র জুনিয়র সদস্যবৃন্দ, সম্মানিত উপদেষ্টাবৃন্দ, সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্যগণ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২মে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কে.সি.দে ইনস্টিটিউট (অফিসার্স ক্লাব) এর ৩ বছর মেয়াদী নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুই অফিস থেকে নির্বাচিত ১৫ (পনেরো) জন সদস্যের মধ্যে ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী-সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদকসহ ১০টি স¤পাদকীয় পদ এবং ৫ জন নির্বাহী সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটাভোটির মাধ্যমে ক্লাবের কমিটি গঠন করা হয়। তবে এর মধ্যে ১ জন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় ১৪ সদস্য নিয়ে বর্তমান নির্বাহী পরিষদের কমিটি গঠিত হয়।কমিটির সভাপতি হন আলহাজ্ব মো. নাসির উদ্দির চৌধুরী, সহ-সভাপতি জনাব স্বদেশ শর্মা, সাধারণ স¤পাদক জনাব মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক উদয় শংকর সেন, সাংগঠনিক স¤পাদক সৈয়দ মো. এরশাদ আলম, সংস্কৃতি ও বিনোদন স¤পাদক মোহাম্মদ আলী, অর্থ স¤পাদক জনাব রিয়াজ উদ্দিন আহাম্মদ, ক্রীড়া স¤পাদক জনাব নিউটন বড়ুয়া, দপ্তর ও প্রচার স¤পাদক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সাহিত্য ও পাঠাগার স¤পাদক মো. আমির হোসেন, নির্বাহী সদস্য মো. আবুল হাশেম, নির্বাহী সদস্য মো. কামাল হোসেন, নির্বাহী সদস্য মো. খোরশেদ আলম, নির্বাহী সদস্য মো. আক্তার হোসেন। নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদক ক্লাবের সকল সদস্যগণকে শুভেচ্ছা ও অভিন্দন জানান এবং সকলের নিকট সহযোগিতা কামনা করেন। -তথ্য সূত্র- মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সাধারণ স¤পাদক, কে.সি.দে ইনস্টিটিউট (অফিসার্স ক্লাব), চট্টগ্রাম।
২ দিন আগে
মন্ত্রিসভার রদবদল ও আকার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণের চিন্তা চলছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কর্মদক্ষতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) একাধিক সূত্র জানায়, নতুন করে পাঁচ থেকে ছয়জনের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া দুজন নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।তবে ঠিক কবে নাগাদ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী বাজেট অধিবেশনের আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা বেশি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন মুখ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোশাররফ হোসেনকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।একই সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিসভায় নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি না থাকায়, ওই অঞ্চল থেকেও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।সরকারের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস হতে পারে। একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানোর পাশাপাশি একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কারণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাজের ধীরগতির বিষয়টি সম্প্রতি সরকারের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হতে পারে— এমন আলোচনাও চলছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র আরও জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও একজনকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে, তার বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি দায়িত্ব না পেলে সংরক্ষিত নারী আসনের অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে। এছাড়া, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে মুখ্য সচিব পদে নতুন নিয়োগ আসতে পারে। কয়েকজনের ফাইলও প্রস্তুত রয়েছে। তবে কবে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনিএই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মন্ত্রিসভার কয়েকজনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যুক্ত করে সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া, কিছু-কিছু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে, সেখানে রদবদল হতে পারে।’ কাউকে-কাউকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীও করা হতে পারে।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, তা দেশবাসীর কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি যে পরিবর্তন বা সম্প্রসারণ করবেন, সেটিও দেশ ও সরকারের স্বার্থ বিবেচনায় করেই করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ বা রদবদল নিয়ে আমি কিছু জানি না।’প্রসঙ্গত, বর্তমান মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।
২ দিন আগে
চলতি বছরের ২৬ শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় ইরানের সাথে আমেরিক ও ইসলাইলের যুদ্ধ।এর মধ্যে কয়েক দফা চেষ্টা করেও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে জাহাজটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে।ফলে জাহাজটির নাবিক, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় জীবন কাটাচ্ছেন। একইভাবে চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন নাবিক ও ক্রুদের পরিবারের স্বজনেরা। শুক্রবার (৮ মে) এমন তথ্য জানিয়েছেন বিএসসির নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। তিনি বলেন, হরমুজে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল বা অনুমোদন না দেয়া পর্যন্ত জাহাজটি ওখান থেকে বের হতে পারছে না। হরমুজ ছাড়া বিকল্প কোন পথও নেই বের হওয়ার। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি হরমুজে কিছু কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমিত দিলেও বাংলার জয়যাত্রার অনুমোদন মিলছে না। এর কারণ কি সেটাও বুঝতে পারছি না। হরমুজ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগে ইতোমধ্যে আইআরজিসি বরাবরে একাধিকবার অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম। ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতি শুরু হলে গত ৮ই এপৃল হরমুজ প্রণালি পার হতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। কিন্তু পার হতে পারেনি।জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান জানান, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির নৌবাহিনী কেউ যদি হরমুজ ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করা হবে বলে ক্রমাগত বার্তা প্রচার করছে। ফলে হরমুজে জাহাজ নিয়ে আসা নিরাপদ মনে হচ্ছে না। বিএসসির একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, বাংলার জয়যাত্রা বিএসসির হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য পরিবহণের কাজে ভাড়ায় নিয়োজিত। সম্ভবত এ কারণে বাংলার জয়যাত্রা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এর রোষানলে পড়েছে। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল রয়েছে। যা নিয়ে যাওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজটিকে বের করে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশ জাহাজটিকে যখন বের করে আনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখন আবার সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজের নাবিকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের ভাতা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জাহাজে পর্যাপ্ত পানি ও খাদ্য রয়েছে। নাবিকদের সাথে দেশে থাকা পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।প্রসঙ্গত, কাতারের একটি বন্দর থেকে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি প্রায় ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে গিয়েছিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পর গত এক মাস ধরে সংযুক্ত আরব আমীরাতের মিনা সাকারের অদূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছিল। গত সোমবার জাহাজটি অবস্থান পাল্টে শারজাহর কাছে কিছুটা নিরাপদে গিয়ে অবস্থান করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
২ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে চলছে নানা তামাশা। হাটগুলো ইজারা দেওয়ার চেয়ে খাস কালেকশনে আগ্রহী বেশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ার অজুহাতে নগরীর সবচেয়ে বড় দৃুটি স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন শুরু করেছে চসিক। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহায় আরও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে চট্টগ্রামে। যার তিনটি ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি তিনটি চাপা পড়েছে চসিকের নানা কারসাজিতে। টেন্ডার আহ্বান করা পশুর হাট তিনটিও শেষ পর্যন্ত ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ নগরীর হাট-বাজার সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের। ইজারাদাররা অভিযোগ করছেন, চসিকের রাজস্ব বিভাগসহ এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা পশুর হাট ইজারা নিয়ে নানা কারসাজির সাথে জড়িত। যার মাধ্যমে তারা পশুর হাটগুলো থেকে হাসিল আদায়ের টাকা লোপাটসহ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব হরণের সুযোগ পাচ্ছে।আগে নগরীর এই তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা থেকে চসিক প্রতি বছর অন্তত ১০-১২ কোটি টাকা রাজস্ব পেত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ক্রমেই ইজারার চেয়ে খাস কালেকশনে নেমেছে চসিক। যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম। এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি দেখিয়ে লুটপাট। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুর বিবির হাট বাজার ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ও পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার ১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছিল। আর সাগরিকা পশুর হাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন করেছিল চসিক। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালে সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু খাস কালেকশনে এই পশুরহাট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ কোটি টাকারও কম। এরপরও সাগরিকা পশুর হাটের সাথে এবার বিবিরহাট ও পোস্তার পাড় পশুর হাট থেকেও খাস কালেকশনে শুরু করেছে চসিক। সূত্র আরও জানায়, ইজারা না দিলেও খাস কালেকশনে পছন্দের ইজারাদার নিয়োগ দেয় চসিক। এই ইজারাদার মিলেমিশে পশুর হাট থেকে আদায় করা রাজস্ব নানা কারসাজি করে লুটপাট করে। ফলে সরকার প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে ইজারাদার, চসিকের রাজস্ব বিভাগ ও এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ায় নগরীর স্থায়ী পশুর হাটগুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করছে চসিক। তবে আসন্ন ঈদুল আজহার অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় স্থায়ী তিনটি ছাড়া এবার অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এক্ষেত্রে টেন্ডারগুলো কোথায় বা কোন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তারও কোন হদিস মিলছে না। এ সুবাধে তিনটি পশুর হাটও ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের দিকে চুক্তিতে যাচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে অনুমোদনের বাইরেও আরও ১৪টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসে। সেখান থেকে কোটি কোাটি টাকা হাসিল আদায় করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এই অর্থ সরকারি রাজস্ব কোষাগারে জমা হয় কিনা তার কোন ইয়ত্তা নেই। অননুমোদিত অবৈধ পশুর হাটগুলো হচ্ছে- বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, কাজীর হাট, কর্নেল হাট, ফইল্যাতলি বাজার, ফিরিঙ্গিবাজার, হাজি আব্দুল আলী আর্কেট (বেইজমেন্ট), দেওয়ান হাট (বেইজমেন্ট), বকশির হাট, পাহাড়তলী কাঁচাবাজার, আনন্দবাজার, বিবিরহাট কাঁচাবাজার, কমল মহাজন হাট, নয়াহাট এবং বেপারীপাড়া কাঁচাবাজার। অনুমোদিত পশুর হাটগুলো হলো নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এসব পশুর হাটের অনুমোদন দেয়। আসন্ন ঈদুল আজহার জন্য গত বৃহ¯পতিবার (৩০ এপৃল) বিশেষ শর্তে এই ছয়টি পশুরহাট বসানোর অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত স¤পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে।আর শর্তগুলো হচ্ছে- প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে।ইজারাদারদের শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, চসিকের স্থায়ী ও অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে কোরবানি উপলক্ষে যত্রতত্র পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। প্রতিবছর আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এ ধরনের অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করি। এবারও অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, অবৈধ পশুর হাটের কারণে শুধু যে চসিকের রাজস্ব বা ইজারাদার হাসিল আদায় থেকে বঞ্চিত হয় তা নয় একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, পেশি শক্তির প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, যানজট সৃষ্টি, পশুর গোবর পরিষ্কার না করা, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তাহীনতাসহ অনেক সমস্যা দেখা দেয়। বৈধ কোরবানির পশুর হাটে জাল বুথ শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ, গরু বাঁধার ছাউনি, পশুর গোবর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যা¤প ও টহল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থা দায়িত্ব পালন করে। অবৈধ হাটগুলোতে এসব থাকে না। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চসিক পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ভূমি হস্তান্তর কর, বিজ্ঞাপন কর, সপসাইন ফি, প্রমোদ কর, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন ফি, এস্টেটসহ বিবিধ খাতে মোট রাজস্ব আহরণ করেছিল ৩৯৭ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ২৬০ টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (৩০ এপৃল পর্যন্ত) চসিকের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮৪ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।
২ দিন আগে
‘এমটি নিনেমিয়া’ নামক একটি জাহাজে করে সৌদি আরব থেকে নিয়ে আসা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) লাইটারিং শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেল থেকে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করা এই জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে ফিরছে ছয়টি লাইটারিং জাহাজ। এর ফলে রাষ্ট্রয়াত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বৃহ¯পতিবার থেকে পুরোদমে জ্বালানি তেল উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।তিনি জানান, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ এমটি নিনেমিয়া বুধবার (৬ মে) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্যাংকারটি থেকে ক্রুড অয়েল লাইটারিং কাজ শুরু করা হয়। এ কাজের জন্য ছয়টি লাইটারেজ জাহাজ সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।তিনি জানান, এমটি নিনেমিয়া এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। জাহাজটি সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রামে আসার তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। মাহমুদুল মালেক আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের আগে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) চালান দেশে এসেছিল। ক্রুড অয়েলের অভাবে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠান ইর্স্টান রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) গত ১৪ এপ্রিল থেকে উৎপাদন র্কাযক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ক্রুড অয়েলের এই চালান আসায় ইআরএল আবার পুরোদমে উৎপাদনে যাবে।উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পিএলসি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং উড়োজাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে।
৪ দিন আগে
রাবিপ্রবির অশান্তির মুলে পিডি গফুর, ভিসি কার্যালয়ে তালা
৫ দিন আগে
এবার মানুষ নয়, কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ফেনীর তিন গরুও ভারতের ত্রিপুরায় চলে গেছে। ফেনীর পরশুরামের মীর্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর সীমান্ত দিয়ে গরুগুলো ত্রিপুরা চলে যায়। এতে গরুর মালিক নুরুন নেসা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গরুগুলো ফিরিয়ে আনতে বিজিবি যোগাযোগ করছে বিএসএফের সঙ্গে।ভুক্তভোগী নুরুন নেসা (৫৫) ফেনীর পরশুরামের মীর্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর গরু পালন ও দুধ বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দুইজন প্রতিবন্ধী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২ মে) নুরুন নেসার ছেলে নজরুল ইসলাম গরুগুলোকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যান আশ্রাফপুর বড় কবরস্থান এলাকায়। এক পর্যায়ে তিনটি গরু কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে চলে যায় ভারতের অভ্যন্তরে।গরুগুলো ত্রিপুরার রাজনগর থানার সামনে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক গরুগুলো সেখানে দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। গরুর মধ্যে রয়েছে দুটি গর্ভবতী গাভী এবং একটি বড় বাছুর।নুরুন নেসা পরশুরাম মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ফেনীস্থ ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানালেন, গরুগুলো ফেরত আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে বিষয়টির।
৬ দিন আগে
আসন্ন ঈদুল আজহায় চট্টগ্রামে প্রায় ৭৮ হাজারের মতো কোরবানির পশুর ঘাটতি রয়েছে। এরপরও আশার বাণী শুনালেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর ঘাটতি থাকবে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা গবাদিপশুতে পূরণ হবে ঘাটতি। সোমবার (৪ মে) এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর। তিনি বলেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়তি, মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা, সবকিছু মিলিয়ে গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণ কমেছে। মূল সমস্যা হচ্ছে গবাদি পশুর খাদ্যের দাম। যার খরচ যোগান দিতে না পেরে চট্টগ্রাম জেলায় ৩০০ খামার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।তবে আশার বাণী শুনিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামে গবাদি পশুর উৎপাদন কমলেও কোরবানিতে পশু সংকট হবে না। অন্যান্য জেলায় গবাদি পশুর উৎপাদন প্রচুর বেড়েছে। ওইসব এলাকা থেকে তো চট্টগ্রামে কোরবানির পশু আসবে। তাছাড়া এবার চট্টগ্রামে কোরবানির চাহিদাও কমেছে, ফলে সমস্যা হবে না।জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রতিবছর কোরবান উপলক্ষে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্টকৃত ও কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিস¤পদ দপ্তর। এ বছর তালিকা প্রস্তুত করা হয় গত ২১ এপৃল। সে তালিকায় দেখা গেছে, এ বছর চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলায় স্থানীয়ভাবে ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। যা গতবছর (২০২৫) ছিল ৮ লক্ষ ৬০ হাজার ৮৮২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে স্থানীয় উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে গবাদি পশুর উৎপাদন ছিল ৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৫০১টি। ওই হিসেবে এ বছরের স্থানীয় উৎপাদন এবারসহ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া ২০২৪ সালে ৮ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৫৯টি, ২০২৩ সালে ৮ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬৫টি, ২০২১ সালে ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি, ২০২০ সালে ৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ২২টি ও ২০১৯ সালে স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছিল ৬ লক্ষ ১০ হাজার ২১৯টি গবাদিপশু।এর মধ্যে এবার স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্টকৃত গরুর সংখ্যা ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ২৭৯টি। যা গতবছর ছিল ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮১৩টি। অর্থাৎ এক বছরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর সংখ্যা কমেছে ৩৬ হাজার ৫৩৪টি। এছাড়া এবছর স্থানীয়ভাবে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল হৃষ্ট করা হয়। যা গতবছর ছিল ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৪টি। এছাড়া এ বছর ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ হৃষ্টপুষ্ট করা হয়, যা গতবছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩টি। পাশাপাশি গতবছর ৫৫ হাজার ৬৯৭টি ভেড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হলেও এ বছর সংখ্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩-এ।জেলা প্রাণিস¤পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ি, এ বছর চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৭১টি গবাদিপশুর। ওই হিসেবে এবার স্থানীয় উৎপাদনের বিপরীতে ৩৫ হাজার ৫২০টি গবাদিপশুর ঘাটতি রয়েছে। গতবছর (২০২৫) চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার ৭৭ হাজার ৫৯৮টি কোরবানি পশুর চাহিদা কমেছে। এর আগে ২০২৪ সালে ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি ও ২০২৩ সালে ৮ লক্ষ ৭৯ হাজার ৭১৩টি কোরবানি পশুর চাহিদা ছিল চট্টগ্রামে।প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে কোরবানির পশুর উৎপাদন কমলেও আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবাানির গরুর সংকট হবে না চট্টগ্রামে। তাদের মতে, প্রতিবছরের মতো এবারও রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী ও তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারিরা চট্টগ্রামের পশুরহাটে গবাদিপশু নিয়ে আসবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামে গরুর চাহিদা পূরণ হয়ে আরো উদ্ধৃত্ত থাকবে।খামারিদের অভিযোগ, জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের বাইরের লোক। তাই তারা চট্টগ্রামে কোরবাানির পশুর উৎপাদন বাড়ুক সেটা চাই না। তারা ছলে-বলে কৌশলে চট্টগ্রামের বাইরে থেকে গবাদি পশু এনে ঘাটতি পুরণে ব্যস্ত। কারণ উত্তরবঙ্গের যে কোন জায়গার চেয়ে চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর দাম দ্বিগুণ। যা সম্পদ পাচারের শামিল। খামারিরা বলছেন, চট্টগ্রামে গো-খাদ্য ও বিভিন্ন ওষুধপত্রের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি খামারে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সবমিলিয়ে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে খরচ বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন খামারিরা। ফলে কমেছে স্থানীয় উৎপাদন। যার কোন তদারকি নেই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের। প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ স¤পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে গবাদি পশুর উৎপাদন কমার মূল কারণ হচ্ছে, এখানে অস্বাভাবিকভাবে গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। বিভিন্ন খাদ্যের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এক্ষেত্রে কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। বিষয়টি নিয়ে বহুবছর ধরে আমরা আমাদের এসোসিয়েশন থেকে সরকারকে বলে আসছি। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের যে খাদ্যপণ্য চালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বাজার মনিটরিং করা হয়, অভিযান চলিয়ে জরিমানা করা হয়। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু গো-খাদ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু হয় না। ফলে হঠাৎ করেই গো-খাদ্যের উৎপাদকরা দাম দেড়গুণ করে ফেলে। যেমন সয়াবিনের খৈল ২৬০০ টাকা থেকে ৩৩০০ টাকা করে ফেলেছে, এটা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, যেসব খামারির আয়ের অন্য কোনো সোর্স নেই, তারা গো-খাদ্যের দাম ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় এডজাস্ট করতে না পেরে খামারই বন্ধ করে দেন। এবার চট্টগ্রামে খামারিও কমেছে। যাদের বিকল্প আয় আছে তারা দাম বাড়লেও অপেক্ষা করেন। চট্টগ্রামে অনেকগুলো ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে।চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন এলাকার চৌধুরী এগ্রোর স্বত্ত্বাধিকারী মো রুবেল বলেন, শুধু গো-খাদ্য নয়, অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ওষুধের দামও বেড়েছে। যেমন কৃমির ওষুধ বেড়েছে ৬০-৭০ টাকা। আবার লোডশেডিং হলে জেনারেটর চালাতে হয়, তখন তেলের খরচ যোগ হয়। খামারের একজন শ্রমিকের পেছনে মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সবমিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা গরুর উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। রুবেল বলেন, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধিরও প্রভাব পড়েছে পশুর খামারে। এক্ষেত্রে তেলের মূল্যে বৃদ্ধির কারণে গো-খাদ্যের পরিবহন খরচ বেড়েছে। প্রতি বস্তা গো-খাদ্য পরিবহন খরচ বেড়েছে ২ টাকা।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের পাঁচটি শাখায় আমানতকারীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। হেয়ার কাট (মুনাফা কেটে রাখা) বাতিল ও লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে সোমবার (৪ মে ) সকালে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত পাঁচটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করেন আমানতকারীরা। কর্মসূচিতে কয়েকশ আমানতকারী অংশ নেন বলে জানান সিএমপির ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ব্যাংক গ্রাহকদের কর্মসূচি ছিল বিকেল ৩টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংক। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। আমানত ফিরে পেতে এর আগে খাতুনগঞ্জে চারটি শাখায় তালা দিয়েছিলেন আমানতকারীরা।পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল ১০টায় আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন আমানতকারীরা। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে অবস্থান নেন আমানতকারীরা।সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে বিক্ষোভ করছেন আমানতকারীরা। একপর্যায়ে সেখানে তালা দেন তাঁরা। এ সময় কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ভেতরে আটকা পড়েন। ব্যাংকের সামনে শতাধিক আমানতকারীকে আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।আমানতকারীদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমানো অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই আমানত ভাঙতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি ২০২৮ সালের আগে টাকা উত্তোলন সম্ভব নয় বলেও জানানো হচ্ছে।তাদের আরও অভিযোগ, হেয়ার কাট পদ্ধতির মাধ্যমে আমানতের মুনাফা বা মূলধনের একটি অংশ কেটে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এ কারণে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা দ্রুত আমানতের পুরো টাকা ফেরত, মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। আমানতকারীদের দাবি, হেয়ার কাট বা মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং তাদের জমাকৃত অর্থ স¤পূর্ণভাবে ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত চালু করা, আমানত উত্তোলনে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।বিক্ষোভের সময় কথা হয় কয়েকজন আমানতকারীর সাথে। সুলতানা নাসরিণ নামের এক আমানতকারী দৈনিক ঈশানকে বলেন, ভবিষ্যতের কথা ভেবে ব্যাংকে জমা রেখেছিলাম। এখন প্রয়োজনের সময় সেই টাকা তুলতে পারছি না। সামনে কোরবানির ঈদ, কিন্তু টাকা না পেলে কোরবানি কীভাবে দেব? কোরবানি দিতে পারব না, এটা ভাবতেই কষ্ট লাগছে। আমরা গ্রাহক হিসেবে এত ভোগান্তিতে আছি, অথচ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো দায়বদ্ধতাই যেন নেই।ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমীর হোসেন বলেন, আমরা কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রাখি বিশ্বাস করে। কিন্তু এখন সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে। কর্মকর্তারা এসির নিচে বসে বেতন নেয়, কিন্তু গ্রাহককে সম্মান দিতে পারে না। আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা আমাদের নিজের টাকাই তুলতে পারছি না। এর চেয়ে বড় দুর্ভোগ আর কী হতে পারে!ব্যবসার মুনাফার টাকা ছেলেমেয়েদের জন্য ব্যাংকে রেখেছিলেন ফয়সল আমিন। তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখি নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু এখন সেই ব্যাংকই আমাদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায় মন্দা, এখন ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।এর আগে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের হেয়ার কাট বাতিল ও লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে গত রবিবার সকালেও খাতুনগঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন আমানতকারীরা। পরে ব্যাংকটিসহ আরও তিন ব্যাংকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।বিক্ষোভরত আমানতকারীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সম্মতি ছাড়াই আমানতের ওপর মুনাফা কর্তন করা হচ্ছে। যা বিদ্যমান ব্যাংকিং নীতিমালা ও আইনের পরিপন্থী। তারা বলেন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পুরো টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানান তারা। গ্রাহকদের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানতের ওপর মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। নানা অজুহাতে ব্যাংকগুলো আমানত ফেরত না দেওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।এ বিষয়ে ব্যাংক দুটির শাখা ব্যবস্থাপককে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, হেয়ারকাট ছাড়া আমানত নবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে
রং-তুলির আছড়ে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর। ভবনটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুন:র্নির্মাণের পাশাপাশি পুরো স্থাপনাটিকে আবারো রঙের মাধ্যমে আগের মতো করে ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ না হওয়ায় জাদুঘরের অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পুরনো হয়ে মরিচা ধরেছে। ব্যবহার অযোগ্য হয়েছে কাঠের বাহ্যিক অংশ, লাইট, ফ্যান, কাপড়, শো-কেস ইত্যাদি। কিছু নতুন আসবাবপত্র যুক্ত হবে। এতে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে জাদুঘরটি। জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে। মন্ত্রণালয় থেকে একটি ‘উন্নয়ন কমিটি’ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধায়নেই চলছে জাদুঘরের সংস্কার কাজ।সংস্কার কাজে সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি মাসের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকী। তার আগেই সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ হলে এটি পুণরায় দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র মতে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এক ভূমিকম্পের প্রভাবে জাদুঘরের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় একজন দর্শনার্থীও আহত হন। এরপর থেকেই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জাদুঘরটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া স্থাপনাটিতে বিগত সরকারের আমলে বড় কোনো সংস্কার কার্যক্রমও হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ না হওয়ায় অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পুরনো হয়ে মরিচা ধরেছে। ব্যবহার অযোগ্য হয়েছে কাঠের বাহ্যিক অংশ, লাইট, ফ্যান, কাপড়, শো-কেস ইত্যাদি। যা সংস্কারের মাধ্যমে রং-তুলির আছড়ে আগের মতোই সবকিছু ফুটিয়ে তোলা হবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে নিবীড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার নাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘর। যার অবস্থান চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িতে। ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ভবনটি প্রথমে ‘লাট সাহেবের কুঠি’ এবং পরে সার্কিট হাউস হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে এটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ও টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদল পথভ্রষ্ট সেনাসদস্যের গুলিতে নিহত হওয়ার পর, তার স্মৃতি সংরক্ষণে এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।
৭ দিন আগে