আসন্ন ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এমনকি স্থায়ী তিনটি পশুর হাটেরও ইজারা হয়নি। সেখানে আদায় করা হচ্ছে খাস কালেকশন। ফলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব নয়ছয় হচ্ছে বরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের। ঠিকাদাররা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন (চসিক)এলাকায় স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে তিনটি। আর কোরবানির সময় আরও ৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপৃল) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ অনুমোদন দেন।অনুমোদিত পশুরহাট গুলো হলো— নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা।জেলা প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে। জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চসিকের তিনটি স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-সাগরিকা পশুর হাট, মুনাদপপুর বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের হাট। এসব হাট থেকে প্রতিবছর চসিকের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও হাটগুলো ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়, কিন্তু কাঙ্খিত দর না পাওয়ার অজুহাতে কারসাজি করে শেষ পর্যন্ত ইজারা ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে খাস কালেকশনের চুক্তি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, স্থায়ী পশুর হাট গুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় এই তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। বসালে অভিযান পরিচালনা করা হবে।উল্লেখ্য, চসিকের রাজস্ব আহরণের অন্যতম বড় খাত স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা। এর আগে সাগরিকা ও বিবিরহাটে ইজারাদার না পাওয়ায় খাস কালেকশন করছেন চসিক। তবে যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হয়। এর মুলে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা খরচ, অপচয়সহ নানা কারসাজি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
৩ দিন আগে
‘এমটি নিনেমিয়া’ নামক একটি জাহাজে করে সৌদি আরব থেকে নিয়ে আসা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) লাইটারিং শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেল থেকে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করা এই জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে ফিরছে ছয়টি লাইটারিং জাহাজ। এর ফলে রাষ্ট্রয়াত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বৃহ¯পতিবার থেকে পুরোদমে জ্বালানি তেল উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।তিনি জানান, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ এমটি নিনেমিয়া বুধবার (৬ মে) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্যাংকারটি থেকে ক্রুড অয়েল লাইটারিং কাজ শুরু করা হয়। এ কাজের জন্য ছয়টি লাইটারেজ জাহাজ সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।তিনি জানান, এমটি নিনেমিয়া এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। জাহাজটি সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রামে আসার তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। মাহমুদুল মালেক আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের আগে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) চালান দেশে এসেছিল। ক্রুড অয়েলের অভাবে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠান ইর্স্টান রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) গত ১৪ এপ্রিল থেকে উৎপাদন র্কাযক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ক্রুড অয়েলের এই চালান আসায় ইআরএল আবার পুরোদমে উৎপাদনে যাবে।উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পিএলসি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং উড়োজাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে।
৪ দিন আগে
রাবিপ্রবির অশান্তির মুলে পিডি গফুর, ভিসি কার্যালয়ে তালা
৫ দিন আগে
আসন্ন ঈদুল আজহায় চট্টগ্রামে প্রায় ৭৮ হাজারের মতো কোরবানির পশুর ঘাটতি রয়েছে। এরপরও আশার বাণী শুনালেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর ঘাটতি থাকবে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা গবাদিপশুতে পূরণ হবে ঘাটতি। সোমবার (৪ মে) এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর। তিনি বলেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়তি, মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা, সবকিছু মিলিয়ে গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণ কমেছে। মূল সমস্যা হচ্ছে গবাদি পশুর খাদ্যের দাম। যার খরচ যোগান দিতে না পেরে চট্টগ্রাম জেলায় ৩০০ খামার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।তবে আশার বাণী শুনিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামে গবাদি পশুর উৎপাদন কমলেও কোরবানিতে পশু সংকট হবে না। অন্যান্য জেলায় গবাদি পশুর উৎপাদন প্রচুর বেড়েছে। ওইসব এলাকা থেকে তো চট্টগ্রামে কোরবানির পশু আসবে। তাছাড়া এবার চট্টগ্রামে কোরবানির চাহিদাও কমেছে, ফলে সমস্যা হবে না।জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রতিবছর কোরবান উপলক্ষে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্টকৃত ও কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিস¤পদ দপ্তর। এ বছর তালিকা প্রস্তুত করা হয় গত ২১ এপৃল। সে তালিকায় দেখা গেছে, এ বছর চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলায় স্থানীয়ভাবে ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। যা গতবছর (২০২৫) ছিল ৮ লক্ষ ৬০ হাজার ৮৮২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে স্থানীয় উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে গবাদি পশুর উৎপাদন ছিল ৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৫০১টি। ওই হিসেবে এ বছরের স্থানীয় উৎপাদন এবারসহ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া ২০২৪ সালে ৮ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৫৯টি, ২০২৩ সালে ৮ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬৫টি, ২০২১ সালে ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি, ২০২০ সালে ৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ২২টি ও ২০১৯ সালে স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছিল ৬ লক্ষ ১০ হাজার ২১৯টি গবাদিপশু।এর মধ্যে এবার স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্টকৃত গরুর সংখ্যা ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ২৭৯টি। যা গতবছর ছিল ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮১৩টি। অর্থাৎ এক বছরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর সংখ্যা কমেছে ৩৬ হাজার ৫৩৪টি। এছাড়া এবছর স্থানীয়ভাবে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল হৃষ্ট করা হয়। যা গতবছর ছিল ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৪টি। এছাড়া এ বছর ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ হৃষ্টপুষ্ট করা হয়, যা গতবছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩টি। পাশাপাশি গতবছর ৫৫ হাজার ৬৯৭টি ভেড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হলেও এ বছর সংখ্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩-এ।জেলা প্রাণিস¤পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ি, এ বছর চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৭১টি গবাদিপশুর। ওই হিসেবে এবার স্থানীয় উৎপাদনের বিপরীতে ৩৫ হাজার ৫২০টি গবাদিপশুর ঘাটতি রয়েছে। গতবছর (২০২৫) চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার ৭৭ হাজার ৫৯৮টি কোরবানি পশুর চাহিদা কমেছে। এর আগে ২০২৪ সালে ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি ও ২০২৩ সালে ৮ লক্ষ ৭৯ হাজার ৭১৩টি কোরবানি পশুর চাহিদা ছিল চট্টগ্রামে।প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে কোরবানির পশুর উৎপাদন কমলেও আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবাানির গরুর সংকট হবে না চট্টগ্রামে। তাদের মতে, প্রতিবছরের মতো এবারও রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী ও তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারিরা চট্টগ্রামের পশুরহাটে গবাদিপশু নিয়ে আসবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামে গরুর চাহিদা পূরণ হয়ে আরো উদ্ধৃত্ত থাকবে।খামারিদের অভিযোগ, জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের বাইরের লোক। তাই তারা চট্টগ্রামে কোরবাানির পশুর উৎপাদন বাড়ুক সেটা চাই না। তারা ছলে-বলে কৌশলে চট্টগ্রামের বাইরে থেকে গবাদি পশু এনে ঘাটতি পুরণে ব্যস্ত। কারণ উত্তরবঙ্গের যে কোন জায়গার চেয়ে চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর দাম দ্বিগুণ। যা সম্পদ পাচারের শামিল। খামারিরা বলছেন, চট্টগ্রামে গো-খাদ্য ও বিভিন্ন ওষুধপত্রের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি খামারে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সবমিলিয়ে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে খরচ বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন খামারিরা। ফলে কমেছে স্থানীয় উৎপাদন। যার কোন তদারকি নেই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের। প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ স¤পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে গবাদি পশুর উৎপাদন কমার মূল কারণ হচ্ছে, এখানে অস্বাভাবিকভাবে গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। বিভিন্ন খাদ্যের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এক্ষেত্রে কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। বিষয়টি নিয়ে বহুবছর ধরে আমরা আমাদের এসোসিয়েশন থেকে সরকারকে বলে আসছি। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের যে খাদ্যপণ্য চালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বাজার মনিটরিং করা হয়, অভিযান চলিয়ে জরিমানা করা হয়। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু গো-খাদ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু হয় না। ফলে হঠাৎ করেই গো-খাদ্যের উৎপাদকরা দাম দেড়গুণ করে ফেলে। যেমন সয়াবিনের খৈল ২৬০০ টাকা থেকে ৩৩০০ টাকা করে ফেলেছে, এটা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, যেসব খামারির আয়ের অন্য কোনো সোর্স নেই, তারা গো-খাদ্যের দাম ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় এডজাস্ট করতে না পেরে খামারই বন্ধ করে দেন। এবার চট্টগ্রামে খামারিও কমেছে। যাদের বিকল্প আয় আছে তারা দাম বাড়লেও অপেক্ষা করেন। চট্টগ্রামে অনেকগুলো ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে।চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন এলাকার চৌধুরী এগ্রোর স্বত্ত্বাধিকারী মো রুবেল বলেন, শুধু গো-খাদ্য নয়, অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ওষুধের দামও বেড়েছে। যেমন কৃমির ওষুধ বেড়েছে ৬০-৭০ টাকা। আবার লোডশেডিং হলে জেনারেটর চালাতে হয়, তখন তেলের খরচ যোগ হয়। খামারের একজন শ্রমিকের পেছনে মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সবমিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা গরুর উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। রুবেল বলেন, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধিরও প্রভাব পড়েছে পশুর খামারে। এক্ষেত্রে তেলের মূল্যে বৃদ্ধির কারণে গো-খাদ্যের পরিবহন খরচ বেড়েছে। প্রতি বস্তা গো-খাদ্য পরিবহন খরচ বেড়েছে ২ টাকা।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের পাঁচটি শাখায় আমানতকারীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। হেয়ার কাট (মুনাফা কেটে রাখা) বাতিল ও লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে সোমবার (৪ মে ) সকালে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত পাঁচটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করেন আমানতকারীরা। কর্মসূচিতে কয়েকশ আমানতকারী অংশ নেন বলে জানান সিএমপির ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ব্যাংক গ্রাহকদের কর্মসূচি ছিল বিকেল ৩টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংক। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। আমানত ফিরে পেতে এর আগে খাতুনগঞ্জে চারটি শাখায় তালা দিয়েছিলেন আমানতকারীরা।পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল ১০টায় আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন আমানতকারীরা। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে অবস্থান নেন আমানতকারীরা।সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে বিক্ষোভ করছেন আমানতকারীরা। একপর্যায়ে সেখানে তালা দেন তাঁরা। এ সময় কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ভেতরে আটকা পড়েন। ব্যাংকের সামনে শতাধিক আমানতকারীকে আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।আমানতকারীদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমানো অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই আমানত ভাঙতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি ২০২৮ সালের আগে টাকা উত্তোলন সম্ভব নয় বলেও জানানো হচ্ছে।তাদের আরও অভিযোগ, হেয়ার কাট পদ্ধতির মাধ্যমে আমানতের মুনাফা বা মূলধনের একটি অংশ কেটে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এ কারণে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা দ্রুত আমানতের পুরো টাকা ফেরত, মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। আমানতকারীদের দাবি, হেয়ার কাট বা মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং তাদের জমাকৃত অর্থ স¤পূর্ণভাবে ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত চালু করা, আমানত উত্তোলনে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।বিক্ষোভের সময় কথা হয় কয়েকজন আমানতকারীর সাথে। সুলতানা নাসরিণ নামের এক আমানতকারী দৈনিক ঈশানকে বলেন, ভবিষ্যতের কথা ভেবে ব্যাংকে জমা রেখেছিলাম। এখন প্রয়োজনের সময় সেই টাকা তুলতে পারছি না। সামনে কোরবানির ঈদ, কিন্তু টাকা না পেলে কোরবানি কীভাবে দেব? কোরবানি দিতে পারব না, এটা ভাবতেই কষ্ট লাগছে। আমরা গ্রাহক হিসেবে এত ভোগান্তিতে আছি, অথচ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো দায়বদ্ধতাই যেন নেই।ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমীর হোসেন বলেন, আমরা কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রাখি বিশ্বাস করে। কিন্তু এখন সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে। কর্মকর্তারা এসির নিচে বসে বেতন নেয়, কিন্তু গ্রাহককে সম্মান দিতে পারে না। আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা আমাদের নিজের টাকাই তুলতে পারছি না। এর চেয়ে বড় দুর্ভোগ আর কী হতে পারে!ব্যবসার মুনাফার টাকা ছেলেমেয়েদের জন্য ব্যাংকে রেখেছিলেন ফয়সল আমিন। তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখি নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু এখন সেই ব্যাংকই আমাদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায় মন্দা, এখন ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।এর আগে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের হেয়ার কাট বাতিল ও লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে গত রবিবার সকালেও খাতুনগঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন আমানতকারীরা। পরে ব্যাংকটিসহ আরও তিন ব্যাংকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।বিক্ষোভরত আমানতকারীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সম্মতি ছাড়াই আমানতের ওপর মুনাফা কর্তন করা হচ্ছে। যা বিদ্যমান ব্যাংকিং নীতিমালা ও আইনের পরিপন্থী। তারা বলেন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পুরো টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানান তারা। গ্রাহকদের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানতের ওপর মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। নানা অজুহাতে ব্যাংকগুলো আমানত ফেরত না দেওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।এ বিষয়ে ব্যাংক দুটির শাখা ব্যবস্থাপককে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, হেয়ারকাট ছাড়া আমানত নবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কন্টেনারবাহী দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় যখন উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছিল আমদানিকারকদের মাঝে। ঠিক তখনই ভেতরে ভেতরে মহা আয়োজনে জাহাজ দুটিকে বন্দরের এনসিটি জেটিতে এনে ভেড়ালো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমন সক্ষমতা বন্দরের জন্য একেবারেই নতুন। আমদানিকারকদের ভাষ্য, বন্দরের এমন সক্ষমতা আছে তা বিশ্বাস করতে পারছিলনা কেউ। সময় তখন রবিবার দুপুর আড়াইটা। খবর ছড়িয়ে পড়ে বহির্নোঙর থেকে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত জ্হাাজ দুটি বন্দরের এনসিটি জেটিতে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে। জাহাজ দুুটির কন্টেনারভর্তি পণ্য খালাসে আর কোন অনিশ্চয়তা নেই। আর এই খবর নিশ্চিত হওয়ার পর হাসি ফুটে আমদানিকারদের। শুধু হাসি নয়, আমাদের বন্দরের এমন সক্ষমতা আছে, যা ভাবতে গর্ব লাগছে। বললেন ফোর জুয়েল ডিষ্ট্রিবিউডর কোম্পাানি লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আমিন শরীফ ও শাহজাহান শরীফ। তারা বলেন, বন্দরের এমন সক্ষমতার কথা আমাদের জানা ছিল না। এই সক্ষমতায় চট্টগ্রাম বন্দর অনন্য উচ্চতায় পৌছে যাবে বর্হিবিশ্বে¦, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে। রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যার দিকে এ বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহণ) এনামুল করিমের সাথে। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা ছিল জাহাজ দুটির। তার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ দুটি হলো বিদেশি জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় জাহাজ এইচআর তুরাগ। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে নোঙর করা ছিল। জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য গত শুক্রবার বিকেলে বহির্নোঙরে গিয়েছিলেন বন্দর পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। তবে কাছাকাছি পৌঁছে দুর্ঘটনার চিত্র দেখে তারা জাহাজ না এনে বন্দর ভবনে ফিরে আসেন। পরে ক্যাপ্টেন শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের মূল কাঠামোতে ক্ষতির প্রমাণ দেখেছি। সংঘর্ষে জাহাজ দুটির নিচের অংশে আঘাত লেগেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ফাটল বা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। আর জাহাজ দুটির সংঘর্ষের পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। জাহাজ দুটি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয় আমদানিকারকদের মাঝে। এই সংশয় দূর করতে এবং পণ্য খালাস বিলম্ব হলে চরম আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় জাহাজ দুটি বন্দরে ভেড়াতে ভেতরে ভেতরে মহা উদ্যোগ গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের তথ্য মতে, রবিবার সকাল ১১টায় বন্দর থেকে বহির্নোঙরে রওনা দেন চারজন ক্যাপ্টেনের রেতৃত্বে একটি টিম। সেখানে তারা একটি টাগবোট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে সকাল ১১টা ৪০মিনিটে মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং এইচ আর তুরাগ বন্দরের এনসিটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন কর্ণফুলী গ্রুপের জাহাজ হচ্ছে এইচ আর তুরাগ। সেটি চালাচ্ছিলেন, ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ কামরুল আলম ও মোহাম্মদ তানভীর রহমান। মায়েরস্ক চট্টগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং ক¤পানি মায়ের্সক লাইনের। চালাচ্ছিলেন বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আতাউল হাকিম সিদ্দিকী। তিনি জানান, ঝুঁকি এড়াতে বন্দরের নৌ বিভাগ বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রতি জাহাজেই আমরা দুজন পাইলট নিয়েছি। আমার সঙ্গে ছিলেন পাইলট আবুল খায়ের। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে জাহাজ জেটিতে নিরাপদে ভিড়েছে। এতে অন্তত ৪০ মিনিট বেশি সময় লেগেছে। বৈরি আবহাওয়া এবং উত্তাল সাগরের মধ্যে দেশের আমদানিকারকের স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ।ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ কামরুল আলম জানান, ১১টা ৬ মিনিটে বহির্নোঙর থেকে রওনা দিয় ১২টা ৫০ মিনিটেই আমরা জাহাজ জেটিতে নিরাপদে ভিড়াতে পেরেছি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা ধীরগতি যেমন ৬ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চালাতে হয়েছে।মায়েরস্ক চট্টগ্রাম জাহাজে ১৮৭৮ কন্টেইনার বক্স আমদানি পণ্যভর্তি আছে। আর এইচ আর তুরাগ আছে এক হাজার একক কন্টেইনার। দুটি জাহাজই আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার নামিয়ে জেটি ছাড়বে। কিন্তু রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করবে না। কারণ দুটি জাহাজই এখন সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার অনুমতি নেই।জাহাজ পরিচালনাকারীরা বলছেন, জাহাজ ডকইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে মেরামত করা হবে। তদন্ত কমিটির অনুমোদন, ক্ষতি নিরূপন এবং সমুদ্রপাড়ি দেয়ার অনুমতি সনদ পাওয়ার পরই জাহাজে রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করতে পারবে।বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, জাহাজ দুটি ভেড়ানোর আগে রবিবার সকাল ১১টা থেকেই বন্দরের প্রবেশপথ মোহনা থেকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পর্যন্ত নৌপথে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুটি জাহাজকে তিনটি করে টাগবোট পাহারা দেয়। আশপাশে বাড়তি টাগবোট রাখা হয় স্ট্যান্ডবাই। এ দুটি জাহাজ ভিড়বে তাই রবিবার সকালে বন্দরের নির্ধারিত শিডিউলের জাহাজগুলোর আগেভাগেই বার্থিং শেষ করা হয়। একই সময় সাধারণ জাহাজের চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্দর ভবনের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ভিটিএমএস থেকে ক্যামেরার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল তদারকি করেন বন্দর নৌ বিভাগের কর্মকর্তারা।এছাড়া বন্দরের নৌ বিভাগ, বার্থ অপারেটর ও শিপিংলাইনের প্রায় ৪০ জন অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হয়। নিকট অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরে এভাবে জাহাজ ভেড়ানোর নজীর নেই বললেই চলে। কারণ একসঙ্গে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও নেই।স্বাভাবিক সময়ে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিন্তু দুটি জাহাজই শুক্রবার সকালে বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগে পর¯পরের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল স্বাভাবিকভাবে দুটি জাহাজ জেটিতে আনা সম্ভব ছিল না। তাই বিশেষ বিবেচনায় অনুমতি নিয়ে জাহাজ দুটি ভেড়ানোর এ আয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম বলছেন, দুটি জাহাজেই অনেকগুলো আমদানি কন্টেইনার শুক্রবার থেকে আটকা পড়েছিল। বেশিদিন আটকে থাকায় আমদানিকারকের উদ্বেগ বাড়ছিল। আবার বহির্নোঙরে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে কন্টেইনার স্থানাস্তরের সুযোগ নেই। দুদিন আটকে থাকায় দেশের অর্থনীতির ক্ষতি বিবেচনায় আমরা বিশেষ বিবেচনায় জাহাজ দুটি জেটিতে আনার সিদ্ধান্ত নিই।গত শুক্রবার সকালে জাহাজ দুটি আমদানি কন্টেইনার নিয়ে বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে পর¯পর ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রবিবার সকাল পর্যন্ত জাহাজ দুটি সেখানেই ছিল। জাহাজ দুটিতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার আটকে পড়ে। যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছিলেন আমদানিকারকরা। এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী।
৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনারবাহী দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজ দুটির নিচের অংশে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। ফলে জাহাজ দুটি থেকে পণ্য খালাস নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন আমদানিকারকরা। রবিবার (৩ মে) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহণ) এনামুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা ছিল জাহাজ দুটির। তার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ দুটি হলো বিদেশি জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় জাহাজ এইচ আর তুরাগ। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে নোঙর করে আছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপদ চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এগুলোকে জেটিতে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার আটকে পড়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন আমদানিকারকরা। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী।এদিকে জাহাজ দুটির সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জাহাজ দুটি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।সূত্র আরও জানায়, জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য শুক্রবার বিকেলে বহির্নোঙরে গিয়েছিলেন বন্দর পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। তবে কাছাকাছি পৌঁছে দুর্ঘটনার চিত্র দেখে তারা আর জাহাজ না এনে বন্দর ভবনে ফিরে আসেন। পরে ক্যাপ্টেন শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের মূল কাঠামোতে ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। সংঘর্ষে জাহাজ দুটির নিচের অংশে আঘাত লেগেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ফাটল বা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, মায়েরস্ক চট্টগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়েরস্কর। এইচ আর তুরাগ হচ্ছে দেশি কো¤পানি আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর এইচ আর লাইনের। বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইনের জাহাজের সাথে দেশীয় জাহাজের এমন দুর্ঘটনা বন্দরের জন্য নতুন করে ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম নগরীর এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলি রোড শাখা থেকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থ আত্নসাতের মামলায় গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে সমপরিমাণ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার (৩ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন। দন্ডপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম সীতাকুন্ড থানাধীন ছলিমপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকার তানহা স্টিল নামে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক। আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদুকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকারম হোসেন। তিনি জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দন্ডবিধির ৪০৯ ধারায় গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুমকে পাঁচ বছর এবং ৪২০ ধারায় এক বছর কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। সূত্র জানায়, র্স্ক্যাপ জাহাজ ও কাঁচামাল আমদানির নামে ঋণ নিয়ে আত্নাসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মামলায় অপর আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।মামলার নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ তানহা স্টিলের নামে গিয়াস উদ্দিন কুসুম ১৮ হাজার ৫৯৯ টন ওজনের একটি র্স্ক্যাপ জাহাজ আদমানির জন্য এবি ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় ৬৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার একটি বৈদেশিক ঋণপত্র খোলেন। বৈদেশিক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করায় এবি ব্যাংককে ২৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ফোর্সড লোন দিতে হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর ৫ হাজার ৪০২ মেট্রিকটন লোহার প্লেট আমদানির জন্য ১৭ কোটি ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬০০ টাকার আরও একটি স্থানীয় ঋণপত্র খোলেন। সেই ঋণও তিনি পরিশোধ থেকে বিরত থাকেন। এ অবস্থায় এবি ব্যাংকের কর্মকর্তারা ২০১৪ সালের ১২ মার্চ কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যাংকের অজ্ঞাতে সব মালামাল গিয়াস উদ্দিন সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি দেশ ছেড়ে গেছেন বলেও ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানতে পারেন। এ অবস্থায় উভয় ঋণের বিপরীতে সুদসহ তার কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়ায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৫ টাকা।পরিদর্শনের পরদিন এবি ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক হাসান মাহমুদ নগরীর কোতোয়ালী থানায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে দন্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে গিয়াসের সঙ্গে ওই ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুন্নবীকেও আসামি করা হয়। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
৭ দিন আগে
দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো লিমিটেডের নতুন কারখানা নির্মাণের জন্য সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পাহাড় কেটে জমি ভরাট ও সমতল করার কাজ থামিয়ে দিলেন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা ইউএনও সুমাইয়া আক্তার।
৯ দিন আগে
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মাছ। বৃহ¯পতিবার রাত ও শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পশ্চিম গুজরা, নাপিতের ঘাট ও নয়াহাটসহ কয়েকটি স্থানে এই ডিম পাওয়া যায়। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাতের জোয়ারে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে। এ অবস্থায় ডিম সংগ্রহে প্রস্তুত রয়েছেন প্রায় ৩৫০ সংগ্রহকারী। তারা বালতি, গামলা, ডিঙি নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। এ বছর ডিমের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলেরাও বড় আহরণের আশায় আছেন বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরীয়া উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বল্প পরিমাণে ডিম ছাড়ে মা-মাছ। যাকে নমুনা ডিম বলা হয়। সাধারণত বজ্রবৃষ্টি এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূল সময়ে মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। তিনি আশা করেন, রাতের মধ্যে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে।ডিম সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস শফিউল আলম ও মো. হোসেনসহ একাধিক ডিম সংগ্রহকারী নমুনা ডিম ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হালদা নদীর আজিমেরঘাট, কুমার স্কুল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।তারা বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ ডিম সংগ্রহকারী যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছেন। তারাও আশা করছেন এ জোয়ার কিংবা রাতে পুরোদমে ডিম ছেড়ে দিতে পারে কার্প জাতীয় মা মাছ। বড় সংগ্রহের আশায় রয়েছেন জেলেরা সবাই। এদিকে হালদা নদীর হাটহাজারী অংশে মদুনাঘাট হ্যাচারি, শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া রয়েছে। পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়াঘোনাতে ২৬টি এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ এবং মাটির কুয়াসহ রয়েছে। প্রত্যেক হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান হালদা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে তিনটি হ্যাচারিতে তদারকির জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের জেলা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবার এ মৌসুমে যথাসময়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল আর উজানের পানি নেমে আসায় ডিম ছাড়ার পরিবেশ খুবই ভালো। যেহেতু সকাল থেকে কিছু কিছু জায়গায় ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনা ডিম পেয়েছেন, আশা করা যাচ্ছে রাতের মধ্যে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ির পাহাড় থেকে নেমে আসা হালদা নদীর ফটিকছড়ি এলাকায় একটি রাবার ড্যাম থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তামাক চাষ, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে দূষণও বাড়ছে। নদী ব্যবস্থাপনায় যথাযথ উদ্যোগের অভাবের অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও হালদার মা মাছ টিকে আছে এবং প্রতিবছর প্রজনন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।প্রসঙ্গত, গত মৌসুমে মে মাসের ২৯ তারিখ হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়লেও এবার এপৃল ও মে মাসের তৃতীয় জোয়ারে পুরোদমে মা মাছ ডিম ছেড়ে দেবে। গত মৌসুমে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়। যা থেকে ২৯৮ কেজি রেনু উৎপন্ন হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেনুর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৬ কেজি। হালদায় সংগৃহীত ডিমের প্রতিকেজি রেণুর দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রী হয়।
৯ দিন আগে
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা প্রক্রিয়া শেষে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুরু হয়েছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়েই কেন্দ্রটিতে ধাপে ধাপে শুরু হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ উৎপাদন। নানা প্রক্রিয়ার মধ্যে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ। এই অগ্রগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দেশের জ্বালানি খাতে।বিশেষজ্ঞদের মতে,পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর রি-অ্যাক্টর। এখানেই লোড হবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ বা নিউক্লিয়াস বিভাজন প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় প্রচুর তাপশক্তি। এই তাপশক্তি দিয়ে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানো হয়, যা থেকে উৎপন্ন হয় বিদ্যুৎ। এটি চলে একটি স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রি-অ্যাকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।রি-অ্যাক্টরের ডিজাইন অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রি-অ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে। যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করে এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ করা হয় প্রতিটি ধাপ। জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ।এই পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রি-অ্যাকশন ঘটানো হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য লাগবে প্রায় ৩৪ দিন। পরীক্ষা শেষে রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ৩%, ৫%, ১০%, ২০%, ৩০% উন্নীত করা হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৪০ দিন। রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে শুরু হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ।পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে নিরাপত্তাবিষয়ক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস। দুটি ইউনিট মিলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এখন প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং হবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে দেশের শিল্প, কৃষি ও নগরজীবনে নতুন গতি আসবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। সুযোগ আছে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত আয়ু বাড়ানোর। কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার কোনো ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।নির্মাণচুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। অর্থাৎ এই সময়ে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এরপর বাংলাদেশকে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। তবে সেই জ্বালানি দুই বছর পর পর পরিবর্তন করলেই চলবে। পারমাণবিক বিদ্যুতের বড় সুবিধা এর জ্বালানি দক্ষতা বেশি। একটি এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা প্রয়োজন। সেখানে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লাগে প্রতি বছর মাত্র ২৭ টন।একই সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে বছরে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সমপরিমাণ। শুধু বড়পুকুরিয়া বাদে বাকি সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল।অন্যদিকে দেশে গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যান্য খাতেও রয়েছে গ্যাস স্বল্পতা। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক বাস্তবতায় এটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিবেচিত। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হওয়ায় এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বছরে ২০ মিলিয়ন টন এবং গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় ৮ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করবে। রূপপুরে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কাজ করবে।দেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রাথমিক ধারণা আসে ষাটের দশকে। ১৯৬২ সালে সম্ভাব্য ১২টি স্থান মূল্যায়নের পর পাবনার রূপপুর উপযুক্ত স্থান নির্বাচিত হয়। ১৯৭৭ সালে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘সফরাটম’ কর্তৃক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে আটকে যায় প্রকল্পটি। তবে এ উদ্যোগ বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির ভিত্তি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ১৯৮১ সালে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৮৬ সালে ঢাকার সাভারে ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার গবেষণা রি-অ্যাক্টর চালু করে। ১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক শক্তিকে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তিসই হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু সংস্থা রসাটমের মধ্যে সই হয় আরেকটি চুক্তি। ওই চুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন, কমিশনিং, পরীক্ষামূলক পরিচালনা, জনবলের প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত।
১২ দিন আগে