হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা-মাছ

নিউজটি পড়েছেন: 1873
125
হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা-মাছ
হালদা নদী থেকে মা-মাছের ডিম আহরণ করছেন জেলেরা। -ছবি-দৈনিক ঈশান
ফলো করুনFacebookWhatsAppMessengerYoutube
Google News Follow
Dainik Ishanঈশান প্রতিবেদক১ মে, ২০২৬, ১২:৪৬ PM

সারসংক্ষেপ

  • বড় আহরণের আশায় জেলেরা

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মাছ। বৃহ¯পতিবার রাত ও শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পশ্চিম গুজরা, নাপিতের ঘাট ও নয়াহাটসহ কয়েকটি স্থানে এই ডিম পাওয়া যায়।

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাতের জোয়ারে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে। এ অবস্থায় ডিম সংগ্রহে প্রস্তুত রয়েছেন প্রায় ৩৫০ সংগ্রহকারী। তারা বালতি, গামলা, ডিঙি নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। এ বছর ডিমের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলেরাও বড় আহরণের আশায় আছেন বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।

হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরীয়া উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বল্প পরিমাণে ডিম ছাড়ে মা-মাছ। যাকে নমুনা ডিম বলা হয়। সাধারণত বজ্রবৃষ্টি এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূল সময়ে মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। তিনি আশা করেন, রাতের মধ্যে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে।

ডিম সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস শফিউল আলম ও মো. হোসেনসহ একাধিক ডিম সংগ্রহকারী নমুনা ডিম ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হালদা নদীর আজিমেরঘাট, কুমার স্কুল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।

তারা বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ ডিম সংগ্রহকারী যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছেন। তারাও আশা করছেন এ জোয়ার কিংবা রাতে পুরোদমে ডিম ছেড়ে দিতে পারে কার্প জাতীয় মা মাছ। বড় সংগ্রহের আশায় রয়েছেন জেলেরা সবাই।

এদিকে হালদা নদীর হাটহাজারী অংশে মদুনাঘাট হ্যাচারি, শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া রয়েছে।

পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়াঘোনাতে ২৬টি এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ এবং মাটির কুয়াসহ রয়েছে। প্রত্যেক হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান হালদা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে তিনটি হ্যাচারিতে তদারকির জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের জেলা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবার এ মৌসুমে যথাসময়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল আর উজানের পানি নেমে আসায় ডিম ছাড়ার পরিবেশ খুবই ভালো। যেহেতু সকাল থেকে কিছু কিছু জায়গায় ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনা ডিম পেয়েছেন, আশা করা যাচ্ছে রাতের মধ্যে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।

সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ির পাহাড় থেকে নেমে আসা হালদা নদীর ফটিকছড়ি এলাকায় একটি রাবার ড্যাম থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তামাক চাষ, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে দূষণও বাড়ছে। নদী ব্যবস্থাপনায় যথাযথ উদ্যোগের অভাবের অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও হালদার মা মাছ টিকে আছে এবং প্রতিবছর প্রজনন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

প্রসঙ্গত, গত মৌসুমে মে মাসের ২৯ তারিখ হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়লেও এবার এপৃল ও মে মাসের তৃতীয় জোয়ারে পুরোদমে মা মাছ ডিম ছেড়ে দেবে। গত মৌসুমে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়। যা থেকে ২৯৮ কেজি রেনু উৎপন্ন হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেনুর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৬ কেজি। হালদায় সংগৃহীত ডিমের প্রতিকেজি রেণুর দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রী হয়।

ঈশান/প্রবি/সুম

মন্তব্য করুন