প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

নিউজটি পড়েছেন: 2759
113
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য
ফলো করুনFacebookWhatsAppMessengerYoutube
Google News Follow
Dainik Ishanঈশান প্রতিবেদক৯ মে, ২০২৬, ৭:০৮ AM

গত ২৭ এপৃল জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক ঈশানের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত চট্টগ্রাম এলএ শাখার আলী আযম কি আরেক জাবেদ আলী?" শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছেন সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ এর এডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল আজিম. এলএল.বি.(অনার্স), এলএল,এম,(হাইকোর্ট ডিভিশন) ও জজ কোর্ট, চট্টগ্রাম। এনেক্স ভবন-১, রুম নং-৪২৬ (চতুর্থ তলা)।

৫ মে পাঠানো প্রতিবাদ লিপিতে তিনি মক্কেল আলী আযমের পক্ষে সংবাদে প্রকাশিত সব তথ্য স¤পূর্ণরূপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও একতরফা বলে দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবাদ লিপিতে দাবি করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পূর্বে মক্কেল আলী আযমের নিকট হতে কোন বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি, কিংবা সত্যতা যাচাইয়েরও কোন যথাযথ চেষ্টা করা হয়নি। যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করায় মক্কেল আলী আযমের সামাজিক মর্যাদা, সুনাম ও ভাবমুর্তি মারাত্নকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে।

ভবিষ্যতে এরূপ মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার হইতে বিরত থাকাসহ উক্ত প্রতিবেদন অতিঃস্বত্বর ফেসবুক হইতে চিরতরে অপসারণ করিবার জন্য আমার মক্কেলের পক্ষ হইতে অনুরোধ করা হইলো। একইসাথে প্রকৃত তথ্য সম্বলিত প্রতিবাদলিপিটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল "দৈনিক ঈশান’ নামীয় ফেসবুক পেইজে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন তিনি। অন্যথায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সহ দেশের প্রচলিত আইনানুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেন বিজ্ঞ আইনজীবী।

প্রতিবেদকের বক্তব্য :

প্রতিবাদ লিপি পড়ে মনে হয়েছে, বিজ্ঞ আইনজীবী সংবাদটি গুরুত্বসহকারে অনুধাবন না করে আলী আযমের প্রতি বিশেষ ইমোশন হয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঝেরেছেন। বিজ্ঞ আইনজীবী দাবি করেছেন, সংবাদটি প্রকাশের পূর্বে মক্কেল আলী আযমের নিকট হতে কোন বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি কিংবা সত্যতা যাচাইয়েরও কোন যথাযথ চেষ্টা করা হয়নি, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নীতিমালার পরিপন্থী। এক্ষেত্রে বিজ্ঞ আইনজীবী বুঝতে পারেননি, সংবাদে আলী আযমের বক্তব্য প্রচার আছে। বক্তব্যের রেকর্ড প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত আছে।

আর সংবাদের তথ্য মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য সামির আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রমান্বয়ে বিষোদগার করে গেছেন বিজ্ঞ আইনজীবী। কিন্তু তিনি অনুধাবন করেননি, সংবাদের মূল বিষয়বস্তু সামির আলীর বিষয় নিয়ে নয়, আলী আযমের দূর্নীতির খতিয়ানের অংশ মাত্র। যা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও দুদক বরাবরে প্রতিবেশী সামির আলীর দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এখানে সামির আলী একজন ভুক্তভোগী মাত্র। আর আলী আযম বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। তার তথ্যচিত্রও সংরক্ষিত রয়েছে।

অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত, আলী আযম চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করে অর্জন করেছেন অঢেল সম্পদ। যা স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের স্বজনদের নামে কিনে আড়াল করেছেন। এর মধ্যে স্ত্রীর নামে ড্যাফোডিল ভবনের মালিকানা ও জমি কেনার তথ্য প্রমাণ সংবাদে উল্লেখ আছে। রাঙামাটিতেও ভাইয়ের নামে কেনা বিপুল সম্পদের তথ্য মিলেছে ইতোমধ্যে। যা এখনো অপ্রকাশিত। আলী আযম সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখায় উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদায়ন হয়েছেন।

কিন্তু বিজ্ঞ আইনজীবী বিষয়টি অনুধাবন না করে প্রলোভনের বশবর্তী হয়ে প্রতিবাদ লিপিতে দূর্বৃত্তের ভাষায় তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার হমকি দিয়েছেন। যা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য মারাত্নক হুমকি। সিনিয়র আইনজীবীরাও বিষয়টিকে হয়রানি হিসেবে দেখছেন। সর্বশেষ মেসেজ, আলী আযমের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুদকের একটি টিম। এতে থলের বেড়াল বের হবে নিশ্চয়ই।

দৈনিক ঈশানের পক্ষ থেকে ঘোষণা, আলী আযমের উল্লেখিত সম্পদের প্রতিবেদনটি অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আলী আযমের প্রতি কোন রকম হিংসাত্নক মনোভাব ও লোভের বশবর্তী হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়নি। আলী আযমের সাথে প্রতিবেদকের কোন বিরোধও নেই। দায়িত্বশীল সংবাদিকতার অংশ হিসেবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

ঈশান/প্রবি/মখ

মন্তব্য করুন