ইরানের রোষানলে বিএসসির জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা

  • কয়েক দফা চেষ্টা করেও পার হতে পারেনি হরমুজ প্রণালি
  • উৎকণ্ঠায় নাবিক ও পরিবারের স্বজনরা
নিউজটি পড়েছেন: 1193
36
ইরানের রোষানলে বিএসসির জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা
বিএসসির জাহাজ এশভি বাংলার জয়যাত্রা, -ফাইল ছবি
ফলো করুনFacebookWhatsAppMessengerYoutube
Google News Follow
Dainik Ishanঈশান প্রতিবেদক৮ মে, ২০২৬, ১১:২৩ AM

চলতি বছরের ২৬ শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় ইরানের সাথে আমেরিক ও ইসলাইলের যুদ্ধ।

এর মধ্যে কয়েক দফা চেষ্টা করেও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে জাহাজটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে।

ফলে জাহাজটির নাবিক, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় জীবন কাটাচ্ছেন।

একইভাবে চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন নাবিক ও ক্রুদের পরিবারের স্বজনেরা। শুক্রবার (৮ মে) এমন তথ্য জানিয়েছেন বিএসসির নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। তিনি বলেন, হরমুজে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল বা অনুমোদন না দেয়া পর্যন্ত জাহাজটি ওখান থেকে বের হতে পারছে না। হরমুজ ছাড়া বিকল্প কোন পথও নেই বের হওয়ার।

তিনি বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি হরমুজে কিছু কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমিত দিলেও বাংলার জয়যাত্রার অনুমোদন মিলছে না। এর কারণ কি সেটাও বুঝতে পারছি না। হরমুজ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগে ইতোমধ্যে আইআরজিসি বরাবরে একাধিকবার অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম।

ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতি শুরু হলে গত ৮ই এপৃল হরমুজ প্রণালি পার হতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। কিন্তু পার হতে পারেনি।

জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান জানান, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির নৌবাহিনী কেউ যদি হরমুজ ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করা হবে বলে ক্রমাগত বার্তা প্রচার করছে। ফলে হরমুজে জাহাজ নিয়ে আসা নিরাপদ মনে হচ্ছে না।

বিএসসির একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, বাংলার জয়যাত্রা বিএসসির হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য পরিবহণের কাজে ভাড়ায় নিয়োজিত। সম্ভবত এ কারণে বাংলার জয়যাত্রা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এর রোষানলে পড়েছে। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল রয়েছে। যা নিয়ে যাওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজটিকে বের করে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশ জাহাজটিকে যখন বের করে আনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখন আবার সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজের নাবিকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের ভাতা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জাহাজে পর্যাপ্ত পানি ও খাদ্য রয়েছে। নাবিকদের সাথে দেশে থাকা পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কাতারের একটি বন্দর থেকে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি প্রায় ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে গিয়েছিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পর গত এক মাস ধরে সংযুক্ত আরব আমীরাতের মিনা সাকারের অদূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছিল। গত সোমবার জাহাজটি অবস্থান পাল্টে শারজাহর কাছে কিছুটা নিরাপদে গিয়ে অবস্থান করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ঈশান/প্রবি/সুম

মন্তব্য করুন