চসিকের কোরবানির পশুর হাট নয়টি, টেন্ডার আহ্বান তিনটির!

নিউজটি পড়েছেন: 2173
243
চসিকের কোরবানির পশুর হাট নয়টি, টেন্ডার আহ্বান তিনটির!
চট্টগ্রামের সাগরিকা পশুর হাট, -ফাইল ছবি
ফলো করুনFacebookWhatsAppMessengerYoutube
Google News Follow
Dainik Ishanঈশান প্রতিবেদক৭ মে, ২০২৬, ৬:৪৬ PM

সারসংক্ষেপ

  • সাগরিকা ও বিবিরহাটে আদায় হচ্ছে খাস কালেকশন!
  • হাসিল চুরিসহ নানা কারসাজির অভিযোগ

আসন্ন ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এমনকি স্থায়ী তিনটি পশুর হাটেরও ইজারা হয়নি। সেখানে আদায় করা হচ্ছে খাস কালেকশন। ফলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব নয়ছয় হচ্ছে বরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের।

ঠিকাদাররা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন (চসিক)এলাকায় স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে তিনটি। আর কোরবানির সময় আরও ৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপৃল) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ অনুমোদন দেন।

অনুমোদিত পশুরহাট গুলো হলো— নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা।

জেলা প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে।

জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চসিকের তিনটি স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-সাগরিকা পশুর হাট, মুনাদপপুর বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের হাট। এসব হাট থেকে প্রতিবছর চসিকের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও হাটগুলো ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়, কিন্তু কাঙ্খিত দর না পাওয়ার অজুহাতে কারসাজি করে শেষ পর্যন্ত ইজারা ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে খাস কালেকশনের চুক্তি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, স্থায়ী পশুর হাট গুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় এই তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। বসালে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য, চসিকের রাজস্ব আহরণের অন্যতম বড় খাত স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা। এর আগে সাগরিকা ও বিবিরহাটে ইজারাদার না পাওয়ায় খাস কালেকশন করছেন চসিক। তবে যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হয়। এর মুলে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা খরচ, অপচয়সহ নানা কারসাজি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

ঈশান/প্রবি/মসু

মন্তব্য করুন