চট্টগ্রামে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বিরল মশাবাহিত ভাইরাস

নিউজটি পড়েছেন: 1294
154
চট্টগ্রামে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বিরল মশাবাহিত ভাইরাস
সিভাসু শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি, ছবি-সংগৃহীত
ফলো করুনFacebookWhatsAppMessengerYoutube
Google News Follow
Dainik Ishanঈশান প্রতিবেদক৮ মে, ২০২৬, ১১:৩৪ AM

সারসংক্ষেপ

  • প্রাণ হারিয়েছেন সিভাসুর শিক্ষক জুথির
  • চরম উদ্ব্নিগ্ন চিকিৎসকরা

চট্টগ্রামে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বিরল মশাবাহিত ভাইরাস। এ ভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। ফলে এ ভাইরাস নিয়ে চরম উদ্ব্নিগ্ন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা জানান, সিভাসুর শিক্ষক জুথি জাপানিজ এনসেফালাইটিস নামক এক মারাত্নক ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। জাপানিজ এনসেফালাইটিসের সকল উপসর্গ ছিল তাঁর। এর মধ্যে তাঁর মাল্টিপল স্ট্রোক হয়েছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথির আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। শুক্রবার (৮ মে) প্রেরিত শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিশ^বিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও বিজ্ঞানীকে হারালো। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।

পারিবারিক ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিকিৎসক সূত্র জানায়, গত ৪ মে সামান্য জ্বর অনুভব করেন ড. জুথি। সেই সঙ্গে ছিল প্রচন্ড মাথাব্যথা ও বমি। প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ ফ্লু মনে হলেও দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে ৫ মে তাঁকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে এইচডিইউতে রাখা হয় পরবর্তীতে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

এরমধ্যেই মেডিকেল বোর্ড বসে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা স¤পন্ন করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ মে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে এই ভাইরাস তাঁর মস্তিষ্কে মারাÍত্নক প্রভাব ফেলে। হাসপাতালে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টারমধ্যেই ওই শিক্ষকের মাল্টিপল স্ট্রোক হয়। সময়ও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকরা আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান।

এদিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীকে যখন মেট্রোপলিটন হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করা হয়, তখন তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। পথিমধ্যে তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং তাঁকে প্রায় ৫-৬ সাইকেল সিপিআর দিতে হয়েছিল।

হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, রোগী যখন আমাদের ইউনিটে পৌঁছান, তখন তিনি ক্লিনিক্যালি ব্রেইন ডেড ছিলেন। আইসিইউ সাপোর্টে রাখার পরও তাঁকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক উপসর্গ ও ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন দেখে আমাদের সন্দেহ এটি জাপানিজ এনসেফালাইটিস।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, জাপানিজ এনসেফালাইটিস মূলত কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কে আঘাত করে। ড. জুথির ক্ষেত্রেও এই ভাইরাসের আক্রমণে ব্রেন স্ট্রোক হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রোগে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি এবং যারা বেঁচে থাকেন, তাদের অনেকেরই স্থায়ী স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। জুথির মৃত্যুর খবরে সিভাসুসহ চট্টগ্রাামের সচেতন মহলের মাঝে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

সিভাসুর শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, জুথি ম্যাডাম কি চট্টগ্রামেই জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, নাকি দেশের বাইরে থেকে, সেটা এখনো কেউ নিশ্চিত নই। এ কারণে চট্টগ্রামে মশা দেখলে এখন ভয় জাগছে মনে। অথচ চট্টগ্রামে মশা এখন কিলবিল করছে। রাত-দিন সমানতালে মশার বামড়ে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের মানুষ।

সূত্র জানায়, ড. জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-০৮ সেশনের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক শেষ করে দেশে ফেরেন।

এ বছরের শুরুতেই তিনি সিভাসুর প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি সিভাসুর ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর স্বামী বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্নব। তাদের ৫ বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।

ঈশান/প্রবি/মম

মন্তব্য করুন