চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে এর প্রতিবাদে ঘৃণা মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বাধার অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগপন্থি সাধারণ আইনজীবী ফোরাম থেকে সভাপতি প্রার্থী সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবী সমিতি ভবনে বার লাইব্রেরিতে মনোনয়ন ফরম নিতে যান আওয়ামী লীগপন্থী একদল আইনজীবী। তারা এবার সাধারণ আইনজীবী ফোরাম নামে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন ফরম তুলতে আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ভেতর থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আমাদের বাধা দিয়েছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক চেষ্টা করেও সাধারণ আইনজীবী ফোরামের কেউ ফরম সংগ্রহ করতে পারেননিফরম না পেয়ে সাধারণ আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা ভোট চোর, ভোট চোর, তুমি কে আমি কে, আইনজীবী আইনজীবী, ভোট চোরের গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে, ভুয়া ভুয়া ¯ে¬াগান দিতে থাকেন। তখন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে গেলে উভয়পক্ষে উত্তেজনা ও হট্টগোল হয়। পরে তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে আদালত প্রাঙ্গনে ঘৃণা মিছিল করেন বলে জানান আবদুর রশিদ। অভিযোগের বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়া অ্যাডভোকেট রওশন আরা জানিয়েছেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারাই মনোনয়ন ফরম নিতে গেছেন, সবাইকে দেওয়া হয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর অনুষ্ঠিত জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগপন্থীদের অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ উঠেছিল। শেষপর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।
৬ দিন আগে
ঢাকা: চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ১৭ জনকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থায় তাদের আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার (৩ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অপর সদস্য ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও জহিরুল আমিন। তারা আদালতকে জানান, এ মামলায় মোট আসামি ২২ জন। এর মধ্যে চারজন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া একজন অন্য মামলায় আটক থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ১৭ জন পলাতক আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অন্য এক আসামির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।এদিন সকালে কারাগার থেকে চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ।পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর বাবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসরারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।এর আগে, গত ৭ এপৃল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপৃল প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানাসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
৭ দিন আগে

চট্টগ্রামের রাউজানে তিন দিনের ব্যবধানে আবারও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই বিএনপি কর্মীর নাম নাছির উদ্দীন (৫৫)।রোববার দিবাগত রাতে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শমশের পাড়ায় লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই হামলার শিকার হন তিনি। সোমবার (২৭ এপৃল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশের ধারণা, মাটি ও পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাছিরকে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউজান থেকে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি পেটে বিদ্ধ হওয়ায় তার অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।পুলিশ আরও জানায়, নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিতর্কিত কর্মকান্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকমাস আগে নাছিরকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। সেইবার আশঙ্কাজনক হাসপাতালে ভর্তির পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় মাটিকাটা, পাহাড় কাটা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাছির উদ্দীনের সঙ্গে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার পেছনে সেই বিরোধের জের থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নাছির উদ্দীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত দুদু মিয়া (প্রকাশ দুইধ্যা মধু)। একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাছির। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। নাছির বিএনপি নেতা ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, নাছির উদ্দিন যুবদলের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করছি। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কদলপুর ইউনিয়ন বিএনপির হাফেজ আবুল হাসেম এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।এর আগে ২৫ এপৃল শনিবার ভোরে রাউজান পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় কাউসারুজ্জামান (৩৬) নামে বিএনপির এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পেশায় তিনি একজন কৃষক ছিলেন। নিহতের পরিবারের দাবি, গত দুই বছরে কাউসারুজ্জামানের ওপর একাধিকবার হামলা হয়। এলাকায় অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে রাউজান। রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে উপজেলাটিতে একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনা চলছেই। এ সময়ে রাউজানে অন্তত দেড় ডজনেরও বেশি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হত্যাকান্ড রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। বাকিগুলো ঘটেছে পারিবারিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখলকে কেন্দ্র ধরে।
১৩ দিন আগে
নির্বাচনী মাঠ সরগরম, প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
৩০ দিন আগেআন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের শক্তিশালী করছে বাংলাদেশ।
৩০ দিন আগেরাজনীতি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। বিশেষ প্রতিবেদন পর্যায়ের এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
৩২ দিন আগেরাজনীতি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। আপডেট পর্যায়ের এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
৩২ দিন আগে