তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

  • তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত
তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
তনু হত্যা মামলা
18px
Dainik Ishanঈশান/প্রবি২২ এপৃল, ২০২৬, ৩:১৪ PM

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো একজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার। তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২২ এপৃল) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। এর আগে হাফিজুর রহমানকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৬ এপৃল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন—তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক জাহাঙ্গীর ওরফে জাহিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত এতে অনুমতি দেন। ২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল।

আদালত সূত্র জানায়, আলোচিত এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি শুনানির তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। গত এক দশকে চারটি সংস্থার সাতজন কর্মকর্তা মামলার তদন্ত করেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্দেহভাজন তিনজনই বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন। তবে তনু হত্যার পর তারা কবে অবসরে গেছেন বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাস এলাকার একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় তনুকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করলেও কোনো রহস্য উদঘাটন হয়নি। পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বুধবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে থাকা অবস্থায় বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের হত্যার বিচার চাইবো। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অনেক হত্যার বিচার হলেও আমার মেয়ের হত্যার বিচার কেন হচ্ছে না। গত ১০ বছর ধরে বিচার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো। এ জীবন রেখে কী লাভ।

ঈশান/প্রবি

মন্তব্য করুন