চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের শূরা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে নগর শাখার সদস্যদের মতামত বিবেচনায় এনে তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
বুধবার (২২ এপৃল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি বলেন, সোমবার মহানগরীর দায়িত্বশীলদের সভা ছিল। সেখানে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী হিসেবে শামসুজ্জামান হেলালীর নাম ঘোষণা করেন।
সে হিসেবে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি দলের পক্ষে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কাউন্সিলর পদের প্রার্থীর জন্য মহানগর কমিটি কাজ করছে। সেটি পরে ঘোষণা করা হবে।
মহানগর আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শামসুজ্জামান হেলালী এর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শুলকবহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকেও জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের কাছে পরাজিত হন তিনি।
এদিকে চসিক নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান বলেন, “দল যখন যাকে মনোনীত করবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি আমরা। তবে বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে চসিক মেয়রের পদ ফিরে পাওয়ার পর বিএনপির অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল রয়েছে।
মেয়র পদে আলোচনায় আছেন ব্যবসায়ী নেতা ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমও। তিনি এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ব্যানারে নির্বাচনে আসতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। সম্প্রতি এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে মনজুর আলমের সাক্ষাৎ এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনও জানিয়েছেন, সাবেক এই মেয়রকে তাদের প্রার্থী করার প্রক্রিয়া চলছে।